আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে বিদায়ের ঘোষণা বেটসের
মেলবোর্ন, ২৫ এপ্রিল- দীর্ঘ দুই দশকের গৌরবময় ক্যারিয়ারের ইতি টানার ঘোষণা দিয়েছেন নিউজিল্যান্ড নারী ক্রিকেট দলের অন্যতম সেরা তারকা সুজি বেটস। আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলেই…
মেলবোর্ন, ২০ জুলাই-
অস্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ড রাজ্যে এমপক্স (Mpox) ভাইরাসের একটি বিরল ধরন ‘ক্লেড ওয়ান’ (Clade I) শনাক্ত হয়েছে। এই ধরনটি আগে কেবল আফ্রিকার নির্দিষ্ট কিছু অঞ্চলে দেখা যেত এবং এটি তুলনামূলকভাবে মারাত্মক ও সংক্রামক। দেশটিতে এই প্রথম ২০২১ সালে সাধারণ ধরনের এমপক্স পাওয়া গেলেও ‘ক্লেড ওয়ান’ এই দ্বিতীয়বার শনাক্ত হলো।
স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, একজন বিদেশফেরত যাত্রীর দেহে ভাইরাসটি ধরা পড়েছে এবং তিনি এখন হোম কোয়ারেন্টাইনে আছেন। তার সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের শনাক্ত করে পরীক্ষার আওতায় আনা হচ্ছে।
স্বাস্থ্য মন্ত্রী সবাইকে আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি জানান, যারা ঝুঁকিপূর্ণ গোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত, তাদের দ্রুত টিকা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কুইন্সল্যান্ডে বিনামূল্যে টিকা দেওয়া হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
এমপক্স সাধারণত ঘন শারীরিক সংস্পর্শের মাধ্যমে ছড়ায় এবং এর উপসর্গগুলোর মধ্যে থাকে জ্বর, গা-ব্যথা, ক্লান্তি ও ত্বকে ফুসকুড়ি। সচেতনতা ও টিকা গ্রহণই এই ভাইরাস প্রতিরোধের প্রধান উপায় বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ।
এমপক্স (Mpox) এক ধরনের ভাইরাসজনিত সংক্রামক রোগ, যা আগে মানকি পক্স (Monkeypox) নামে পরিচিত ছিল। এটি Orthopoxvirus গোত্রের অন্তর্গত একটি ভাইরাসের কারণে হয়, যা Variola (যেটি গুটি বসন্তের জন্য দায়ী) ভাইরাসের ঘনিষ্ঠ আত্মীয়।
এই রোগের প্রথম শনাক্তকরণ হয় ১৯৫৮ সালে গবেষণাগারে রাখা বানরের মধ্যে। এরপর ১৯৭০ সালে আফ্রিকার কঙ্গোতে প্রথম মানব সংক্রমণের ঘটনা ধরা পড়ে। এর দীর্ঘ সময় পরে ২০২২ সালে এটি আফ্রিকা ছাড়িয়ে বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে।
এমপক্স মূলত মানুষ থেকে মানুষে ঘনিষ্ঠ শারীরিক সংস্পর্শ বা ত্বকের ক্ষত/ফুসকুড়ি, মুখের শ্লেষ্মা বা দেহরসের মাধ্যমে ছড়ায়। এছাড়াও ভাইরাসযুক্ত জামাকাপড় বা বিছানার চাদর থেকেও ছড়াতে পারে।
এটির প্রাথমিক লক্ষণগুলো সাধারণ ভাইরাস জ্বরের মতোই— হালকা জ্বর, মাথাব্যথা, পেশিতে ব্যথা, ক্লান্তি ও গলা ব্যথা। পরে ত্বকে ফুসকুড়ি দেখা যায়, যা মুখ, হাত-পা, বুকে বা যৌনাঙ্গে হতে পারে। ফুসকুড়িগুলো প্রথমে ফোলা হয়ে ওঠে, তারপর পুঁজযুক্ত হয় এবং পরে শুকিয়ে গুটিতে রূপ নেয়। পুরো রোগ প্রক্রিয়া সাধারণত ২ থেকে ৪ সপ্তাহ স্থায়ী হয়।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) ২০২২ সালে এমপক্সকে একটি গ্লোবাল পাবলিক হেলথ ইমার্জেন্সি হিসেবে ঘোষণা করে। তবে পরে সংক্রমণ কমে আসায় ওই সতর্কতা তুলে নেওয়া হয়।
এমপক্সের দুটি প্রধান ধরন রয়েছে-
1. Clade I – এটি মধ্য আফ্রিকান বা কঙ্গো বেসিন এলাকা থেকে ছড়ায় এবং তুলনামূলকভাবে বেশি মারাত্মক। মৃত্যুহার ১০ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে।
2. Clade II – এটি পশ্চিম আফ্রিকান ধরন, যা তুলনামূলকভাবে মৃদু এবং বর্তমানে অধিকাংশ বিশ্ব সংক্রমণ এ ধরনেরই।
বিশেষজ্ঞদের মতে, যেসব ব্যক্তিরা আগে গুটি বসন্তের টিকা পেয়েছেন, তাদের ক্ষেত্রে এমপক্সে সংক্রমণের ঝুঁকি তুলনামূলক কম। বর্তমানে কয়েকটি বিশেষ টিকা (যেমন MVA-BN বা Imvamune) এমপক্স প্রতিরোধে ব্যবহৃত হচ্ছে।
যদি কেউ এমপক্সে আক্রান্ত হন, তাহলে তাকে নিভৃতবাসে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়। চিকিৎসা সাধারণত উপসর্গভিত্তিক, তবে মারাত্মক জটিলতার ক্ষেত্রে অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ প্রয়োগ করা হতে পারে।
এমপক্স কোনও নতুন রোগ না হলেও, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এর ছড়িয়ে পড়া জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের জন্য উদ্বেগের বিষয় হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে, যেখানে আগে কখনও এই ভাইরাস ছিল না— সেইসব দেশে নতুন সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au