মৃত্যুর ২০ বছর পর প্রকাশ্যে স্টিভ আরউইনের আবেগঘন শেষ বার্তা
মৃত্যুর ২০ বছর পর প্রকাশ্যে এসেছে অস্ট্রেলিয়ার জনপ্রিয় ‘ক্রোকোডাইল হান্টার’ স্টিভ আরউইনের তাঁর দলের উদ্দেশে দেওয়া শেষ আবেগঘন বার্তা। কুমির নিয়ে গবেষণার শেষ অভিযানে যাওয়ার…
রংপুরে গত ১৯ আগস্ট একই পরিবারের চার সদস্য হত্যাকাণ্ডের তদন্ত নিয়ে একের পর এক প্রশ্ন উঠছে। বিশেষ করে হত্যাকাণ্ডের আগে ও পরে পুলিশের ঊর্ধ্বতন দুই কর্মকর্তার ভূমিকা, তাঁদের কাছে পরিবারটির নিরাপত্তা-সংক্রান্ত কোনো তথ্য ছিল কি না এবং থাকলে তাঁরা কী ব্যবস্থা নিয়েছিলেন, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে নতুন প্রশ্ন।
রংপুরের মাছুয়াপাড়া এলাকার বাড়ি থেকে গণপতি চক্রবর্তী, তাঁর স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী, মেয়ে আগামী চক্রবর্তী ও ছেলে প্রিয়ম চক্রবর্তীর মরদেহ উদ্ধারের পর থেকেই হত্যাকাণ্ডের রহস্য ঘনীভূত হয়েছে। পুলিশের তদন্তে দুই সন্দেহভাজনকে আটক এবং ইয়াবা সেবনকে হত্যাকাণ্ডের সম্ভাব্য কারণ হিসেবে সামনে আনার পরও পুরো ঘটনার সঙ্গে তা কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
মূল প্রশ্ন এখন শুধু কে এই চারজনকে হত্যা করেছে, তা নয়। হত্যাকাণ্ডের আগে পরিবারটি কোনো হুমকি, হয়রানি, বিরোধ বা চাপের মধ্যে ছিল কি না, সে বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কেউ অবগত ছিলেন কি না এবং কোনো সতর্কতা বা প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল কি না, সেটিও তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে।
হত্যাকাণ্ডের আগে কী জানত পুলিশ?
নর্থইস্ট নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গণপতি চক্রবর্তী পরিবারের মেয়ে আগামী চক্রবর্তী হয়রানি ও হুমকির অভিযোগ করেছিলেন। এ ঘটনায় কয়েকজনের নামও সামনে আসে। তাঁদের মধ্যে মেরিল সুমন, পারভেজ, পাভেল, মোমিন মিয়া ও আবু হুমায়রা রয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

রংপুরে একটি ধর্মীয় সংখ্যালঘু পরিবারের চার সদস্যকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনা নতুন করে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। ছবিঃ সংগৃহীত
স্থানীয় জামায়াত নেতা মাহবুবুর রহমানের ছেলে আশফাক সিফাতের বিরুদ্ধেও আগামীকে হয়রানিতে উসকানি দেওয়ার অভিযোগের কথা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। তবে পুলিশের পক্ষ থেকে এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।
কয়েকমাস আগে আগামী তার বন্ধু প্রথা মণ্ডলের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছিলেন এবং নিজের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের কারণে পুলিশের কাছে যাওয়ার কথাও ভাবছিলেন বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
এখানেই তদন্তের একটি গুরুত্বপূর্ণ সূত্র সামনে আসে। পরিবারটির সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়টি এখন নতুন করে খতিয়ে দেখার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে।
প্রিয়মের ব্যক্তিগত গৃহশিক্ষক এবং পরিবারের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত ইভা রহমানও আগামীর হয়রানির বিষয়টি সমাধানের উদ্যোগে যুক্ত হয়েছিলেন বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। ইভা রহমান ও প্রীতিলতা চক্রবর্তী গোয়েন্দা কর্মকর্তা সনাতন চক্রবর্তীর সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন বলে উল্লেখ রয়েছে। পরে বিষয়টি পুলিশ কমিশনার আবদুল মাবুদের কাছেও পৌঁছেছিল বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
যদি এই যোগাযোগগুলোর প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে হত্যাকাণ্ডের আগে পরিবারের উদ্বেগ ও নিরাপত্তা-সংক্রান্ত তথ্য পুলিশের কোন পর্যায় পর্যন্ত পৌঁছেছিল, সেটি তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হতে পারে।
কোন কর্মকর্তার কাছে কী তথ্য ছিল?
এই পর্যায়ে তদন্তকারীদের সামনে কয়েকটি প্রশ্ন রয়েছে। আগামীর অভিযোগ কে পেয়েছিলেন? পরিবারের পক্ষ থেকে কার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছিল? ইভা রহমান কাদের সঙ্গে কথা বলেছিলেন? এসব কথোপকথনে কী তথ্য দেওয়া হয়েছিল? পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে কোনো ঝুঁকি মূল্যায়ন করা হয়েছিল কি না? কোনো কর্মকর্তা বা ইউনিটকে সতর্ক করা হয়েছিল কি না? এসব বিষয়ে সরকারি কোনো নথি তৈরি হয়েছিল কি না?
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো, হত্যাকাণ্ডের আগে পুলিশের কোনো পর্যায়ে কি জানা ছিল যে চক্রবর্তী পরিবারটি ঝুঁকিতে রয়েছে?
প্রতিবেদনে রংপুরে দায়িত্ব পালনকারী একজন উপমহাপরিদর্শক এবং একজন উপপুলিশ কমিশনারের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। তবে কোনো কর্মকর্তার সঙ্গে পরিবারের যোগাযোগ থাকা বা কোনো বিষয়ে জড়িত থাকার অভিযোগ নিজে থেকেই অপরাধের প্রমাণ নয়। তাঁদের বিরুদ্ধে কোনো অনিয়মের অভিযোগ থাকলে তা নথি, কল রেকর্ড, বার্তা, সাক্ষ্য ও অন্যান্য প্রমাণের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট উপমহাপরিদর্শক ২৩ এপ্রিল রংপুরে নতুন দায়িত্বে যোগ দিয়েছিলেন। আগস্টের দ্বিতীয় সপ্তাহে তাঁর বদলির আদেশ হয় এবং ২৭ আগস্ট তিনি দায়িত্ব থেকে সরে যান। ফলে হত্যাকাণ্ডের তদন্তে তিনি সরাসরি দায়িত্বে না থাকলেও তাঁর আগের দায়িত্বকাল এবং তদন্তের প্রাথমিক পর্যায়ে তাঁর কোনো ভূমিকা ছিল কি না, সেটি যাচাইয়ের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
রংপুরের কিছু সরকারি সূত্রের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে, এই দুই কর্মকর্তা প্রকৃত অপরাধীদের বিরুদ্ধে পুলিশি ব্যবস্থা বিলম্বিত করতে তদন্তের গতিপথ প্রভাবিত করার চেষ্টা করেছেন। তবে এ অভিযোগের পক্ষে স্বাধীন ও নির্ভরযোগ্য প্রমাণ প্রতিবেদনে উপস্থাপন করা হয়নি। ফলে বিষয়টি তদন্তসাপেক্ষ।

পুলিশের দাবি ডাকাতি, স্বজনরা বলছেন বাড়ি করার সময় চাঁদা চেয়েছিল।ছবিঃ সংগৃহীত
তদন্তের বয়ান নিয়েও প্রশ্ন
চার সদস্যের হত্যাকাণ্ডের তদন্তে পুলিশের উপস্থাপিত ঘটনাক্রম নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। হত্যার সময় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার ঘটনা নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন ব্যাখ্যার কথা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। অপরাধস্থলে আলামত সংরক্ষণ ও ফরেনসিক প্রমাণ সংগ্রহ নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।
এমনকি ঘটনাস্থলে থাকা পানির কারণে গুরুত্বপূর্ণ আলামত নষ্ট বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকতে পারে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
একটি পরিবারের চার সদস্য হত্যার ঘটনায় এসব বিষয়কে ছোটখাটো অসঙ্গতি হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। কারণ ঘটনাস্থলের আলামত, মৃতদেহের অবস্থান, বিদ্যুৎ সংযোগের সময়, ফোন ও ইন্টারনেট ব্যবহার, রক্তের দাগ, আঙুলের ছাপ, জীবাণু ও অন্যান্য ফরেনসিক তথ্য মিলিয়েই হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত সময় ও ঘটনার ধারাবাহিকতা নির্ধারণ করা সম্ভব।
অর্থনৈতিক বিরোধ, রাজনৈতিক চাপ নাকি ব্যক্তিগত দ্বন্দ্ব?
হত্যাকাণ্ডের সম্ভাব্য কারণ নিয়েও একাধিক বিষয় সামনে এসেছে।
প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ি নির্মাণকে কেন্দ্র করে টাকা দাবির ঘটনা ঘটেছিল। এ ঘটনায় স্থানীয় বিএনপির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কয়েকজনের নামও অভিযোগের সূত্রে এসেছে। রংপুর মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক শামসুজ্জামান সামুর সঙ্গে রাজনৈতিক চাপের অভিযোগের কথাও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
অন্যদিকে ধীমান ঠাকুর ও তাঁর ছেলে প্রণ ভট্টাচার্য পরণের বিরুদ্ধেও বাড়ি নির্মাণকে কেন্দ্র করে টাকা দাবির অভিযোগের কথা বলা হয়েছে। প্রণ আগামীকে বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছিলেন এবং সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করার বিষয়টিও ব্যক্তিগত বিরোধের সম্ভাব্য একটি সূত্র হিসেবে প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
তবে এসব অভিযোগের কোনোটিই এককভাবে হত্যাকাণ্ডের কারণ প্রমাণ করে না। কিন্তু একাধিক সম্ভাব্য বিরোধ, হুমকি ও চাপের অভিযোগ থাকলে সেগুলো তদন্ত থেকে বাদ দেওয়ার পরিবর্তে প্রত্যেকটির সত্যতা যাচাই করা প্রয়োজন।
তদন্ত কেন ইয়াবা তত্ত্বে গেল?
চার হত্যাকাণ্ডের পর পুলিশ সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধা দাসকে আটক করে। তাঁদের ইয়াবা সেবনের বিষয়টি হত্যাকাণ্ডের সম্ভাব্য ব্যাখ্যা হিসেবে সামনে আসে।
কিন্তু প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, তাঁদের মাদক পরীক্ষার ফল নেগেটিভ এসেছে। যদি এই তথ্য সঠিক হয়ে থাকে, তাহলে ইয়াবা সেবনের সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের যোগসূত্র কীভাবে প্রতিষ্ঠা করা হচ্ছে, সেটি স্পষ্ট করা প্রয়োজন।
মাদক পরীক্ষার নেগেটিভ ফলাফল অবশ্যই কাউকে নির্দোষ প্রমাণ করে না। একইভাবে কোনো ব্যক্তির মাদক গ্রহণের অভিযোগও তাঁকে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত করার যথেষ্ট প্রমাণ নয়। এ ক্ষেত্রে ময়নাতদন্ত, বিষতত্ত্ব পরীক্ষা, ফরেনসিক আলামত, মোবাইল ফোনের তথ্য, যোগাযোগের ইতিহাস এবং ঘটনাস্থলের অন্যান্য প্রমাণ একসঙ্গে বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন।
পুলিশের তত্ত্ব সত্য হলে ডিজিটাল ও ফরেনসিক প্রমাণের সঙ্গে তার সামঞ্জস্য থাকার কথা। আর যদি গুরুত্বপূর্ণ কোনো প্রমাণ সেই তত্ত্বের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হয়, তাহলে তার ব্যাখ্যাও তদন্তে থাকা জরুরি।

রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ পরিবারের চারজনকে হত্যার খবরে স্বজনদের আহাজারি। ছবিঃ সংগৃহীত
আগামীর শেষ যোগাযোগও হতে পারে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র
হত্যাকাণ্ডের সময় নির্ধারণে আগামী চক্রবর্তীর ভোররাতের মেসেঞ্জার যোগাযোগ, ফোনকলের তথ্য, আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ, মোবাইল ফোনের অবস্থানসংক্রান্ত তথ্য, ডিএনএ, আঙুলের ছাপ এবং ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
কে কখন পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন, কার ফোন কোথায় ছিল, হত্যাকাণ্ডের আগে বা পরে কারা ঘটনাস্থলের আশপাশে ছিলেন এবং পরিবারের সদস্যদের শেষ যোগাযোগ কার সঙ্গে হয়েছিল, এসব তথ্য একত্র করলে ঘটনার একটি নির্ভরযোগ্য সময়রেখা তৈরি করা সম্ভব।
ইভা রহমান কোথায়?
তদন্তের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ইভা রহমানকে ঘিরে। হত্যাকাণ্ডের আগে তিনি যদি সত্যিই চক্রবর্তী পরিবারের পক্ষ থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রে মধ্যস্থতার ভূমিকা পালন করে থাকেন, তাহলে ঘটনার আগের পরিস্থিতি সম্পর্কে তাঁর কাছে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য থাকতে পারে।
হত্যাকাণ্ডের পর তাঁর অবস্থান কোথায় ছিল এবং তিনি কী জানেন, সেটিও তদন্তের অংশ হওয়া উচিত। তবে কোনো ব্যক্তির অবস্থান বা কারও সঙ্গে যোগাযোগ থাকা নিজে থেকে অপরাধের প্রমাণ নয়। তাঁর বক্তব্য, যোগাযোগের তথ্য এবং অন্যান্য প্রমাণের সঙ্গে তা মিলিয়ে দেখা প্রয়োজন।
প্রতিবেদনে ইভা রহমানের সঙ্গে তৎকালীন রংপুর পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মাবুদের সম্পর্ক নিয়েও অভিযোগের কথা এসেছে। এ ধরনের অভিযোগ অত্যন্ত সংবেদনশীল। তাই অনুমান বা গুজবের ভিত্তিতে কোনো সিদ্ধান্তে না গিয়ে কল রেকর্ড, বার্তা, সাক্ষাৎ-সংক্রান্ত তথ্য এবং সরকারি নথির মাধ্যমে বিষয়টি যাচাই করা প্রয়োজন।
তদন্তের গতি কি ভুল দিকে যাচ্ছে?
রংপুরের এই চার খুনের ঘটনায় এখন মূল চ্যালেঞ্জ হলো একটি নির্ভরযোগ্য ও প্রমাণভিত্তিক ঘটনাক্রম তৈরি করা। তদন্ত শুধু আটক দুই ব্যক্তিকে কেন্দ্র করে সীমাবদ্ধ থাকলে সম্ভাব্য অন্য সব সূত্র উপেক্ষিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
পরিবারটির বিরুদ্ধে বা পরিবারের সদস্যদের ঘিরে আগে কোনো হুমকি ছিল কি না, কারা অর্থ দাবি করেছিল, কার সঙ্গে ব্যক্তিগত বিরোধ ছিল, কোনো রাজনৈতিক চাপ ছিল কি না, পরিবারের পক্ষ থেকে পুলিশের কাছে অভিযোগ বা যোগাযোগ করা হয়েছিল কি না এবং হত্যাকাণ্ডের আগে ও পরে কারা তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন, সবগুলো বিষয় একই সঙ্গে যাচাই করা প্রয়োজন।
একইভাবে পুলিশের কোনো কর্মকর্তা যদি হত্যাকাণ্ডের আগে পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে তথ্য পেয়ে থাকেন, তাহলে সেই তথ্য কোথা থেকে এসেছে, কখন এসেছে এবং তার ভিত্তিতে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল কি না, সেটিও তদন্তের আওতায় আসা উচিত।
পুলিশের ঊর্ধ্বতন পদে থাকা কোনো ব্যক্তি হওয়া যেমন অপরাধের প্রমাণ নয়, তেমনি পদমর্যাদার কারণে কাউকে তদন্তের বাইরে রাখাও যুক্তিসংগত নয়। সবার ক্ষেত্রে একই প্রমাণের মানদণ্ড প্রয়োগ করাই একটি নিরপেক্ষ তদন্তের মূল শর্ত।
চার হত্যার রহস্য উদ্ঘাটনে প্রয়োজন পূর্ণাঙ্গ পুনঃতদন্ত
চক্রবর্তী পরিবারের চার সদস্য হত্যার ঘটনায় তাই তদন্তকে শুধু আটক ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ বা একটি নির্দিষ্ট তত্ত্বের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে পুরো ঘটনার শুরু থেকে পুনর্গঠন করার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে।
আগামীর কথিত হুমকি ও হয়রানির অভিযোগ থেকে শুরু করে পরিবারের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর যোগাযোগ, ইভা রহমানের ভূমিকা, পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে পৌঁছানো তথ্য, বাড়ি নির্মাণকে কেন্দ্র করে অর্থনৈতিক বিরোধ, রাজনৈতিক চাপ, ব্যক্তিগত দ্বন্দ্ব এবং হত্যাকাণ্ডের পর পুলিশের গৃহীত পদক্ষেপ, সবকিছুর একটি সময়ভিত্তিক চিত্র তৈরি করা জরুরি।
এর সঙ্গে যুক্ত করতে হবে মোবাইল ফোনের কলবিবরণী, বার্তা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের তথ্য, সিসিটিভি ফুটেজ, অবস্থানসংক্রান্ত তথ্য, ফরেনসিক আলামত, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য।
শেষ পর্যন্ত তদন্তের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন শুধু কে চারজনকে হত্যা করেছে, তা নয়। হত্যাকাণ্ডের আগে পরিবারটি কি সত্যিই কোনো ঝুঁকির মধ্যে ছিল? সেই ঝুঁকির কথা কি কেউ জানত? জানলে তা পুলিশের কোন পর্যায় পর্যন্ত পৌঁছেছিল? কোনো কর্মকর্তা কি ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ পেয়েছিলেন? হত্যাকাণ্ডের পর তদন্ত কেন নির্দিষ্ট একটি তত্ত্বের দিকে এগোল? এবং সেই তত্ত্বের সঙ্গে ফরেনসিক ও ডিজিটাল প্রমাণ কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ?
এই প্রশ্নগুলোর উত্তর নির্ভর করবে নথি, প্রমাণ ও স্বাধীন তদন্তের ওপর। চারটি প্রাণহানির এই ঘটনায় সত্য উদ্ঘাটনের জন্য তদন্তকে শুধু ভুক্তভোগী ও আটক সন্দেহভাজনদের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে তাঁদের আগে-পরে থাকা সব যোগাযোগ, বিরোধ ও সম্ভাব্য প্রভাবের দিকেই নজর দিতে হবে। বিশেষ করে তদন্তের কোনো সূত্র যদি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভ্যন্তর পর্যন্ত পৌঁছে যায়, তাহলে সেই সূত্রও একই নিরপেক্ষতা ও প্রমাণের মানদণ্ডে যাচাই করা প্রয়োজন।
সূত্রঃ নর্থইস্ট নিউজ
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au