মেলবোর্নের টানেল প্রকল্পে ব্যর্থতার অভিযোগ, চাপে ভিক্টোরিয়া সরকার
মেলবোর্ন, ২১ এপ্রিল- অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নে নির্মিত ১০ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলারের ওয়েস্ট গেট টানেল প্রকল্প নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। প্রকল্প উদ্বোধনের সময় দেওয়া অন্যতম…
মেলবোর্ন, ৭ জুলাই- প্রবাসে বসবাস করেও মাতৃভূমির শিক্ষা ও মূল্যবোধকে বুকে ধারণ করে সমাজের জন্য কিছু করার নিরন্তর প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা। এই ধারাবাহিকতায় অস্ট্রেলিয়ায় ‘Bangladeshi Hindu Student Association in Australia (BHSAA)’ নামের একটি সংগঠন আয়োজন করেছে এক ব্যতিক্রমী রক্তদান কর্মসূচি, যার মধ্য দিয়ে ফুটে উঠেছে মানবতা, সহমর্মিতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতার অনন্য প্রকাশ।
৬ জুলাই সিডনির একটি রক্তদান কেন্দ্রে আয়োজিত হয় এই কর্মসূচি, যার সময় নির্ধারিত ছিল দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৩টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত। অনুষ্ঠানের মূল স্লোগান ছিল— “Join us to give blood, save lives” — অর্থাৎ, ‘রক্ত দিন, জীবন বাঁচান’। প্রবাসী তরুণদের এই উদ্যোগ অস্ট্রেলিয়ান সমাজে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের ইতিবাচক ভূমিকা ও সচেতনতা বৃদ্ধির একটি স্পষ্ট বার্তা বহন করে।

রক্তদাতাদের তালিকায় ছিলেন একঝাঁক তরুণ-তরুণী, যারা শুধু নিজের নয়, সমাজের মঙ্গলের কথা ভেবে এগিয়ে এসেছেন।
রক্তদানের আগে অংশগ্রহণকারীদের স্বাস্থ্যের প্রাথমিক পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করা হয়। রক্তদাতাদের তালিকায় ছিলেন একঝাঁক তরুণ-তরুণী, যারা শুধু নিজের নয়, সমাজের মঙ্গলের কথা ভেবে এগিয়ে এসেছেন। পর্ণা সাহা, সোহাগ সূত্রধর, জয়দীপ দে মিশন, তন্ময় চৌধুরী, পার্থ শারথি, ইমন দে, নিলয় বণিক, শুভ্রাংশু দাস, সৌরভ পাল, তন্ময় দেবনাথ দিনান্ত, রাহুল কান্তি কর এবং স্বস্তিকা ভট্টাচার্য— এদের প্রত্যেকেই এই আয়োজনের মাধ্যমে একটি বার্তা দিয়েছেন, আর তা হলো— ভালোবাসা, সহমর্মিতা আর সমাজের প্রতি দায়িত্ববোধ কখনো সীমানা মানে না।

এই রক্তদান কর্মসূচি ছিল তাদের প্রথম বৃহৎ উদ্যোগ।
প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের ৭ সেপ্টেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিষ্ঠিত হয় BHSAA। সেই সময় থেকেই সংগঠনটি শুধু একটি ধর্মীয় সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্ব নয়, বরং অস্ট্রেলিয়ান মূলধারায় বাংলাদেশি সংস্কৃতি ও মানবিক মূল্যবোধের প্রতিনিধি হয়ে উঠেছে। নতুন আগত শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানো, চাকরির রেফারেন্স জোগানো, মানসিক সাপোর্ট প্রদানসহ একটি পরিবারের মতো উষ্ণ ও সহানুভূতিশীল পরিবেশ তৈরিতে তাদের ভূমিকা অনস্বীকার্য।
এই রক্তদান কর্মসূচি ছিল তাদের প্রথম বৃহৎ উদ্যোগ, যা সফলভাবে আয়োজনের পর সংগঠনটি ভবিষ্যতে নিয়মিত এ ধরনের কর্মসূচি আয়োজনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। Australian Red Cross Lifeblood-এর সহযোগিতায় আয়োজিত এই উদ্যোগ প্রমাণ করেছে— BHSAA কেবল একটি সংগঠন নয়, এটি একটি সচেতন, দায়িত্ববান ও মানবিক মূল্যবোধে গড়া পরিবার।
এই আয়োজনের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশি তরুণরা দেখিয়ে দিয়েছেন— সমাজের জন্য কিছু করতে হলে বয়স নয়, প্রয়োজন মন বড় হওয়ার। তারা শুধু রক্ত দেননি, দিয়েছেন আশা, সাহস আর একটি মানবিক সমাজ গড়ার সংকল্প।
BHSAA তাদের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম Instagram (bhs.a.a) ও Facebook পেজের মাধ্যমে সমাজের সব স্তরের মানুষকে আহ্বান জানিয়েছে— “মানবতার এই যাত্রায় যুক্ত হোন, রক্ত দিন, জীবন বাঁচান।”
এই রক্তদান কর্মসূচি শুধু একটি দিন বা একটি ইভেন্ট নয়, এটি ছিল একটি বার্তা— যে বার্তা বলেছে, প্রবাসে থেকেও আমরা ভুলিনি কে আমাদের আপন, ভুলিনি দায়িত্ব ও ভালোবাসা। আর এই ভালোবাসাই একদিন গড়বে একটি সুন্দর, সহানুভূতিশীল পৃথিবী।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au