কিয়েভে রাশিয়ার বিমান হামলার পর আগুনের লেলিহান শিখা। ফাইল ছবি/রয়টার্স
মেলবোর্ন, ৩০ জুন— রাশিয়া একযোগে ৫৩৭টি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে ইউক্রেনের বিভিন্ন স্থাপনায় ব্যাপক হামলা চালিয়েছে। এর মধ্যে ইউক্রেনের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ৪৭৫টি শত্রু টার্গেট প্রতিহত করতে সক্ষম হয়েছে বলে দাবি করেছে কিয়েভ।
রবিবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম টেলিগ্রামে দেয়া এক বিবৃতিতে ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী জানায়, এই হামলায় ইরান-নির্মিত শাহেদ কামিকাজে ড্রোন, ক্রুজ মিসাইল এবং ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহৃত হয়েছে। হামলার লক্ষ্য ছিল বেসামরিক এবং গুরুত্বপূর্ণ শিল্প স্থাপনাসমূহ।
বিমান বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, রাতভর আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয়ভাবে কাজ করেছে এবং শত শত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করেছে। প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় না থাকলে প্রাণহানি এবং অবকাঠামোর ক্ষতি আরও ভয়াবহ হতে পারতো।
চেরকাসি, মাইকোলাইভ, দনিপ্রোপেত্রোভস্ক, জাপোরিঝিয়া ও লভিভসহ ইউক্রেনের বিভিন্ন অঞ্চলে বিস্ফোরণ ও ধ্বংসযজ্ঞের খবর পাওয়া গেছে।
চেরকাসি অঞ্চলের গভর্নর ইহর তাবুরেৎস জানান, সেখানে অন্তত ছয়জন আহত হয়েছেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তিনটি বহুতল ভবন ও একটি কলেজ। মাইকোলাইভ ও দনিপ্রোপেত্রোভস্কে শিল্প স্থাপনাও ক্ষতির মুখে পড়েছে।
এদিকে এই রাতভর চলা আকাশ যুদ্ধের সময় একটি এফ-১৬ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হয় এবং শহীদ হন ইউক্রেনীয় পাইলট লেফটেন্যান্ট কর্নেল ম্যাকসিম উস্তিমেঙ্কো। বিমান বাহিনী জানায়, তিনি সাতটি শত্রু টার্গেট ভূপাতিত করার পরই তার বিমানটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়ে যায়।
রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা কুরস্ক ও রোস্তভ সীমান্ত অঞ্চল এবং দখলকৃত ক্রাইমিয়াতে ইউক্রেনের তিনটি ড্রোন ধ্বংস করেছে।
এই টানা হামলার মধ্যেই রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন আবারও শান্তি আলোচনার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন, তবে এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর অগ্রগতি হয়নি।
হামলার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে পোস্টে করে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেন, “যেখানেই জীবনের চিহ্ন আছে, সেখানেই রাশিয়া হামলা চালিয়েছে। তিন বছর ধরে চলা এ যুদ্ধে যে শান্তির ক্ষীণ আশা তৈরি হয়েছিল, তা এ হামলায় চূর্ণ হয়ে গেছে।”
তিনি আরও বলেন, “যতক্ষণ রাশিয়ার হামলার সক্ষমতা থাকবে, ততক্ষণ তারা হামলা চালিয়েই যাবে। বিশ্ব শান্তির আহ্বান জানালেও, পুতিন যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এই আগ্রাসন থামাতে হবে। এর বিরুদ্ধে চাপ প্রয়োগ জরুরি। আমাদের প্রয়োজন ব্যালিস্টিক মিসাইল, ড্রোন ও সন্ত্রাসবাদ থেকে সুরক্ষা—প্রয়োজন শক্তিশালী আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। আমরা মার্কিন প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি কিনতে প্রস্তুত।”
ইউক্রেনের বিমানবাহিনীর যোগাযোগ বিভাগের প্রধান ইউরি ইনহাত জানিয়েছেন, শনিবারের এই হামলা ছিল ইউক্রেনের ওপর রাশিয়ার সবচেয়ে বড় আকারের আকাশ হামলা, যেখানে বিভিন্ন ধরনের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র একসাথে ব্যবহার করা হয়েছে।