সিলেট টেস্টের আগে তৈরি হচ্ছেন বাংলাদেশ দলের ক্রিকেটাররা। ছবি: সংগৃহীত
সিলেটের মাঠ কি বাংলাদেশের জন্য পয়া? পরিসংখ্যান বলছে, উত্তরটা সহজ নয়। এই মাঠে এখন পর্যন্ত ছয়টি টেস্ট খেলেছে বাংলাদেশ। জয় ও পরাজয় সমান তিনটি করে। তবে এই পরিসংখ্যানের আড়ালে আছে দুই রকম অভিজ্ঞতা। যে মাঠে জিম্বাবুয়ের কাছে দুবার হেরেছে বাংলাদেশ, সেই মাঠেই আবার নিউজিল্যান্ড ও পাকিস্তানের মতো দলকে হারিয়েছে।
জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে হারের স্মৃতি এখন অনেকটাই পুরোনো। বরং সিলেটে পাকিস্তানকে হারানোর স্মৃতিই বাংলাদেশের জন্য বেশি প্রাসঙ্গিক। আগামীকাল থেকে শুরু হতে যাওয়া সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে সেই জয়ই হতে পারে দলের ঘুরে দাঁড়ানোর অনুপ্রেরণা। তা না হলে অপেক্ষা করছে বড় বিপদ।
প্রত্যাশা নিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজ শুরু করেছিল বাংলাদেশ। কিন্তু মিরপুরে প্রথম টেস্টে শুধু হারই নয়, যেভাবে হেরেছে, তা হতাশ করেছে সমর্থকদের। এবার সিলেটেও হারলে ঘরের মাঠে ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে ধবলধোলাই হতে হবে বাংলাদেশকে। সাম্প্রতিক সময়ে টেস্ট ক্রিকেটে ঘুরে দাঁড়ানোর যে চেষ্টা চলছে, তাতেও বড় ধাক্কা লাগবে।
সেই শঙ্কা এড়াতে বাংলাদেশের জন্য সিলেট হতে পারে আদর্শ মঞ্চ। এপ্রিলে পাকিস্তানের বিপক্ষে এই মাঠেই জয় পেয়েছিল দল। তার আগে আয়ারল্যান্ডকে হারিয়েছিল ইনিংস ব্যবধানে। বাংলাদেশের বর্তমান টেস্ট খেলার ধরন বিবেচনায় সিলেটের উইকেট তুলনামূলক বেশি সহায়ক বলেই মনে হচ্ছে।
মিরপুরের পর তাই বাংলাদেশের পছন্দের টেস্ট ভেন্যু হয়ে উঠছে সিলেট। পাকিস্তান ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ম্যাচের পর আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দুই টেস্টের একটিও এই মাঠে আয়োজনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। সিলেটের উইকেটের বিশেষত্ব হলো, এখানে ব্যাটসম্যান ও বোলার, দুই পক্ষের জন্যই সুযোগ থাকে।
এপ্রিলে পাকিস্তানের বিপক্ষে জয়ের পেছনেও ছিল এই উইকেটের কার্যকর ব্যবহার। স্পোর্টিং উইকেটে ভালো সংগ্রহ গড়ার পর পেস ও স্পিনের সমন্বয়ে প্রতিপক্ষের ২০ উইকেট তুলে নিয়েছিল বাংলাদেশ। কোনো একজন বোলারের ওপর অতিরিক্ত নির্ভর করতে হয়নি। দ্বিতীয় টেস্টেও কি একই পরিকল্পনায় এগোবে দল?
মিরপুরে স্পিন-সহায়ক উইকেটে খেলার পর সিলেটের উইকেট নিয়ে প্রশ্নটি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তবে গতকাল এ বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারেননি প্রথম টেস্টে কনকাশনের শিকার হওয়া মুমিনুল হকের পরিবর্তে দলে সুযোগ পাওয়া অমিত হাসান। তিনি বলেছেন, ‘এখন পর্যন্ত তো ঘাস দেখলাম উইকেটে। এখনো এক-দুই দিন বাকি আছে, দেখা যাক (কেমন উইকেট হয়)।’
উইকেট শেষ পর্যন্ত কেমন হবে, তা সময়ই বলে দেবে। তবে মিরপুরের হতাশা ভুলে সিরিজে সমতা ফেরাতে সিলেটে জয়ের বিকল্প নেই বাংলাদেশের সামনে। এখন দেখার বিষয়, এই মাঠে আবারও ভাগ্য ফেরাতে পারে কি না দল।