প্রিয়জন আর প্রয়োজন। ছবি: মাধবী
লেখা – মাধবী চক্রবর্তী, ঢাকা
কিছু অনুভুতি কিছু কথা, যা মুখে বলা যায় না…। আমরা যারা একটু বেশি অনুভব করি, তারা খুব তাড়াতাড়ি মানুষকে নিজের করে ফেলি। একটু যত্ন, একটু কথা, একটু ভালোবাসা পেলেই ভাবি—এই বুঝি পেলাম সেই মানুষটা, যে পাশে থাকবে…।দুপুরের রোদে ছায়া হয়ে, রাতের কান্নায় নিরব সান্ত্বনা হয়ে। কিন্তু সময় একদিন বুঝিয়ে দেয়—সেই মানুষটা ছিল না হৃদয়ের, সে ছিল সময়ের। সে ছিল আমাদের প্রয়োজন।
এই “প্রয়োজন” শব্দটা অনেক কৌশলী—তাকে আপনি বোঝা যায় না শুরুতে। সে আসে হাসিমুখে, আপন করে, গল্প করে, খেয়াল রাখে…কিন্তু একদিন হয়তো আপনি কিছুই চাননি—শুধু একটু পাশে থাকা। সেই দিন সে হারিয়ে যায়। তখন, ঠিক তখনই বুঝতে শেখা শুরু হয়, প্রিয়জন আর প্রয়োজনের মাঝে একটা অদৃশ্য অথচ গভীর ব্যবধান আছে।
প্রিয়জন কোনো লাভের আশায় পাশে থাকে না। সে পাশে থাকে কারণ—তোমার অস্তিত্বটাই তার কাছে মূল্যবান। তুমি খুশি, তার মনও খুশি। তুমি নীরব, সে চিন্তিত। তুমি কাঁদো, সে সান্ত্বনা দেয়। কখনও শব্দে, কখনও নিঃশব্দে।
আর প্রয়োজন? সে জানতে চায়, তুমি কী দিতে পারো। তুমি কেমন মানুষ, সেটার চেয়ে বড় হয়ে দাঁড়ায়—তুমি কতটা উপকারে আসো। আমরা প্রায়ই নিজেদের জীবন থেকে ভুল মানুষদের জন্য দরজা খুলে রাখি। তারা আসে, ভিতরে বসে পড়ে, গল্প শোনে, গল্প বলে। তাদের জন্য আমরা অপেক্ষা করি, ভাবি তারা একদিন বুঝবে।
কিন্তু প্রয়োজন কখনো প্রিয় হয়ে ওঠে না, সে বরং রেখে যায় একরাশ খালি সময়, কিছু অকারণ কান্না, আর একটা প্রশ্ন—
“আমি কি এতটাই অপ্রয়োজনীয়?” না, তুমি অপ্রয়োজনীয় নও। তুমি হয়তো ভুল দরজায় ভালোবাসা নিয়ে গিয়েছিলে। তুমি প্রিয় হওয়ার মতো নিঃস্বার্থ ছিলে, তুমি হৃদয় দিয়ে ভালোবেসেছিলে—আর ঠিক এই কারণেই, তুমি আঘাত পেয়েছিলে।
এই পৃথিবীটা আজকাল সুবিধাবাদে ভরে গেছে। প্রয়োজনের মানুষের অভাব নেই— তবে প্রিয়জন?
তাকে খুঁজে পেতে গেলে অনেক অভিমান, অনেক একাকিত্ব, অনেক চুপচাপ কষ্ট পার করতে হয়।
আর যদি পেয়ে যাও—তাহলে ধরে রেখো, কারণ সেই মানুষটা হারিয়ে গেলে তার শূন্যতা আর কেউ পূরণ করতে পারে না সবাই পাশে থাকে না ভালোবাসে বলে, অনেকে থাকে কারণ তুমি এখন দরকারি। আর যাদের সত্যিই প্রয়োজন নেই, তারা নিঃস্বার্থভাবে থাকে… কারণ তারা ভালোবাসে।
লেখা – মাধবী চক্রবর্তী, ঢাকা