অভিষেকেই ৪৭ বছর রেকর্ড ভাঙলেন ভারতীয় ক্রিকেটার
মেলবোর্ন, ৯ জুন- ভারতীয় ক্রিকেটে নতুন স্পিন যুগের সূচনা হতে পারে মানব সুথারের হাত ধরেই। আফগানিস্তানের বিপক্ষে নিজের অভিষেক টেস্ট ম্যাচেই দুর্দান্ত বোলিং নৈপুণ্য দেখিয়ে ৪৭…
মেলবোর্ন, ০৭ মে— পেহেলগাম সন্ত্রাসী হামলার প্রতিশোধ নিতে পাকিস্তান এবং পাক অধিকৃত কাশ্মীরের নয়টি স্থানে ২৪টি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে ৭০ জন সন্ত্রাসীকে হত্যার দাবি করেছে ভারত। নিহত সন্ত্রাসীদের মধ্যে লস্কর-ই-তৈয়বা এবং জইশ-ই-মোহাম্মদের সঙ্গে যুক্ত মধ্যম থেকে উচ্চপদস্থ ফিল্ড কমান্ডার রয়েছেন।
বুধবার সকালে ভারতীয় প্রতিরক্ষা সূত্রের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে দেশটির প্রভাবশালী গণমাধ্যম এনডিটিভি।
সূত্রের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়, এই হামলা ‘অপারেশন সিঁদুর’ নামে চালানো হয়, যা শুধুমাত্র একটি সামরিক প্রতিক্রিয়া ছিল না, বরং কৌশলগত অঙ্গীকারের প্রকাশ ছিল। “নয়টি সন্ত্রাস-সংযুক্ত স্থানে ২৪টি সমন্বিত ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মাধ্যমে ভারত দেখিয়েছে যে, দেশটি আর সীমান্ত পেরিয়ে সন্ত্রাসবাদ ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সহযোগিতাকে সহ্য করবে না।”
এই পাল্টা হামলায় আরও ৬০ জনের বেশি সন্ত্রাসী আহত হয়েছে। লক্ষ্যস্থলগুলো ছিল- মুজাফ্ফরাবাদ, কোটলি, বাহাওয়ালপুর, রাওয়ালাকোট, চাকসওয়ারি, ভিম্বার, নীলম উপত্যকা, ঝেলম ও চকওয়াল।
সূত্র বলছে, এই স্থানগুলো সন্ত্রাসী কার্যকলাপের কেন্দ্র হিসেবে চিহ্নিত ছিল। লস্কর-ই-তৈয়বা ও জইশ-ই-মুহাম্মদের সঙ্গে যুক্ত ঘাঁটিগুলোতে নিখুঁতভাবে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়। এই হামলায় এসব গোষ্ঠীর কর্মকৌশল অনেকটাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গেছে।
এই হামলায় এখন পর্যন্ত অন্তত ৯ জন বেসামরিক মানুষ নিহত, ৩৮ জন আহত এবং ২ জন নিখোঁজের তথ্য জানিয়েছে পাকিস্তান। ভারত সরকার দাবি করেছে, ক্ষয়ক্ষতি কমিয়ে আনার জন্য অত্যন্ত নিখুঁতভাবে লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল এবং কোনো পাকিস্তানি সামরিক স্থাপনায় হামলা করা হয়নি।
সরকারি সূত্র আরও জানিয়েছে, ভারতের গোয়েন্দা বিভাগ পাকিস্তান সেনাবাহিনীর সন্ত্রাসীগোষ্ঠীগুলোর প্রতি লজিস্টিক সহায়তার স্পষ্ট প্রমাণ পেয়েছে। এই হামলার উদ্দেশ্য ছিল ওই সহায়তার নেটওয়ার্ক উন্মোচন ও ধ্বংস করা।
যদিও আন্তর্জাতিক মহল উভয় পক্ষকে সংযম দেখানোর আহ্বান জানিয়েছে, তবুও ভারত আত্মরক্ষার অধিকার পেয়েছে বলে সমর্থন পেয়েছে বলে দাবি করেছে সূত্রগুলো।
সূত্র আরও জানায়, হামলায় লক্ষ্য করা প্রতিটি স্থান দীর্ঘদিন ধরেই ভারতের নজরদারির আওতায় ছিল এবং সেগুলো চরমপন্থীদের ঘাঁটি, অপারেশনাল বেস, বা চলাচলের জন্য ব্যবহৃত হতো।
“এই টার্গেট নির্বাচন ছিল স্যাটেলাইট নজরদারি, মানব গোয়েন্দা এবং টেলিযোগাযোগ হস্তক্ষেপের এক চমৎকার সমন্বয়ের ফল। পূর্ববর্তী ছোট পরিসরের প্রতিক্রিয়ার বিপরীতে অপারেশন সিন্দূর ছিল বিস্তৃত ও নিখুঁত পরিকল্পনার প্রতিফলন। উচ্চ নির্ভুলতার স্ট্যান্ড-অফ অস্ত্র ব্যবহারে ক্ষয়ক্ষতি সীমিত রাখা সম্ভব হয়েছে,” এক সূত্র জানায়।

এনডিটিভির লাইভ স্ক্রিনশট।
অপারেশনটি পরিচালনার ধরন ভারত যে পুরো যুদ্ধ নয় বরং সন্ত্রাসবিরোধী পদক্ষেপ নিচ্ছে, তা স্পষ্ট করেছে। “অপারেশনটি এক ঘণ্টারও কম সময়ে সম্পন্ন হয়, প্রতিটি ক্ষেপণাস্ত্র সুনির্দিষ্টভাবে লক্ষ্যে আঘাত হানে। সেগুলো একযোগে নিক্ষেপ করা হয়েছিল যাতে শনাক্ত হওয়া এড়ানো যায় ও বিস্ময়ের প্রভাব বজায় থাকে। ড্রোন ফুটেজে লক্ষ্যবস্তুর ধ্বংস নিশ্চিত হয়েছে। পাকিস্তান অধিকৃত অঞ্চলের গভীরে আঘাত হানা পূর্বতন নীতির থেকে সরে এসে ভারতের নতুন কৌশলগত দৃঢ়তা প্রকাশ করে,” সূত্র জানায়।
লস্কর-ই-তৈয়বা ও জইশ-ই-মুহাম্মদের মধ্য ও উচ্চপদস্থ সন্ত্রাসী কমান্ডাররা এই হামলায় নিহত হয়েছে বলে প্রতিরক্ষা সূত্রগুলো জানিয়েছে। এদের মধ্যে প্রশিক্ষক ও লজিস্টিক কর্মকর্তারা ছিল, যারা দীর্ঘদিন নিরাপদে সেখানে কাজ করছিল। অপারেশনের পর গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগের নোডও ধ্বংস হয়েছে, যা শুধু তাদের পরিকল্পনা নয়, ভারতের অভ্যন্তরে সুপ্ত ঘাঁটিগুলোর সঙ্গে যোগাযোগও বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে। ধ্বংস হওয়া ঘাঁটিগুলোর মধ্যে বেশ কয়েকটি সম্প্রতি সীমান্ত পেরিয়ে অনুপ্রবেশের জন্য ব্যবহৃত হয়েছিল।
ভারত সরকার বেসামরিক হতাহতের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছে। তবে জানিয়েছে, প্রতিটি লক্ষ্য অত্যন্ত সাবধানতার সঙ্গে নির্বাচন করা হয়েছিল এবং সরাসরি সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে যুক্ত ছিল। সূত্রগুলো জানায়, সন্ত্রাসীগোষ্ঠীগুলো প্রায়ই জনবহুল এলাকায় নিজেদের ঘাঁটি গড়ে তোলে, ফলে নিরীহ নাগরিকদের সম্পূর্ণভাবে রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়ে। ভারতের তরফে সংযম দেখানো হয়েছে। কিন্তু পাকিস্তান আন্তর্জাতিক সহানুভূতি পেতে বেসামরিক ক্ষয়ক্ষতি বাড়িয়ে বলছে বলে দাবি করেন তারা।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au