বাংলাদেশে সার নিয়ে আসলে কী চলছে?
আমন মৌসুমে প্রয়োজনীয় সার না পেয়ে বিপাকে পড়েছেন দেশের বিভিন্ন এলাকার কৃষক। কোথাও সার পাওয়া যাচ্ছে না, কোথাও নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে।…
দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ শ্রীচিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীর মা বর্তমানে চট্টগ্রামের মা ও শিশু হাসপাতালে অত্যন্ত সংকটাপন্ন অবস্থায় চিকিৎসাধীন। ছেলের কারাবন্দি জীবনের প্রায় দুই বছর পার হয়ে গেলেও মায়ের সঙ্গে তাঁর দেখা হয়নি। এখন মুমূর্ষু অবস্থায় ছেলেকে একবার চোখের সামনে দেখার আকুতি জানাচ্ছেন মা। কিন্তু সেই আকুতিতে এখনো সাড়া মেলেনি সরকারের পক্ষ থেকে।
গত ৮ সেপ্টেম্বর রাতে হাসপাতালে চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীর মাকে দেখতে যান চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্কৃত বিভাগের সহকারী অধ্যাপক কুশল বরণ চক্রবর্তী। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি চিন্ময়ের দ্রুত মুক্তি অথবা অন্তত প্যারোলে মুক্তির দাবি জানান।
কুশল বরণ চক্রবর্তী লিখেছেন, দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীর মা বর্তমানে অত্যন্ত মুমূর্ষু অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন। মায়ের এই মানবিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীর দ্রুত মুক্তি বা প্যারোলে মুক্তির দাবি জানান তিনি।
সাংবাদিকদের কুশল বরণ চক্রবর্তী বলেন, চিন্ময়ের মা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ‘ছেলে’ সম্বোধন করে তাঁর কাছে আকুতি জানিয়েছেন, জীবিত অবস্থায় যেন একবার ছেলেকে দেখতে পারেন। তাঁর দাবি, মায়ের অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন। তাই মানবিক বিবেচনায় অন্তত প্যারোলে মুক্তি দিয়ে মা-ছেলের দেখা করার ব্যবস্থা করা উচিত।
চিন্ময়ের পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, ছেলের গ্রেপ্তারের পর থেকেই তাঁর মা গভীর উদ্বেগ ও দুশ্চিন্তার মধ্যে ছিলেন। ছেলের অসুস্থতার খবর শুনে এর আগেও তিনি হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন। ছেলের জামিনের শুনানিকে ঘিরে প্রতিবারই তাঁর মধ্যে নতুন করে আশার সঞ্চার হতো। কিন্তু জামিন না হওয়ায় সেই আশা বারবার ভেঙে যায়।
দীর্ঘদিনের এই মানসিক চাপের মধ্যেই তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে।
পরিবারের সদস্যরা জানান, গত ১ জুলাই দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন তিনি।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, হাসপাতালে ভর্তির সময় তাঁর হৃদ্যন্ত্রে জটিলতা দেখা দেয়। পরে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে চিকিৎসা শুরু করা হয়। বর্তমানে শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলেও তিনি এখনো পুরোপুরি শঙ্কামুক্ত নন।

চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারী ও তার মা। ছবিঃ সংগৃহীত
এ অবস্থায় পরিবারের সামনে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে, জীবিত অবস্থায় মা কি তাঁর ছেলেকে আর একবার দেখতে পারবেন?
কারাগারে থাকা চিন্ময় কৃষ্ণ দাস কি মায়ের মুখোমুখি হওয়ার সেই সুযোগ পাবেন?
এই মানবিক প্রশ্নের মধ্যেই এসেছে তাঁর মামলার সর্বশেষ আইনি অগ্রগতি।
সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দুই মামলায় জামিন পেয়েছেন সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারী। এসব মামলায় তাঁর জামিন প্রশ্নে জারি করা রুলের ওপর শুনানি শেষে হাইকোর্ট রুল অ্যাবসলিউট ঘোষণা করেন।
বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ার ও বিচারপতি শেখ আবু তাহেরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই রায় দেন।
তবে দুই মামলায় জামিন পেলেও আপাতত কারাগার থেকে বের হতে পারছেন না চিন্ময়। তাঁর বিরুদ্ধে আরও মামলা থাকায় আইনগতভাবে এখনো তাঁর মুক্তির পথ পুরোপুরি খুলছে না বলে জানিয়েছেন তাঁর আইনজীবী।
চিন্ময়ের আইনজীবী অপূর্ব কুমার ভট্টাচার্য জানান, তাঁর বিরুদ্ধে মোট ছয়টি ফৌজদারি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে চট্টগ্রামে আইনজীবী সাইফুল ইসলাম হত্যা মামলার বিচার ট্রাইব্যুনালে চলছে। জাতীয় পতাকা অবমাননার অভিযোগে করা রাষ্ট্রদ্রোহের মামলায় তাঁর জামিন স্থগিত রয়েছে।
অপর চারটি মামলার মধ্যে আগে দুটি মামলায় হাইকোর্ট জামিন প্রশ্নে জারি করা রুল অ্যাবসলিউট ঘোষণা করেছিলেন। এবার আরও দুটি মামলায় জামিন পেলেন তিনি। কিন্তু বাকি মামলাগুলোর কারণে আপাতত কারামুক্তি সম্ভব হচ্ছে না।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. মনজুরুল আলম সুজন জানিয়েছেন, দুই মামলায় হাইকোর্টের দেওয়া জামিনের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে যাওয়ার জন্য অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ে নোট দেওয়া হয়েছে।
চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে ঘিরে মামলার সূত্রপাত ২০২৪ সালের অক্টোবরে। চট্টগ্রাম নগরের চান্দগাঁও মোহরা ওয়ার্ড বিএনপির তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক ফিরোজ খান তাঁর বিরুদ্ধে জাতীয় পতাকা অবমাননার অভিযোগে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা করেন। পরে ফিরোজ খানকে বিএনপি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
ওই মামলায় চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে ২০২৪ সালের ২৫ নভেম্বর ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর তাঁর জামিন শুনানিকে কেন্দ্র করে ২৬ নভেম্বর চট্টগ্রাম আদালত প্রাঙ্গণে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ওই সংঘর্ষের মধ্যে আইনজীবী সাইফুল ইসলামকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করা হয়।
এ ঘটনায় সাইফুল ইসলামের বাবা জামাল উদ্দিন বাদী হয়ে ৩১ জনের নাম উল্লেখ করে হত্যা মামলা করেন। এর পাশাপাশি পুলিশের ওপর হামলা, সরকারি কাজে বাধা, আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীদের ওপর হামলা এবং ককটেল বিস্ফোরণের অভিযোগে আরও কয়েকটি মামলা হয়।
এরপর থেকে বিভিন্ন মামলায় কারাগারেই রয়েছেন চিন্ময় কৃষ্ণ দাস।
প্রায় দুই বছর ধরে কারাগারে থাকা ছেলের মুক্তির অপেক্ষায় থাকা তাঁর মা এখন নিজেই হাসপাতালের শয্যায়। একদিকে ছেলের আইনি লড়াই, অন্যদিকে মায়ের জীবন-মৃত্যুর লড়াই।
ছেলের জামিনের খবর হয়তো পৌঁছেছে মায়ের কাছে। কিন্তু জামিন পেলেও যদি অন্য মামলায় কারাগারেই থাকতে হয়, তাহলে সেই জামিনের আনন্দও তাঁর মায়ের কাছে কতটা অর্থ বহন করবে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।
মায়ের শেষ আকুতি যদি হয়, ‘একবার ছেলেটাকে দেখতে চাই’, তাহলে সেই আকুতি পূরণ হওয়ার আগেই যদি সময় ফুরিয়ে যায়, তখন হয়তো আইনি লড়াইয়ের বাইরে থেকে যাবে এক গভীর মানবিক বেদনা।
কারাগারের দরজার ওপারে থাকা ছেলে কি শেষবারের মতো মায়ের হাতটি ধরতে পারবেন?
নাকি হাসপাতালের শয্যায় অপেক্ষা করতে থাকা মায়ের চোখের সেই শেষ আকুতি অপূর্ণই থেকে যাবে?
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au