বেশিরভাগ মানুষ ঘরে থাকলেও অফিসগামী কিছু মানুষ রাস্তায় বের হয়েছেন। ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ১৭ জুলাই-
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে গোপালগঞ্জে উদ্ভূত সহিংস পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলেও শহরের পরিবেশ এখনও থমথমে। সহিংসতার রেশ ধরে শহরে চলছে কারফিউ, মোতায়েন রয়েছে সেনাবাহিনী, র্যাব, পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। ইতোমধ্যে কমপক্ষে ১৪ জনকে আটক করা হয়েছে।
বুধবার (১৬ জুলাই) গোপালগঞ্জ শহরে এনসিপির কর্মসূচিকে ঘিরে ব্যাপক উত্তেজনা ও সংঘর্ষের পর জেলা প্রশাসন রাত ৮টা থেকে কারফিউ জারি করে। কারফিউ বৃহস্পতিবার (১৭ জুলাই) সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত বলবৎ থাকবে বলে জানানো হয়েছে।
শহরের বিভিন্ন সড়কে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে আগের দিনের সহিংসতার চিহ্ন—ইট-পাটকেল, কাটা গাছের গুঁড়ি, ভাঙা তোরণ ও ছিঁড়ে ফেলা ফেস্টুনের টুকরো। ব্যারিকেড তৈরিতে ব্যবহৃত গাছের অংশ এখনও পড়ে আছে রাস্তায়। দোকানপাট বেশিরভাগই বন্ধ, যান চলাচল সীমিত, তবে জরুরি প্রয়োজনে কিছু মানুষকে চলাফেরা করতে দেখা গেছে।
গোপালগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মির মোহাম্মদ সাজেদুর রহমান জানান, বুধবার সন্ধ্যার পর থেকে অন্তত ১৪ জনকে আটক করা হয়েছে। শহরের গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে মোড়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অবস্থান রয়েছে। সেনাবাহিনীর পাশাপাশি বিজিবি, পুলিশ, র্যাব ও আনসার সদস্যরা যৌথভাবে টহল ও অভিযান চালাচ্ছেন। খুলনা থেকে আসা নৌবাহিনীর একটি দলও নিরাপত্তায় যুক্ত হয়েছে।
সকালে শহরের বিভিন্ন এলাকায় আনসার সদস্যদের দেখা গেলেও সেনাবাহিনী বা পুলিশের টহল তেমন চোখে পড়েনি। বেশিরভাগ মানুষ ঘরে থাকলেও অফিসগামী কিছু মানুষ রাস্তায় বের হয়েছেন।
জেলার উচ্চপদস্থ এক পুলিশ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, “পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে থাকলেও স্বাভাবিক বলা যাচ্ছে না। কারফিউ বলবৎ আছে, এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর যৌথ অভিযান চলছে সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে।”