১৬ দেশের কর্মীদের জন্য খুলছে ডেনমার্কের দুয়ার।
বিদেশি কর্মীদের জন্য নতুন একটি অভিবাসন পথ চালু করতে যাচ্ছে ডেনমার্ক। আগামী ১ জানুয়ারি ২০২৭ থেকে নতুন এই ব্যবস্থা কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে। এর আওতায় নির্দিষ্ট ১৬টি দেশের নাগরিকদের ডেনমার্কে কাজের সুযোগ দিতে পারবেন যোগ্যতাসম্পন্ন নিয়োগকর্তারা।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন ব্যবস্থার ফলে ডেনিশ প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য বিদেশি দক্ষ কর্মী নিয়োগের সুযোগ আরও বাড়বে। অভিবাসনবিষয়ক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ফ্র্যাগোমেন জানিয়েছে, নতুন এই কর্মসংস্থান ব্যবস্থা নির্দিষ্ট কিছু দেশের নাগরিকদের ডেনমার্কে চাকরি ও ক্যারিয়ার গড়ার নতুন সুযোগ তৈরি করবে।
নতুন ব্যবস্থার আওতাভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে চীন, জাপান, ভারত, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, মলদোভা, মন্টেনেগ্রো, উত্তর মেসিডোনিয়া ও সার্বিয়া। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ইউক্রেনের নাগরিকরাও এই ব্যবস্থার আওতায় থাকবেন।
তালিকায় আরও রয়েছে আলবেনিয়া, অস্ট্রেলিয়া, ব্রাজিল ও কানাডা। ফলে এসব দেশের দক্ষ কর্মীদের জন্য ডেনমার্কের শ্রমবাজারে প্রবেশের একটি নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে।
তবে নতুন এই অভিবাসন পথ ডেনমার্কের সব নিয়োগকর্তার জন্য উন্মুক্ত থাকবে না। বিদেশি কর্মী নিয়োগের সুযোগ পেতে প্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্দিষ্ট কয়েকটি শর্ত পূরণ করতে হবে।
এর মধ্যে প্রথম শর্ত হলো, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে কোনো প্রাসঙ্গিক যৌথ শ্রমচুক্তির আওতায় থাকতে হবে। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটির কমপক্ষে দুই বছর ধরে কার্যক্রম পরিচালনার অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। ডেনমার্কে ওই প্রতিষ্ঠানে অন্তত ১০ জন পূর্ণকালীন কর্মীও থাকতে হবে।
এসব শর্ত পূরণকারী নিয়োগকর্তাদের ডেনিশ অভিবাসন কর্তৃপক্ষের কাছে নিবন্ধন করতে হবে। যাচাই-বাছাই শেষে যোগ্য প্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্ধারিত শর্ত পূরণের একটি সনদ দেওয়া হবে। এই সনদ পাওয়ার পরই তারা নতুন ব্যবস্থার আওতায় বিদেশি কর্মী নিয়োগ করতে পারবে।
নতুন ব্যবস্থায় নিয়োগ পাওয়া বিদেশি কর্মীদের জন্য ন্যূনতম বার্ষিক বেতনের সীমাও নির্ধারণ করা হয়েছে। একজন কর্মীকে বছরে কমপক্ষে ৩ লাখ ২২ হাজার ড্যানিশ ক্রোনার বেতন দিতে হবে। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় ৬১ লাখ ৪৮ হাজার টাকা।
নতুন এই উদ্যোগের মাধ্যমে ডেনমার্ক একদিকে যেমন দক্ষ বিদেশি কর্মীদের জন্য দেশটির শ্রমবাজারে প্রবেশের সুযোগ বাড়াতে চাইছে, অন্যদিকে নিয়োগকর্তাদের জন্যও আন্তর্জাতিক পর্যায় থেকে প্রয়োজনীয় জনবল সংগ্রহের সুযোগ তৈরি হবে।
সুত্রঃ এনডিটিভি