বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোরের প্রধান সম্পাদক তৌফিক ইমরোজ খালিদী আর নেই
বাংলাদেশের সাংবাদিকতা ও অনলাইন সংবাদমাধ্যমের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক তৌফিক ইমরোজ খালিদী আর নেই। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল…
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সালাহউদ্দিন আম্মারকে ঘিরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। ইসলামী ছাত্রশিবিরের রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখার তিনটি চিঠি প্রকাশ্যে আসার পর জানা গেছে, ২০২৫ সালে সংগঠনটির ‘সাথী’ পদ থেকে তাকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। চিঠিগুলোতে তার বিরুদ্ধে অর্থের বিনিময়ে পদ বাণিজ্য, নৈতিক পদস্খলন, অবৈধ অর্থনৈতিক লেনদেনসহ বিভিন্ন অভিযোগের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
শিবিরের তিন চিঠিতে যা
২০২৫ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি শিবিরের তৎকালীন রাবি শাখা সভাপতি মুস্তাকুর রহমান জাহিদের স্বাক্ষর করা চিঠিতে বলা হয়, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের রাজশাহী মহানগর ও জেলা কমিটিতে অর্থের বিনিময়ে পদ বাণিজ্যের অভিযোগ আম্মারের বিরুদ্ধে উঠেছিল। পাশাপাশি তার বিরুদ্ধে নৈতিক পদস্খলনের কয়েকটি অভিযোগ পাওয়ার কথাও উল্লেখ করা হয়। এসব অভিযোগ নিয়ে ৩ ফেব্রুয়ারির মাসিক সেক্রেটারিয়েট সভায় আলোচনা শেষে তার ‘সাথী’ পদ স্থগিত করা হয়।
নৈতিক পদস্খলন, নারীদের সঙ্গে অবাধ বিচরণ, অর্থের বিনিময়ে পদবাণিজ্য, মৌলিক ইবাদত পালনে উদাসীনতা, অবৈধ অর্থনৈতিক লেনদেনসহ বিভিন্ন অভিযোগে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে আম্মারকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবির।
এরপর ২০২৫ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের সিদ্ধান্তের কথা উল্লেখ করে শিবিরের আরেক চিঠিতে বলা হয়, সাংগঠনিক শৃঙ্খলাবহির্ভূত কর্মকাণ্ড এবং বারবার সংশোধনের সুযোগ দেওয়ার পরও পরিবর্তন না হওয়ায় আম্মারের ‘সাথী’ পদ বাতিল করা হয়েছে। ২০২৬ সালের ৩১ জুলাইয়ের আরেক চিঠিতে আগের অভিযোগগুলোর পাশাপাশি মৌলিক ইবাদত পালনে উদাসীনতা, নারীদের সঙ্গে অবাধ বিচরণ, অবৈধ অর্থনৈতিক লেনদেন ও সম্পদ তছরুপের অভিযোগের কথা উল্লেখ করা হয়।
পোষ্য কোটা আন্দোলনেও বিতর্ক
আম্মারের বিতর্কের শুরু রাকসুর জিএস হওয়ার পর নয়। ২০২৪ সালের নভেম্বরে পোষ্য কোটা নিয়ে তার একটি ফেসবুক লাইভের বক্তব্যকে ‘অশালীন’ ও আপত্তিকর দাবি করে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কয়েকটি সংগঠন তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছিল। আম্মার তখন বলেন, তার বক্তব্যের উদ্দেশ্য ছিল পোষ্য কোটা বাতিলের দাবি জানানো।
পরবর্তী সময়ে পোষ্য কোটা বাতিলের আন্দোলনেও তিনি নেতৃত্বের ভূমিকায় ছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনে তালা দেওয়া এবং পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তাদের অবরুদ্ধ করার ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠনের তথ্যও প্রকাশিত হয়েছে। এসব ঘটনায় তদন্ত প্রতিবেদন দীর্ঘ সময়েও জমা হয়নি।
শিক্ষক-কর্মকর্তাদের সঙ্গে সংঘাত
২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে পোষ্য কোটা পুনর্বহালের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে আন্দোলনের সময় আম্মারের নেতৃত্বে শিক্ষার্থীরা সাবেক উপ-উপাচার্যের গাড়ি ঘেরাও এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি ভবনে উপ-উপাচার্য, প্রক্টরসহ কর্মকর্তাদের অবরুদ্ধ করে রাখে—এমন তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। ওই সময় শিক্ষক-কর্মকর্তাদের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের ধস্তাধস্তির ঘটনাও ঘটে বলে সংবাদ প্রতিবেদনে বলা হয়।
তবে এসব ঘটনায় আম্মারের বক্তব্যও রয়েছে। তার দাবি, পোষ্য কোটা থেকে রেললাইন অবরোধ—তার কর্মকাণ্ড শিক্ষার্থীদের স্বার্থে ছিল এবং ব্যক্তিগত কোনো স্বার্থে তিনি এসব করেননি।
তিন শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ
২০২৬ সালের ২৭ জুলাই রাবিতে তিন শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ ওঠে আম্মার ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করে। এর আগে আরও দুটি ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনও তখন পর্যন্ত জমা হয়নি।
তিন শিক্ষার্থীকে মারধরের ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। একটি ভিডিওতে আম্মারকে হাতে বেলচা নিয়ে কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের দিকে যেতে দেখা যায়।
শিবির-সংশ্লিষ্টতার প্রশ্ন
রাকসু নির্বাচনের আগে আম্মার নিজেই জানিয়েছিলেন, তার বাবা জামায়াতের রাজনীতি করেন এবং তিনি তা’মীরুল মিল্লাত মাদরাসায় পড়ার সময় শিবিরের পরিবেশের মধ্যে বেড়ে উঠেছেন। তবে তিনি নিজেকে আনুষ্ঠানিকভাবে শিবিরের পদধারী হিসেবে গ্রহণ করেননি।
অন্যদিকে, এখন প্রকাশ্যে আসা তিনটি চিঠি এবং শিবিরের বর্তমান দায়িত্বশীলদের বক্তব্যে তাকে সংগঠনটির ‘সাথী’ হিসেবে থাকার কথা নিশ্চিত করা হয়েছে। আম্মার তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোকে মিথ্যা বলেছেন।
অভিযোগের শেষ কোথায়?
আম্মারকে ঘিরে আলোচনার বড় প্রশ্ন এখন শুধু তিনি অতীতে কোনো সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন কি না—তা নয়। তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত বিভিন্ন অভিযোগের কতগুলো সত্য, কতগুলো রাজনৈতিক বা সাংগঠনিক বিরোধ থেকে এসেছে এবং কোন ঘটনাগুলোর বিষয়ে তদন্তে কী সিদ্ধান্ত এসেছে—সেটিই গুরুত্বপূর্ণ।
অভিযোগের বিষয়ে সম্প্রতি এক ফেসবুক পোস্টে সালাহউদ্দিন আম্মার লিখেছেন, তার বিরুদ্ধে নারীদের সঙ্গে অবাধ মেলামেশা, চাঁদাবাজি ও অর্থের বিনিময়ে পদ দেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে, তবে এসব অভিযোগের কোনো প্রমাণ দেওয়া হয়নি।
রাকসুর জিএস হিসেবে আম্মার বর্তমানে একটি নির্বাচিত দায়িত্বে আছেন। ফলে তার প্রতিটি অভিযোগের প্রমাণ, তদন্তের ফল প্রকাশ করা জরুরি। এখন দেখার বিষয়, প্রকাশ্যে আসা নথি ও তদন্তগুলো শেষ পর্যন্ত কী তথ্য সামনে আনে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au