যা আছে বিএনপির এমপি ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির পদত্যাগপত্রে
রাজধানীর মিরপুরে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা, লুটপাট ও ভাঙচুরের ঘটনায় নাম আসার পর জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি পদত্যাগ করেছেন।…
অস্ট্রেলিয়ায় কার্ড দিয়ে পণ্য বা সেবা কেনার সময় এতদিন যে অতিরিক্ত ‘কার্ড সারচার্জ’ দিতে হতো, তা বন্ধ হয়ে গেছে। ১ অক্টোবর ২০২৬ থেকে দেশটির ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো ভিসা, মাস্টারকার্ড, অ্যামেক্স ও ইফটপস কার্ডে পেমেন্ট নেওয়ার ক্ষেত্রে আলাদা করে কার্ড সারচার্জ আরোপ করতে পারবে না।
অস্ট্রেলিয়ার রিজার্ভ ব্যাংক (RBA) দীর্ঘ পর্যালোচনার পর কার্ড পেমেন্টের সারচার্জ ব্যবস্থা তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মতে, এতে কার্ড পেমেন্ট ব্যবস্থা আরও সহজ ও স্বচ্ছ হবে এবং পেমেন্ট সেবার ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতা বাড়বে।
তবে নতুন নিয়মের অর্থ এই নয় যে সব ধরনের অতিরিক্ত ফি একেবারে বন্ধ হয়ে গেছে। বুকিং ফি, সার্ভিস ফি, ডেলিভারি চার্জ কিংবা সপ্তাহান্ত ও সরকারি ছুটির দিনের সারচার্জের মতো নির্দিষ্ট কিছু ফি আগের মতোই নেওয়া যাবে।
ঠিক কী পরিবর্তন হলো
নতুন নিয়মের ফলে কোনো গ্রাহক কার্ড দিয়ে পেমেন্ট করছেন, শুধু সেই কারণে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান আলাদা করে অতিরিক্ত সারচার্জ নিতে পারবে না।
অর্থাৎ কোনো পণ্যের প্রদর্শিত মূল্য যদি ১০০ অস্ট্রেলিয়ান ডলার হয়, তাহলে কার্ড দিয়ে পেমেন্ট করার সময় তার সঙ্গে আলাদা করে ১ শতাংশ বা অন্য কোনো হারে ‘কার্ড ফি’ যোগ করার সুযোগ থাকবে না।
RBA-এর ব্যাখ্যা অনুযায়ী, কার্ড ব্যবহারের খরচ আলাদা সারচার্জ হিসেবে না নিয়ে ব্যবসাগুলো তাদের সামগ্রিক পণ্যমূল্য বা সেবার মূল্যের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করতে পারবে। ফলে গ্রাহকের কাছে প্রদর্শিত মূল্যই পরিশোধযোগ্য মোট মূল্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়া উচিত।
কোন কোন কার্ডে নিয়মটি প্রযোজ্য
নতুন সারচার্জ নিষেধাজ্ঞা ভিসা, মাস্টারকার্ড এবং ইফটপসের ক্রেডিট, ডেবিট ও প্রিপেইড কার্ডের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।
আমেরিকান এক্সপ্রেসও ১ অক্টোবর থেকে সারচার্জ বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। একইভাবে ইউনিয়নপে ১ অক্টোবর থেকে এবং পেপ্যাল ৫ অক্টোবর ২০২৬ থেকে তাদের সংশ্লিষ্ট পেমেন্টে সারচার্জ বন্ধ করছে।
অস্ট্রেলিয়ায় ইস্যু করা কার্ডের পাশাপাশি বিদেশে ইস্যু করা কার্ডের ক্ষেত্রেও সাধারণভাবে নতুন নিয়ম প্রযোজ্য হবে। তবে নির্দিষ্ট কোনো কার্ড নেটওয়ার্কের নিয়ম বা আইনগত ব্যতিক্রম থাকলে তা প্রযোজ্য হতে পারে।
অনলাইন কেনাকাটাতেও কি সারচার্জ বন্ধ
হ্যাঁ। নিয়মটি শুধু দোকানে গিয়ে কার্ড দিয়ে পেমেন্ট করার ক্ষেত্রে নয়, অনলাইন লেনদেনের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।
অর্থাৎ কোনো অনলাইন ব্যবসা শুধু লেনদেনটি ইন্টারনেটের মাধ্যমে হচ্ছে বলে ভিসা, মাস্টারকার্ড বা ইফটপস কার্ডের জন্য আলাদা সারচার্জ নিতে পারবে না। একই নীতি অ্যাপ এবং অন্যান্য ডিজিটাল চেকআউট ব্যবস্থার কার্ড পেমেন্টের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।
বুকিং বা সার্ভিস ফি কি নেওয়া যাবে
কার্ড সারচার্জ বন্ধ হলেও সব ধরনের অতিরিক্ত ফি বন্ধ হচ্ছে না।
কোনো ব্যবসা যদি বুকিং ফি, সার্ভিস ফি, ডেলিভারি ফি বা অন্য কোনো বৈধ সেবা-সংক্রান্ত চার্জ নেয়, তা নতুন সারচার্জ নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়বে না। একইভাবে রেস্তোরাঁ, ক্যাফে বা অন্যান্য হসপিটালিটি ব্যবসা সপ্তাহান্ত বা সরকারি ছুটির দিনে সারচার্জ নিতে পারবে।
তবে এসব ফি গ্রাহকের কাছে কীভাবে প্রদর্শন করা হচ্ছে, সে বিষয়ে অস্ট্রেলিয়ার ভোক্তা আইন মানতে হবে। ব্যবসাগুলো গ্রাহককে বিভ্রান্ত করে কার্ড সারচার্জকে অন্য কোনো ফি হিসেবে দেখাতে পারবে না।
এতে কি পণ্যের দাম কমে যাবে
কার্ড সারচার্জ বন্ধ হওয়া মানেই পণ্য বা সেবার দাম কমে যাবে, এমন নয়।
কার্ড পেমেন্ট গ্রহণের জন্য ব্যবসাগুলোর যে খরচ হয়, তা তারা এখন আলাদা সারচার্জ হিসেবে নিতে না পারলেও সামগ্রিক পণ্যমূল্যের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করতে পারবে।
অর্থাৎ কোনো দোকান আগে ১০০ ডলারের পণ্যে কার্ড ব্যবহারের জন্য অতিরিক্ত ১ ডলার নিলে এখন সেটি আলাদা করে নিতে পারবে না। তবে ব্যবসাটি চাইলে পণ্যের মূল দাম ১০১ ডলার নির্ধারণ করতে পারে, যদি মূল্য নির্ধারণে ভোক্তা আইন লঙ্ঘন না হয়। ACCC বলেছে, ব্যবসাগুলো কার্ড পেমেন্ট গ্রহণের খরচ সামগ্রিক মূল্যের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করতে পারবে।
ব্যবসাগুলো কি দাম বাড়াতে পারবে
হ্যাঁ। অস্ট্রেলিয়ায় ব্যবসাগুলো সাধারণভাবে তাদের পণ্য ও সেবার দাম নির্ধারণ এবং পরিবর্তন করতে পারে। তবে কোনো মূল্যবৃদ্ধির বিষয়ে গ্রাহককে বিভ্রান্ত করা যাবে না।
অর্থাৎ কার্ড সারচার্জ আলাদাভাবে নেওয়া বন্ধ হলেও ব্যবসা চাইলে সেই খরচ সামগ্রিক পণ্যমূল্যের মধ্যে যুক্ত করতে পারে। তবে নতুন কোনো মূল্য কেন নির্ধারণ করা হয়েছে, সে বিষয়ে মিথ্যা বা বিভ্রান্তিকর তথ্য দেওয়া যাবে না।
সব ব্যবসাকে কি কার্ড গ্রহণ করতেই হবে
না। সারচার্জ বন্ধ হওয়ার অর্থ এই নয় যে প্রতিটি ব্যবসাকে সব ধরনের কার্ড গ্রহণ করতে বাধ্য করা হয়েছে।
ব্যবসাগুলো সাধারণভাবে কোন কোন পেমেন্ট পদ্ধতি গ্রহণ করবে, তা নির্ধারণ করতে পারে। তারা নির্দিষ্ট ন্যূনতম কার্ড পেমেন্টের পরিমাণও নির্ধারণ করতে পারে, যদি সংশ্লিষ্ট নিয়ম তা অনুমোদন করে।
RBA-এর তথ্য অনুযায়ী, কোনো ব্যবসা চাইলে কার্ড পেমেন্ট গ্রহণ না করার সিদ্ধান্তও নিতে পারে। তবে কিছু নির্দিষ্ট ব্যবসার ক্ষেত্রে নগদ গ্রহণের আলাদা বাধ্যবাধকতা থাকতে পারে।
নগদে পেমেন্ট করলে ছাড় দেওয়া যাবে
হ্যাঁ। ব্যবসাগুলো গ্রাহকদের নির্দিষ্ট পেমেন্ট পদ্ধতি ব্যবহারে উৎসাহিত করতে ছাড় দিতে পারবে।
উদাহরণ হিসেবে কোনো ব্যবসা কার্ড পেমেন্টে সারচার্জ না নিয়ে নগদ বা অন্য কোনো পেমেন্ট পদ্ধতিতে পেমেন্ট করলে ডিসকাউন্ট দিতে পারে।
RBA জানিয়েছে, নতুন নিয়ম নির্দিষ্ট পেমেন্ট পদ্ধতি ব্যবহারের জন্য ব্যবসাগুলোকে ছাড় দেওয়ার সুযোগ বন্ধ করছে না।
কার্ড ব্যবহারে এখনও সারচার্জ নেওয়া হলে কী করবেন
১ অক্টোবরের পর কোনো গ্রাহক যদি মনে করেন তার কাছ থেকে নিষিদ্ধ কার্ড সারচার্জ নেওয়া হয়েছে, তাহলে প্রথমে ফি-টির প্রকৃতি যাচাই করতে হবে।
কারণ সেটি কার্ড সারচার্জ না হয়ে বৈধ বুকিং ফি, সার্ভিস ফি, ডেলিভারি চার্জ অথবা সপ্তাহান্ত ও সরকারি ছুটির দিনের সারচার্জও হতে পারে।
যদি দেখা যায়, শুধু কার্ড ব্যবহারের কারণে অতিরিক্ত অর্থ নেওয়া হয়েছে, তাহলে প্রথমে সংশ্লিষ্ট ব্যবসার সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কথা বলে ফি বাতিল বা অর্থ ফেরতের অনুরোধ করা যেতে পারে।
RBA জানিয়েছে, কোনো ব্যবসা কার্ড সারচার্জকে অন্য ধরনের ফি বা চার্জ হিসেবে দেখিয়ে নতুন ‘নো-সারচার্জ’ নিয়ম এড়িয়ে যেতে পারবে না।
এ ধরনের বিষয়ে গ্রাহক সংশ্লিষ্ট কার্ড নেটওয়ার্ক বা ব্যবসাটির পেমেন্ট সেবাদাতার কাছেও অভিযোগ জানাতে পারেন। কোনো ব্যবসা মূল্য প্রদর্শন বা মূল্য নির্ধারণের বিষয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য দিচ্ছে বলে মনে হলে ACCC কিংবা সংশ্লিষ্ট অঙ্গরাজ্য বা টেরিটরির ভোক্তা সুরক্ষা সংস্থার কাছে বিষয়টি জানানো যেতে পারে।
কেন সারচার্জ ব্যবস্থা তুলে দিল অস্ট্রেলিয়া
অস্ট্রেলিয়ার রিজার্ভ ব্যাংক ২০২৪ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত দেশটির কার্ড পেমেন্ট ব্যবস্থা ও সারচার্জ নিয়ে পর্যালোচনা চালায়। এ সময় ২৬০টির বেশি লিখিত মতামত গ্রহণ এবং পেমেন্ট শিল্প, সরকারি সংস্থা, ব্যবসা ও ভোক্তা সংগঠনের সঙ্গে প্রায় ১৫০টি বৈঠক করা হয়।
পর্যালোচনার পর RBA সিদ্ধান্ত নেয়, বর্তমান সারচার্জ ব্যবস্থা আগের মতো কার্যকরভাবে ভোক্তাদের তুলনামূলকভাবে দক্ষ পেমেন্ট পদ্ধতি বেছে নিতে উৎসাহিত করছে না। অনেক ব্যবসা একই হারে সব কার্ডে সারচার্জ নেওয়া, নিয়ম প্রয়োগের জটিলতা এবং নগদ ব্যবহারের হার কমে যাওয়ার মতো বিষয়ও পর্যালোচনায় বিবেচনায় নেওয়া হয়।
RBA-এর মতে, সারচার্জ তুলে দিলে কার্ড পেমেন্ট আরও সহজ ও স্বচ্ছ হবে এবং পেমেন্ট সেবা প্রদানকারীদের মধ্যে প্রতিযোগিতা বাড়বে।
তবে এই পরিবর্তনের ফলে ব্যবসাগুলোর কার্ড পেমেন্ট গ্রহণের খরচ পুরোপুরি বিলুপ্ত হচ্ছে না। বরং আলাদা সারচার্জ হিসেবে গ্রাহকের কাছ থেকে সেই অর্থ নেওয়ার পরিবর্তে ব্যবসাগুলোকে তা তাদের সামগ্রিক মূল্য কাঠামোর মধ্যে বিবেচনা করতে হবে।
নতুন নিয়মের মূল কথা
অস্ট্রেলিয়ায় ১ অক্টোবর ২০২৬ থেকে ভিসা, মাস্টারকার্ড, অ্যামেক্স ও ইফটপসের ক্রেডিট, ডেবিট ও প্রিপেইড কার্ডে আলাদা কার্ড সারচার্জ নেওয়া যাবে না। তবে বুকিং, সার্ভিস, ডেলিভারি, সপ্তাহান্ত বা সরকারি ছুটির দিনের মতো অন্যান্য বৈধ ফি নেওয়া যেতে পারে।
একই সঙ্গে ব্যবসাগুলো তাদের পণ্যের সামগ্রিক দাম পুনর্নির্ধারণ করতে পারবে। তবে প্রদর্শিত মূল্য ও মূল্য পরিবর্তনের কারণ নিয়ে গ্রাহককে বিভ্রান্ত করা যাবে না।
আর পেপ্যালের ক্ষেত্রে নতুন ‘নো-সারচার্জ’ নিয়ম কার্যকর হবে ৫ অক্টোবর থেকে।
সূত্রঃ এসবিএস নিউজ
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au