নিহত কিশোর ইমন তালুকদার(বামে), তার মা রোকসানা বেগম (ডানে); ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ১৭ জুলাই-
গোপালগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সমাবেশকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে নিহত কিশোর ইমন তালুকদারের বাড়িতে এখন নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। টিনের ছোট ঘরের উঠোনজুড়ে শোকাহত স্বজন ও প্রতিবেশীরা জড়ো হয়েছেন। কেউ সান্ত্বনা দিচ্ছেন, কেউ আবার নিজেই কাঁদছেন। সেই ঘরের এক কোণে বসে আছেন ইমনের মা রোকসানা বেগম—নিঃশব্দ, বাকরুদ্ধ।
ইমন গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার ভেড়ার বাজার গ্রামের বাসিন্দা। তার বয়স ছিল মাত্র ১৭ বছর। স্থানীয় মুন্সি ক্রোকারিজ দোকানে কর্মচারী হিসেবে কাজ করত সে। বুধবার সকালে প্রতিদিনের মতো দোকানে গেলেও মালিক তাকে দেড়শ টাকা দিয়ে বাড়ি পাঠিয়ে দেন। কিন্তু সে বাড়ি না গিয়ে সংঘর্ষস্থলের কাছে চলে যায়। সেখানেই গুলিবিদ্ধ হয় ইমন। পরে স্থানীয়রা তাকে গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন। আজ বৃহস্পতিবার সকালে তাকে গেটপাড়ার পৌর কবরস্থানে দাফন করা হয়।
ইমনের পরিবার জানায়, বড় ভাই অসুস্থ, ছোট ভাই-বোনরা পড়াশোনা করে। পরিবারের একমাত্র ভরসা ছিল ইমন। ইমনই নিজের আয়ে ছোট ভাই-বোনদের লেখাপড়া চালাত। বাবা আজাদ তালুকদার অসুস্থ শরীরে মাঝে মাঝে ভ্যান চালাতেন। ছেলের মৃত্যুর খবরে তিনিও মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে কোথায় চলে গেছেন, কেউ জানে না। এমনকি ছেলের জানাজাতেও ছিলেন না তিনি।
ইমনের মামাতো ভাই রানা ভূঁইয়ার কণ্ঠে শোনা যায় ক্ষোভ আর অসহায়তা—”আমার ভাইটা তো প্রাণভিক্ষা চাইছিল, তারপরও মারল কেন? ভিডিওতে তো সব দেখেছি। গুলি করে মাটিতে ফেলে আবার পাড়ায় নিয়ে গিয়ে মেরেছে।”
প্রতিবেশী রাজু তালুকদার বলেন, “ইমনই এই সংসারের মূল ভরসা ছিল। ওর বাবার পক্ষে সংসার চালানো সম্ভব না। এখন এই পরিবার কীভাবে চলবে?”
সব শুনে কিছু না বলা রোকসানা বেগম হঠাৎই কেঁদে ওঠেন, বলেন, “এখন আমার সংসার বাঁচাবার মতো আর কেউ নাই। বাপও পাগল হইয়া চইলা গেছে। আমার ছেলেরে যেমন গুলি কইরা পাড়ায় মাইরা ফালাইছে, আমি এই হত্যার বিচার চাই।”