আওয়ামী লীগের ৭৭ বছর: রূপান্তরের যে উত্তরাধিকারকে উপেক্ষা করতে পারে না বিশ্ব
মেলবোর্ন, ২৩ জুন- প্রতিষ্ঠার ৭৭ বছর পূর্তি উপলক্ষে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক যাত্রা এবং বাংলাদেশের রাষ্ট্র ও সমাজ গঠনে দলটির ভূমিকা নতুন করে আলোচনায় এসেছে। দেশের…
মেলবোর্ন, ২২ জুন, – ইরানে তিনটি পরমাণু কেন্দ্রে মার্কিন বোমা হামলার পর প্রাথমিক প্রতিশোধ হিসেবে ইসরায়েলজুড়ে ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে দেশটির সেনাবাহিনী।
জেরুজালেম, তেলয়াবিব, হাইফাসহ একাধিক শহরে বহু স্থাপনা বিধ্বস্ত হয়েছে। ক্ষেপণাস্ত্রের বেশিরভাগই ঠেকাতে পারেনি ইসরায়েল-মার্কিন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা।
টাইমস অব ইসরায়েল ও জেরুজালেম পোস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, হামলায় অন্তত ৮৬ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে অনেকের অবস্থা গুরুতর।
বিবিসির সংবাদদাতা বলেছেন, সাম্প্রতিক সময়ে একদিনে এত ধ্বংসযজ্ঞ দেখেনি ইসরায়েল।
ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ডস কর্পস জানিয়েছে, তারা প্রথমবারের মতো ইহুদিবাদী সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিশোধমূলক হামলায় বহুমুখী খেইবারশেকান (দুর্গ ধ্বংসকারী) ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করেছে।
রবিবার আইআরজিসি অপারেশন ট্রু প্রমিজ III-এর অংশ হিসেবে ইহুদিবাদী শাসনের বিরুদ্ধে ইরানের ২০তম আক্রমণের বিস্তারিত বিবরণ দিয়েছে।
এতে বলা হয়েছে যে আক্রমণের সর্বশেষ পর্যায়ে ৪০টি কঠিন এবং তরল জ্বালানি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছিল।
রবিবারের হামলায় প্রথমবারের মতো আইআরজিসি অ্যারোস্পেস ফোর্সের ক্ষেপণাস্ত্রের তৃতীয় প্রজন্মের মাল্টিওয়ারহেড খেইবারশেকান ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে আইআরজিসি। ক্ষেপণাস্ত্রের নির্ভুলতা বৃদ্ধি এবং লক্ষ্যবস্তুতে কার্যকর ও ধ্বংসাত্মক প্রভাব নিশ্চিত করার জন্য আধুনিক ও আশ্চর্যজনক কৌশল ব্যবহার করা হয়েছে বলেও জানিয়েছে আইআরজিসি।
আইআরজিসি জানিয়েছে, ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রগুলি বেন গুরিওন বিমানবন্দর, ইসরায়েলি সরকারের জৈবিক গবেষণা কেন্দ্র এবং এর প্রতিস্থাপন কমান্ড-এন্ড-কন্ট্রোল সেন্টারের মতো বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করেছে।
সসমাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও আরব নিউজে প্রকাশিত প্রতিবেদনে ইসরায়েলের রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় বহু স্থাপনা ধ্বংসের চিত্র উঠে এসেছে।

রবিবারের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় বিধ্বস্ত ভবনের পাশে ইসরায়েলি সেনারা।
বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রগুলিতে চালনাযোগ্য এবং অত্যন্ত বিস্ফোরক ওয়ারহেড ছিল যা ধ্বংসাত্মক প্রভাবের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত পরিচালিত হচ্ছিল।
আইআরজিসি সতর্ক করে বলেছে যে ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর সক্ষমতার প্রধান অংশগুলি এখনও পর্যন্ত পাল্টা আক্রমণে কার্যকর হয়নি।
ইহুদিবাদী সরকার ১৩ জুন ইরানের বিরুদ্ধে বিনা উস্কানিতে আগ্রাসনের যুদ্ধ শুরু করে। তারা ইরানের পারমাণবিক, সামরিক এবং আবাসিক স্থাপনাগুলিতে বিমান হামলা চালিয়েছে যার ফলে ৪০০ জনেরও বেশি ইরানি শহীদ হয়েছেন, যাদের মধ্যে শীর্ষ সামরিক কমান্ডার, পারমাণবিক বিজ্ঞানী এবং সাধারণ নাগরিকও রয়েছেন।
খাইবার শেকান মিসাইল নিয়ে বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, খাইবার ক্ষেপণাস্ত্রটি ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডারের সর্বশেষ মাঝারি পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রগুলির মধ্যে একটি।
আনুষ্ঠানিকভাবে খোররামশহর-৪ নামে পরিচিত। এটি দেশীয়ভাবে উৎপন্ন খোররামশাহর ক্ষেপণাস্ত্র সিরিজের ফোর্থ জেনারেশন।
২০০০ কিলোমিটার পাল্লার খায়বার ক্ষেপণাস্ত্র দেড় হাজার কেজি ওজনের ওয়ারহেড বহনে সক্ষম, যা ইরানের মাঝারি পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রগুলির মধ্যে সবচেয়ে ভারী ওয়ারহেডগুলির মধ্যে একটি এটি।
তরল জ্বালানিচালিত এই ক্ষেপণাস্ত্রটিকে উড়ন্ত অবস্থায়েই নিয়ন্ত্রণ করা যায়।
এর পাশাপাশি বায়ুমণ্ডলের বাইরে ওয়ারহেডের গতিপথ সামঞ্জস্য করার সক্ষমতাও রয়েছে এই ক্ষেপণাস্ত্রটির।
ইরানে নির্মিত এর আগের ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর তুলনায় অনেকটাই নির্ভুলভাবে লক্ষবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম এটি।
প্রযুক্তিগতভাবে খাইবারের সর্বোচ্চ গতি বায়ুমণ্ডলের বাইরে আনুমানিক ম্যাক ১৬। যা শব্দের গতির ১৬ গুণ এবং এর ভেতরে আনুমানিক ম্যাক ৮।
প্রযুক্তিগতভাবে এই ক্ষেপণাস্ত্র এতটাই শক্তিশালী যে প্রচলিত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দিয়ে এই ক্ষেপণাস্ত্র আটকানো বেশ কঠিন।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au