ইতোমধ্যে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের সাতজনসহ মোট ২০ জনকে আটক করা হয়েছে। ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ১৭ জুলাই-
গোপালগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) পদযাত্রাকে কেন্দ্র করে সহিংসতার ঘটনায় থমথমে পরিস্থিতির মধ্যে চলছে সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে যৌথ বাহিনীর গ্রেপ্তার অভিযান। ইতোমধ্যে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের সাতজনসহ মোট ২০ জনকে আটক করা হয়েছে।
বুধবার (১৬ জুলাই) দুপুর থেকে বৃহস্পতিবার (১৭ জুলাই) বিকেল পর্যন্ত চলমান অভিযানে সেনাবাহিনী ১৫ জন এবং পুলিশ ৫ জনকে আটক করেছে বলে নিশ্চিত করেছেন গোপালগঞ্জ জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ড. রুহুল আমিন সরকার। তাৎক্ষণিকভাবে আটক ব্যক্তিদের নাম-পরিচয় জানানো হয়নি।
এর আগে বুধবার বিকেলে এনসিপির ঘোষিত কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে গোপালগঞ্জ শহরে ব্যাপক উত্তেজনা তৈরি হয়। কয়েকটি স্থানে সংঘর্ষ, সড়ক অবরোধ ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। পরে রাত ৮টা থেকে জেলা প্রশাসন পুরো শহরে কারফিউ জারি করে, যা বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত বলবৎ থাকবে বলে জানানো হয়েছে।
শহরের বিভিন্ন সড়কে এখনও আগের দিনের সহিংসতার চিহ্ন স্পষ্ট—ইট-পাটকেল, গাছের গুঁড়ি, ভাঙা তোরণ ও ছেঁড়া ফেস্টুন পড়ে রয়েছে। বেশিরভাগ দোকানপাট বন্ধ এবং যান চলাচল সীমিত, তবে জরুরি প্রয়োজনে কিছু মানুষকে চলাফেরা করতে দেখা গেছে।
গোপালগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মির মোহাম্মদ সাজেদুর রহমান জানিয়েছেন, শহরের গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে মোড়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা অবস্থান নিয়েছে। সেনাবাহিনীর পাশাপাশি পুলিশ, র্যাব, বিজিবি, আনসার এবং খুলনা থেকে আসা নৌবাহিনীর একটি দলও মোতায়েন রয়েছে।
সকাল থেকে শহরের বিভিন্ন এলাকায় আনসার সদস্যদের টহল চোখে পড়লেও সেনা বা পুলিশ সদস্যদের উপস্থিতি কিছুটা কম ছিল। সাধারণ মানুষ নিরাপত্তাজনিত কারণে ঘরে থাকতে চেষ্টা করছেন। তবে কর্মজীবীদের কিছু অংশকে রাস্তায় বের হতে দেখা গেছে।
জেলার এক ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তা জানান, “পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে থাকলেও স্বাভাবিক বলা যাচ্ছে না। কারফিউ বলবৎ রয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর যৌথ অভিযান চলমান রয়েছে সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে।”
গোপালগঞ্জের জনগণ এখনো আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিস্থিতি শান্ত রাখতে সকলকে সহনশীল থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।