কাচের ছাদটি একের পর এক অংশে ভেঙে নিচে ধসে পড়তে থাকে, আর কাচের টুকরোগুলো নিচে থাকা মানুষদের ওপর ঝরে পড়তে থাকে। (9News)
অস্ট্রেলিয়ার পার্থে কার্টিন ইউনিভার্সিটিতে নির্মাণাধীন কাচের ছাদ ধসে ২৩ বছর বয়সী এক তরুণের মৃত্যুর মর্মান্তিক ভিডিও প্রকাশ করেছে আদালত। ছাদ ধসে ২০ মিটার নিচে পড়ে ২০২০ সালে প্রাণ হারান কাঠমিস্ত্রি জোনাথন হার্টশর্ন।
এ ঘটনায় দায়ী প্রতিষ্ঠানকে সর্বোচ্চ শাস্তি দেওয়ার দাবি জানিয়েছে নিহতের পরিবার। বৃহস্পতিবার পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার আদালত নির্মাণস্থলের সেই দুর্ঘটনার ভিডিও প্রকাশ করে।
ভিডিওতে দেখা যায়, দুর্ঘটনার কয়েক সেকেন্ড আগেও নির্মাণকাজে ব্যস্ত ছিলেন শ্রমিকেরা। ওপরের দিকে থাকা কাচের ছাদ যে কোনো মুহূর্তে ভেঙে পড়তে পারে, সে বিষয়ে তাঁরা কিছুই বুঝতে পারেননি। একপর্যায়ে কাচের ছাদটি একের পর এক অংশে ভেঙে নিচে পড়তে শুরু করে। চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে কাচের টুকরো।
ছাদ স্থাপনের কাজে সহযোগিতা করছিলেন জোনাথন হার্টশর্ন। হঠাৎ ছাদ ধসে পড়লে তিনি প্রায় ২০ মিটার নিচে পড়ে মারা যান। দুর্ঘটনায় আরও তিনজন গুরুতর আহত হন।
ঘটনার প্রায় ছয় বছর পর নির্মাণসামগ্রী তৈরির প্রতিষ্ঠান এলসডন দুর্ঘটনার দায় স্বীকার করেছে। আদালতে জানানো হয়, ইস্পাতের ট্রাসে ত্রুটিপূর্ণ ওয়েল্ডিংয়ের কারণে ছাদটি ধসে পড়ে। এসব ট্রাস নির্মাণস্থলের বাইরে ওয়েল্ডিং করা হয়েছিল। কাজের সময় প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে কোনো যোগ্যতাসম্পন্ন ব্যক্তি সেখানে তদারকিতে ছিলেন না।
আদালতে প্রতিষ্ঠানের দায় স্বীকারের বিষয়টি অবশ্য জোনাথনের পরিবারের কষ্ট খুব একটা কমাতে পারেনি। ছেলেকে হারানোর যন্ত্রণা এখনো বয়ে বেড়াচ্ছেন তাঁর মা সুসান চ্যাপেল।
ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠানটি শেষ মুহূর্তে দায় স্বীকার করেছে। তাঁর মতে, এত দেরি করে দায় স্বীকার করার কোনো মূল্য নেই। প্রতিদিনই তাঁদের এই ঘটনার ভয়াবহ স্মৃতি নিয়ে বেঁচে থাকতে হচ্ছে।
এ ঘটনায় এলসডন এমন একটি অভিযোগে দোষ স্বীকার করেছে, যেখানে কোনো কর্মী নয়, এমন ব্যক্তির নিরাপত্তা বা স্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে।
জোনাথনের পরিবার এখন প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে কঠোরতম শাস্তির প্রত্যাশা করছে। তাঁদের অভিযোগ, নির্মাণকাজে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হলে ২৩ বছর বয়সী জোনাথনের এই মর্মান্তিক মৃত্যু হয়তো এড়ানো সম্ভব ছিল।
সূত্র:নাইন.কম.এইউ