মধ্যরাতে সড়কে হোম ইকোনমিকসের ছাত্রীরা
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত রাজধানীর গভর্নমেন্ট কলেজ অব অ্যাপ্লাইড হিউম্যান সায়েন্সের (সাবেক হোম ইকোনমিকস কলেজ) অধ্যক্ষ অধ্যাপক মেহেরুন্নেছার পদত্যাগের দাবিতে মধ্যরাতে সড়কে নেমে বিক্ষোভ করেছেন শিক্ষার্থীরা।…
ভাস্কর দত্ত:
দেশের মাদক সাম্রাজ্য নিয়ন্ত্রণ করছেন এক হাজারের বেশি গডফাদার। তাঁদের অধীনে ইয়াবা, হেরোইন, আইস, ফেনসিডিলসহ বিভিন্ন নিষিদ্ধ মাদকের কারবার চালাচ্ছেন ২৫ হাজারেরও বেশি শীর্ষ কারবারি। সীমান্ত থেকে রাজধানী—দেশের বিভিন্ন এলাকায় বিস্তৃত তাঁদের নেটওয়ার্ক। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) হালনাগাদ তালিকায় উঠে এসেছে এই চিত্র।
ডিএনসি সূত্র জানায়, গত জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বর—এই তিন মাস সারা দেশে অনুসন্ধান চালিয়ে তালিকাটি তৈরি করা হয়েছে। অধিদপ্তরের বিভিন্ন ইউনিটের সদস্যরা এই অনুসন্ধানে অংশ নেন। তালিকায় কক্সবাজার ও টেকনাফকেন্দ্রিক মাদক কারবারিদের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি।
গডফাদারদের মধ্যে নবী হোসেনের মাদক কারবার আরাকানকেন্দ্রিক। দেশের বিভিন্ন স্থান ও সীমান্তবর্তী জেলায় তাঁর কয়েক শ সহযোগী রয়েছেন। রাজধানীর মোহাম্মদপুরের শীর্ষ মাদক কারবারি দিলদার ও পিচ্চি রাজা তাঁর ঘনিষ্ঠ সহযোগী। আরাকানকেন্দ্রিক একটি আন্তর্জাতিক চক্রের সঙ্গেও তাঁর যোগাযোগ রয়েছে বলে ডিএনসি সূত্র জানিয়েছে।
সীমান্ত থেকে রাজধানীতে নেটওয়ার্ক
ডিএনসি সূত্রের দাবি, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারির মধ্যেও শীর্ষ কারবারিরা বাংলাদেশকে ইয়াবা, হেরোইন, কুশ ও কোকেন পাচারের রুট হিসেবে ব্যবহার করছেন। তাঁদের সঙ্গে আন্তর্জাতিক মাদক কারবারি চক্রের যোগাযোগ রয়েছে। দেশের বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে প্রতিদিনই কোটি কোটি টাকার মাদকের চালান প্রবেশ করছে।
বাজারে থাকা ইয়াবার মাত্র ১০ থেকে ১৫ শতাংশ জব্দ করা সম্ভব হয়। বাকি ৮৫ শতাংশ ক্রেতাদের কাছে পৌঁছে যায় বলে ডিএনসি সূত্রের দাবি। মাদক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে টেকনাফ অঞ্চলকে বিশেষ গোয়েন্দা নজরদারির আওতায় আনা হয়েছে।
মিয়ানমারসহ ঝুঁকিপূর্ণ সীমান্ত এলাকায় ডিএনসি, বিজিবি, কোস্ট গার্ড, পুলিশ, র্যাব ও অন্যান্য গোয়েন্দা সংস্থা সমন্বিতভাবে তথ্য আদান-প্রদান এবং যৌথ অভিযান চালাচ্ছে। তালিকাভুক্ত কারবারিদের গ্রেপ্তারে নিয়মিত অভিযান চলছে বলে জানিয়েছেন ডিএনসির উপপরিচালক মুকুল জ্যোতি চাকমা। তাঁর ভাষ্য, এরই মধ্যে অনেক কারবারিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
বারে অভিযান, বড় চক্র নিয়ে প্রশ্ন
শীর্ষ কারবারিদের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে মাদক ছড়িয়ে পড়ছে। তাঁদের ক্রেতাদের মধ্যে স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ রয়েছেন। মাদকের টাকা জোগাড় করতে গিয়ে ছিনতাই ও হত্যাসহ বিভিন্ন অপরাধও ঘটছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি।
গত ছয় মাসে রাজধানীর বিভিন্ন বার, ক্লাব ও তারকা হোটেলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রায় ৪২টি অভিযান চালিয়েছে। এসব অভিযানের সময় ধারণ করা ভিডিও ছড়িয়ে পড়া নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সম্প্রতি পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত ডিআইজি আব্দুল্লাহ আল জহিরের ভাড়া দেওয়া বাড়িতে মাদকবিরোধী অভিযান এবং লাইসেন্সধারী বারে অভিযান নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা হয়।
ওই বাড়ি থেকে চার বোতল মদ, একটি ইয়াবা ও মাদক সেবনের সরঞ্জাম উদ্ধারের কথা জানায় পুলিশ। এ ঘটনায় ৮৪ জনকে আটক করা হয়, যাঁদের বেশির ভাগই তরুণ। উদ্ধার করা মাদকের পরিমাণের তুলনায় আটকের সংখ্যা নিয়ে পুলিশ কর্মকর্তাদের মধ্যেও বিস্ময় তৈরি হয়।
বৈধ বার ও মাদক নিয়ন্ত্রণের বিতর্ক
সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের অভিযোগ, বারে অ্যালকোহলের মজুদ, বিক্রি ও লাইসেন্সের শর্ত যাচাইয়ে গুরুত্ব দেওয়া হলেও ইয়াবা-আইসের বড় চালান, সরবরাহকারী ও গডফাদারদের বিরুদ্ধে একই মাত্রার অভিযান দেখা যায় না। তবে ডিএনসির উপপরিচালক রাজিউর রহমান বলেন, বারে অভিযান চালিয়ে লাইসেন্স যাচাই করা হয়। কম বয়সী শিক্ষার্থীদের পাওয়া গেলে অনেককে অভিভাবকের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ হোটেল রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড বার ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের যুগ্ম সম্পাদক আসাদুজ্জামান খান শোভন বলেন, দেশে ৫৮টি বার রয়েছে। বেশির ভাগই রাজধানীকেন্দ্রিক। বারে আসা মানুষের অধিকাংশ লাইসেন্সধারী। মাদক ও অ্যালকোহল এক বিষয় নয়, অথচ দুটিকে এক করে দেখা হচ্ছে। অভিযানের সময় ইউটিউবারদের প্রবেশ এবং ভিডিও প্রচারের মাধ্যমে বিষয়টি অতিরঞ্জিত করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
ডিএনসি সূত্র জানায়, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত তিন কোটি চার লাখ ৯৪ হাজার ৩৩৩ পিস ইয়াবা জব্দ হয়েছে। দৈনিক গড়ে জব্দ হয়েছে এক লাখ ৬৯ হাজারের বেশি পিস, যা গত বছরের তুলনায় প্রতিদিন ৫০ হাজারের বেশি।
ডিএনসির মহাপরিচালক মো. হাসান মারুফ বলেন, মাদক পাচার রোধ ও মাদকমুক্ত সুস্থ বাংলাদেশ গড়তে সরকারের নীতিগত নির্দেশনা অনুযায়ী তাঁরা কাজ করছেন।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au