গঙ্গা চুক্তি নবায়নে নতুন শর্ত চাইতে পারে ভারত
বাংলাদেশের সঙ্গে ১৯৯৬ সালের গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তির মেয়াদ শেষ হতে যাচ্ছে আগামী ১২ ডিসেম্বর। চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে নতুন করে পানি বণ্টনের শর্ত…
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত রাজধানীর গভর্নমেন্ট কলেজ অব অ্যাপ্লাইড হিউম্যান সায়েন্সের (সাবেক হোম ইকোনমিকস কলেজ) অধ্যক্ষ অধ্যাপক মেহেরুন্নেছার পদত্যাগের দাবিতে মধ্যরাতে সড়কে নেমে বিক্ষোভ করেছেন শিক্ষার্থীরা। আবাসিক হলের আসন বাতিল ও জরিমানার ঘটনাকে কেন্দ্র করে বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সকাল থেকে শুরু হওয়া আন্দোলন রাতে আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এ সময় পুলিশ শিক্ষার্থীদের ওপর লাঠিচার্জ ও হেনস্তা করেছে বলে অভিযোগ করেছেন আন্দোলনকারীরা।
শুক্রবার (৬ নভেম্বর) রাত দেড়টার দিকে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা কলেজের মূল ফটকের সামনের সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করছিলেন। এ সময় তাঁরা ‘আমার ক্যাম্পাসে পুলিশ কেন, প্রশাসন জবাব চাই’, ‘আমার বোনকে মারল কেন, জবাব চাই’ এবং ‘মেয়েদের হলে পুলিশ কেন, জবাব চাই’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন।
শিক্ষার্থী ও কলেজ প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, পূজার ছুটির আগে কলেজের অডিটোরিয়ামে স্নাতকোত্তর শেষ বর্ষের শিক্ষার্থীদের বিদায় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানটি রাত ১২টা পর্যন্ত চালানোর অনুমতি থাকলেও শেষ হয় পরদিন ভোর ৫টার দিকে। নির্ধারিত সময়ের পরও অডিটোরিয়াম ব্যবহার করায় অনুষ্ঠানের সমন্বয়কারী দুই শিক্ষার্থীর আবাসিক হলের আসন বাতিল করেন অধ্যক্ষ অধ্যাপক মেহেরুন্নেছা।
পরে ওই দুই শিক্ষার্থী অধ্যক্ষের কাছে ক্ষমা চাইতে গেলে তাঁদের আসন ফিরিয়ে দেওয়ার শর্ত হিসেবে এক রাতের শীতাতপনিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ও বিদ্যুৎ বিল বাবদ ১২ হাজার ৬০০ টাকা জরিমানা দাবি করা হয়। শিক্ষার্থীরা ওই টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে পরিস্থিতির অবনতি ঘটে। একপর্যায়ে বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে রাত সাড়ে ১১টা পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা অধ্যক্ষকে তাঁর কার্যালয়ে অবরুদ্ধ করে রাখেন।
রাত সাড়ে ১১টার দিকে পুলিশ গিয়ে অধ্যক্ষকে কার্যালয় থেকে উদ্ধার করে নিয়ে যায়। এ সময় পুলিশ সদস্যরা শিক্ষার্থীদের ওপর লাঠিচার্জ ও তাঁদের সঙ্গে হেনস্তামূলক আচরণ করেছেন বলে অভিযোগ ওঠে। পরে রাত সাড়ে ১২টার দিকে শিক্ষার্থীরা কলেজের সামনের সড়কে অবস্থান নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন।
সংবাদ সম্মেলনে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, পরিস্থিতি সমাধানের উদ্যোগ না নিয়ে অধ্যক্ষ বিপুলসংখ্যক পুলিশ সদস্যকে ক্যাম্পাসে ডেকে আনেন। তাঁদের দাবি, পুরুষ পুলিশ সদস্যরা ছাত্রীদের ওপর লাঠিচার্জ করেন, কয়েকজনের চুল ও হিজাব ধরে টানেন এবং অনেকের মুঠোফোন ছিনিয়ে নেন। পুলিশের হামলায় কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন বলেও দাবি করেন তাঁরা।
এ ছাড়া দুজন শিক্ষার্থীকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানান আন্দোলনকারীরা। তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়ে থাকতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তাঁরা।
সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষার্থীরা চার দফা দাবি তুলে ধরেন। তাঁদের প্রথম দাবি, শুক্রবার ক্যাম্পাসে কোনো ধরনের সরকারি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হতে দেওয়া হবে না। দ্বিতীয়ত, মধ্যরাতে ছাত্রীদের গায়ে হাত তোলা ও মুঠোফোন ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনার সুস্পষ্ট জবাব দিতে হবে এবং অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যদের কারণ দর্শানোর নোটিশ দিতে হবে।
তৃতীয় দাবিতে শিক্ষার্থীরা জানান, অধ্যক্ষ লিখিতভাবে প্রয়োজনীয় কোনো নথি না দেওয়া পর্যন্ত কলেজের সব ধরনের কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। চতুর্থত, যেসব শিক্ষক ও কর্মচারী শিক্ষার্থীদের ওপর হামলায় মদদ দিয়েছেন এবং হামলাকে বৈধতা দিয়েছেন, তাঁদের ক্যাম্পাসে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হয়েছে।
অধ্যক্ষের পদত্যাগের দাবিকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া এই আন্দোলনে রাতে পুলিশের উপস্থিতি ও শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার অভিযোগ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au