ব্রিকসে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব নিয়ে ধোঁয়াশা, তারেকের সফর নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা
আসন্ন ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অংশ নেবেন কি না, কিংবা তিনি অংশ না নিলে বাংলাদেশের হয়ে অন্য কোনো প্রতিনিধি সম্মেলনে যোগ দেবেন…
যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া শিশুদের পাসপোর্টের আবেদন প্রক্রিয়ায় নতুন শর্ত যুক্ত করার প্রস্তাব দিয়েছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর। প্রস্তাব অনুযায়ী, সন্তানের পাসপোর্টের আবেদনের সঙ্গে মা-বাবার নাগরিকত্ব বা বৈধ অভিবাসন-অবস্থার প্রমাণ জমা দিতে হবে। জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের সুযোগ সীমিত করতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের নেওয়া ধারাবাহিক পদক্ষেপের অংশ হিসেবে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বার্তা সংস্থার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে তথাকথিত ‘বার্থ ট্যুরিজম’ বন্ধে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জারি করা নির্বাহী আদেশ বাস্তবায়নের অংশ হিসেবেই পাসপোর্টের আবেদন যাচাইয়ের প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন আনা হচ্ছে।
নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া কোনো শিশুর পাসপোর্টের আবেদন করলে সংশ্লিষ্ট শিশুটি নতুন নির্বাহী আদেশের আওতায় নাগরিকত্ব পাওয়ার যোগ্য কি না, তা যাচাই করা হবে। এজন্য আবেদনপত্রের সঙ্গে মা-বাবার নাগরিকত্ব অথবা যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে বসবাসের প্রমাণ জমা দিতে হবে।
এ ক্ষেত্রে মা-বাবাকে বৈধ মার্কিন পাসপোর্ট, জন্মসনদ অথবা অভিবাসন-অবস্থার প্রমাণ হিসেবে আই-৯৪ ফরম কিংবা বৈধ স্থায়ী বসবাসের কার্ড, অর্থাৎ গ্রিন কার্ড জমা দিতে হতে পারে।
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া শিশুর পাসপোর্টের আবেদনে সাধারণত শিশু ও মা-বাবার সম্পর্কের প্রমাণ এবং ছবিযুক্ত পরিচয়পত্র দেখানো হয়। নাগরিকত্ব বা অভিবাসন-অবস্থার আলাদা নথি জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা নেই।
এর আগে ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি নির্বাহী আদেশে বলা হয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া শিশুর অন্তত একজন মা বা বাবা মার্কিন নাগরিক অথবা গ্রিন কার্ডধারী হলে শিশুটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে নাগরিকত্ব পাওয়ার যোগ্য হবে। তবে আদালতে ওই আদেশ চ্যালেঞ্জ করা হলে মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের ৬-৩ সংখ্যাগরিষ্ঠ রায়ে তা অবৈধ ঘোষণা করা হয়। আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, এই নীতি যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের ১৪তম সংশোধনীর নাগরিকত্বসংক্রান্ত বিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
পরবর্তীতে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন ‘বার্থ ট্যুরিজম’ ঠেকানোর লক্ষ্যে আরও সীমিত পরিসরে নতুন আদেশ জারি করে। এতে নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া শিশুদের নাগরিকত্ব না দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
এর মধ্যে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে কর্মরত বিদেশি কূটনীতিক বা সরকারি কর্মকর্তাদের সন্তান এবং নাগরিকত্ব পাওয়ার উদ্দেশ্যে প্রতারণা বা বাণিজ্যিক ব্যবস্থার সঙ্গে জড়িত মা-বাবার সন্তান। ‘শত্রু বিদেশি’ হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ ব্যক্তিদের সন্তানদের ক্ষেত্রেও এই বিধান প্রযোজ্য হতে পারে।
ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন নির্বাহী আদেশ কার্যকর ঠেকাতে ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের দুটি পৃথক ফেডারেল আদালতে শ্রেণিভিত্তিক মামলা হয়েছে। সম্প্রতি মেরিল্যান্ডের গ্রিনবেল্টে এক মামলার শুনানিতে ফেডারেল বিচারক ডেবোরাহ বোর্ডম্যান ট্রাম্পের নতুন আদেশকে ‘নজিরবিহীন’ বলে মন্তব্য করেন এবং এটি স্থগিতের বিষয়টি পুনর্বিবেচনার ইঙ্গিত দেন।
ফলে যুক্তরাষ্ট্রে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব এবং এর প্রমাণ যাচাই নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে বিভিন্ন পক্ষের আইনি বিরোধ আরও জোরালো হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
সুত্রঃ রয়টার্স
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au