ইয়েমেনে ভয়াবহ সংঘর্ষ, একদিনেই নিহত ১৪১
ইয়েমেনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার-সমর্থিত বাহিনী ও ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষে অন্তত ১৪১ যোদ্ধা নিহত হয়েছেন। শনিবার দুপুর থেকে রোববার ভোর পর্যন্ত কয়েকটি…
মেলবোর্ন, ২৭ জুলাই- জীবনযাত্রার ব্যয়বৃদ্ধি ও প্রতিশ্রুত সংস্কার বাস্তবায়নে ব্যর্থতার অভিযোগে মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরে প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের পদত্যাগ দাবিতে হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করেছেন। শনিবার (২৬ জুলাই) এই বিক্ষোভে অংশ নেয় কমপক্ষে ১৮ হাজার মানুষ, এমন তথ্য জানিয়েছে দেশটির পুলিশ। বিক্ষোভকারীরা ‘টারুন আনোয়ার’ (পদত্যাগ করুন আনোয়ার) লেখা কালো টি-শার্ট ও ব্যান্ডানা পরে শহরের কেন্দ্র দিয়ে মিছিল করে স্বাধীনতা স্কয়ারে সমবেত হন। সেখানে বিরোধী দলীয় নেতারা বক্তব্য দেন।
২০২২ সালের নভেম্বরে সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় এসেছিলেন আনোয়ার। তবে সম্প্রতি তিনি কর বাড়ানো এবং জ্বালানি ভর্তুকি হ্রাসের মতো পদক্ষেপ নেন, যা জনজীবনে ব্যয় বাড়িয়ে দিয়েছে। সরকার গরিবদের জন্য নগদ সহায়তা ও অন্যান্য সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি ঘোষণা করলেও তা জনগণের ক্ষোভ প্রশমনে ব্যর্থ হয়েছে।
২৩ বছর বয়সী ইসলামিক ছাত্র সংগঠনের সদস্য নূর শাহিরাহ লেমান বলেন, এই কর আরোপ করা হয়েছে উৎপাদনকারীদের ওপর, কিন্তু শেষ পর্যন্ত এর বোঝা সাধারণ ভোক্তাদের কাঁধেই গিয়ে পড়ছে। খাবারের দাম বাড়বে নিশ্চিতভাবেই।

শনিবার এই বিক্ষোভে অংশ নেয় কমপক্ষে ১৮ হাজার মানুষ; ছবিঃ রয়টার্স
এদিকে, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিয়েও প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে। সরকারঘনিষ্ঠ কিছু ব্যক্তির বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলা প্রত্যাহার এবং শীর্ষ বিচারপতি নিয়োগে বিলম্ব—এই দুই ইস্যুতে আনোয়ারকে বিচার বিভাগে হস্তক্ষেপের অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়েছে। যদিও তিনি এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
বিক্ষোভে অংশ নেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদও। চলতি মাসে ১০০ বছরে পা রাখা মাহাথির আনোয়ারের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে হয়রানির অভিযোগ তোলেন। তিনি বলেন, যারা নির্দোষ, তাদের বিরুদ্ধে মামলা হচ্ছে, অপরাধীরা রয়ে যাচ্ছে ধরাছোঁয়ার বাইরে।
আনোয়ার ও মাহাথিরের সম্পর্ক বহুদিন ধরেই মালয়েশিয়ার রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তার করেছে। একসময় অভিভাবক-অনুচরের এই সম্পর্ক পরে তীব্র রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রূপ নেয়। ২০১৮ সালে তারা একসঙ্গে হয়ে দীর্ঘদিনের শাসক বারিসান ন্যাশনাল জোটকে হারালেও মাত্র দুই বছরের মাথায় সেই জোট ভেঙে পড়ে।
বর্তমানে জনগণের অসন্তোষ, মূল্যস্ফীতি এবং সরকারের স্বচ্ছতা নিয়ে উদ্বেগের কারণে আনোয়ার প্রশাসন চাপে রয়েছে। তবে প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম এখনো পদত্যাগের কোনো ইঙ্গিত দেননি এবং তার সরকার এই আন্দোলনকে ‘রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র’ বলে আখ্যা দিয়েছে।
সুত্রঃ রয়টার্স
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au