প্রতারণা মামলায় জামিন পেলেন বিদিশা সিদ্দিক
প্রতারণার মামলায় সাবেক রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান প্রয়াত এইচ এম এরশাদের সাবেক স্ত্রী বিদিশা সিদ্দিক জামিন পেয়েছেন। হাইকোর্টের এই আদেশের ফলে তার কারামুক্তিতে…
ভারতের মহারাষ্ট্রে জন্মাষ্টমী উপলক্ষে আয়োজিত ঐতিহ্যবাহী দহি হান্ডি উৎসবে পৃথক দুর্ঘটনায় সাত বছরের এক শিশুসহ দুজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ২১২ জন। শনিবার মহারাষ্ট্রের বিভিন্ন এলাকার কর্তৃপক্ষের বরাতে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি এ তথ্য জানিয়েছে।
নিহতদের একজন মুম্বাইয়ের সাত বছর বয়সী রুদ্র কদম। অন্যজন পুনের পিম্পরি-চিঞ্চওয়াড় এলাকার বাসিন্দা সালমা সালাউদ্দিন পাঠান। দহি হান্ডি উৎসবের অংশ হিসেবে মানব পিরামিড তৈরি এবং অস্থায়ী কাঠামো ব্যবহারের সময় পৃথক দুর্ঘটনায় তাদের মৃত্যু হয়।
হিন্দু ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী, ভগবান শ্রীকৃষ্ণের জন্ম উপলক্ষে জন্মাষ্টমী উৎসবের অংশ হিসেবে মহারাষ্ট্রজুড়ে দহি হান্ডি আয়োজন করা হয়। এ উৎসবে ‘গোবিন্দা’ নামে পরিচিত অংশগ্রহণকারীরা কয়েক স্তরের মানব পিরামিড তৈরি করে ওপরে ঝোলানো দইভর্তি মাটির হাঁড়ি ভাঙেন।
মুম্বাইয়ের মালভানির চিকুওয়াড়ি এলাকায় শনিবার বিকেল ৩টার দিকে দুর্ঘটনায় মারা যায় সাত বছরের রুদ্র কদম। কর্মকর্তারা জানান, একদল শিশু নিজেদের মতো করে দহি হান্ডি আয়োজন করেছিল। হাঁড়ি ঝোলানোর দড়ির এক প্রান্ত একটি গাছের সঙ্গে এবং অন্য প্রান্ত একটি স্থাপনার ইটের স্তম্ভের সঙ্গে বাঁধা হয়েছিল।
শিশুরা হাঁড়ি ভাঙার চেষ্টা করার সময় হঠাৎ ইটের স্তম্ভটি ধসে পড়ে। এতে রুদ্র কদম ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে গুরুতর মাথায় আঘাত পায়। স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে মালভানি জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার পর পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের কর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেন।
অন্যদিকে পুনের পিম্পরি-চিঞ্চওয়াড়ের ওল্ড সাংভি এলাকায় দহি হান্ডি অনুষ্ঠানে ব্যবহৃত একটি অস্থায়ী লোহার কাঠামো ভেঙে সালমা সালাউদ্দিন পাঠান নিহত হন। পুলিশ জানিয়েছে, অনুষ্ঠানে ব্যবহৃত লাউডস্পিকারের স্তূপ ধরে রাখার জন্য কাঠামোটি তৈরি করা হয়েছিল।
অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার পর শ্রমিকরা কাঠামোটি খুলছিলেন। এ সময় কাঠামোর একটি ভারী অংশ সালমার ওপর পড়ে। গুরুতর মাথায় আঘাত পাওয়ার পর তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। পুলিশ জানিয়েছে, সালমার ছেলে অনুষ্ঠান আয়োজক মণ্ডলের একজন কর্মকর্তা ছিলেন। তার পরিবার আয়োজকদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করতে রাজি হয়নি। এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যুর প্রতিবেদন নথিভুক্ত করে কাঠামো ধসের কারণ তদন্ত করছে পুলিশ।
এদিকে দহি হান্ডি উৎসব চলাকালে মুম্বাইয়ে মোট ১৬৮ জন গোবিন্দা আহত হয়েছেন। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তাদের মধ্যে ২৯ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, ৮১ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং ৫৮ জন চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন।
মুম্বাইয়ের পারেলের কেম হাসপাতালে সবচেয়ে বেশি ৩৩ জন আহত গোবিন্দা চিকিৎসা নিয়েছেন। এছাড়া ঘাটকোপারের রাজাওয়াড়ি হাসপাতালে ২০ জন এবং বোম্বে সেন্ট্রালের নায়ার হাসপাতালে ১৭ জন চিকিৎসা নিয়েছেন।
মুম্বাইয়ের পাশাপাশি পাশের থানে শহরেও ৪৪ জন গোবিন্দা আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। সব মিলিয়ে মহারাষ্ট্রে আহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে অন্তত ২১২ জনে।
দহি হান্ডি উৎসবকে কেন্দ্র করে মুম্বাইয়ের বিভিন্ন এলাকায় প্রতিবছর বড় আয়োজন করা হয়। রাজনৈতিক ব্যক্তিদের আয়োজিত এসব অনুষ্ঠানে বড় অঙ্কের পুরস্কার, তারকাদের উপস্থিতি ও নানা বিনোদনমূলক কর্মসূচি থাকে। এবারও উৎসব ঘিরে বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক জনসমাগম হয়।
মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিশ মুম্বাইয়ের ওরলি, দাদর ও ঘাটকোপারের বিভিন্ন দহি হান্ডি অনুষ্ঠানে অংশ নেন। তিনি তরুণদের মাদক থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, দহি হান্ডি উৎসবের মাধ্যমে মাদকমুক্ত মহারাষ্ট্র গড়ার প্রচার আরও জোরদার করা উচিত।
ওরলিতে প্রতীকীভাবে হাঁড়ি ভেঙে উৎসবের উদ্বোধন করেন দেবেন্দ্র ফড়নবিশ। তিনি বলেন, দহি হান্ডি শুধু আনন্দের আয়োজন নয়, এর মাধ্যমে মহারাষ্ট্রের ঐতিহ্য, তরুণদের সাহস এবং দলগতভাবে কাজ করার মানসিকতাও প্রকাশ পায়।
অন্যদিকে থানে গিয়ে মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিন্ডে উৎসবে রেকর্ড গড়ার চেয়ে অংশগ্রহণকারীদের নিরাপত্তাকে বেশি গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি গোবিন্দাদের সতর্ক হয়ে উৎসব পালন করার পরামর্শ দিয়ে বলেন, হাঁড়ি ভাঙার পাশাপাশি প্রত্যেকের জীবন ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
উৎসবকে কেন্দ্র করে মুম্বাইজুড়ে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ও জনসমাগমপূর্ণ এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়। বৃহন্মুম্বাই মিউনিসিপাল করপোরেশন, বিএমসি জানিয়েছে, আহত গোবিন্দাদের দ্রুত চিকিৎসা দিতে মুম্বাই শহর ও শহরতলির সরকারি হাসপাতালগুলোতে ১০০টির বেশি শয্যা প্রস্তুত রাখা হয়েছিল।
সরকারি হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের তিনটি শিফটে দায়িত্ব দেওয়া হয়। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় ওষুধ, ইনজেকশন ও অস্ত্রোপচারের সরঞ্জাম প্রস্তুত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
এবারের উৎসবে উচ্চ শব্দের লাউডস্পিকার ব্যবহার নিয়েও আলোচনা হয়েছে। পুনেতে আসন্ন গণেশোৎসবকে সামনে রেখে শব্দদূষণ নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই শহরের ৩১টি বড় গণপতি মণ্ডল ‘ডিজেমুক্ত’ দহি হান্ডি আয়োজনের সঙ্গে যুক্ত হয়।
তবে উৎসবের আনন্দের মধ্যেই দুটি প্রাণহানি এবং বিপুলসংখ্যক মানুষের আহত হওয়ার ঘটনায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে অস্থায়ী কাঠামো ব্যবহার এবং শিশুদের অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে আরও সতর্কতা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au