কুমিল্লায় দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার কিশোরী, গ্রেপ্তার ২
মেলবোর্ন, ১৮ জুন- কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছে ১৪ বছর বয়সী এক কিশোরী। ভুক্তভোগীর মায়ের অভিযোগ পেয়ে পুলিশ জড়িতদের গ্রেপ্তার করতে অভিযানে নেমেছে। বুধবার…
মেলবোর্ন, ৪ আগষ্ট- ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে একটি সরকারি চিঠিতে বাংলাকে ‘বাংলাদেশি ভাষা’ হিসেবে উল্লেখ করায় রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। দিল্লির লোদী কলোনি থানার একজন পুলিশ আধিকারিক সম্প্রতি বঙ্গভবনের অফিসার-ইন-চার্জকে পাঠানো এক চিঠিতে এ মন্তব্য করেন। এতে সরব হয়েছে পশ্চিমবঙ্গের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস, যারা এই ঘটনাকে শুধুমাত্র ‘ভুল’ নয়, বরং ‘একটি পরিকল্পিত রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র’ বলে অভিহিত করছে।
চিঠির প্রেরক দিল্লি পুলিশের উপ-পরিদর্শক অমিত দত্ত। অভিযোগ, ওই চিঠিতে বাংলাভাষীদের নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে বাংলা ভাষাকে ‘বাংলাদেশি ভাষা’ বলা হয়। ঘটনাটি সামনে আসার পর তা নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় আলোড়ন সৃষ্টি হয়। বাঙালি সংস্কৃতির অবমাননা এবং ভারতীয় সংবিধানের লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে একের পর এক প্রতিক্রিয়া জানাতে থাকে বিভিন্ন রাজনৈতিক মহল।
তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক ও সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় কড়া ভাষায় প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, “বাংলা কেবল একটি ভাষা নয়, এটি আমাদের পরিচয়, সংস্কৃতি এবং অস্তিত্বের প্রতীক। এটি ভারতীয় সংবিধান স্বীকৃত একটি ভাষা। আর সেটাকেই বিদেশি ভাষা বলে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা হলো! এটা কি নিছকই ভুল? আমি বলব, এটা একটি সুপরিকল্পিত চক্রান্ত—বাঙালিকে নিজেদের দেশেই পরবাসী বানানোর অপচেষ্টা চলছে।”
তৃণমূলের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়, এই ধরণের বক্তব্য বিজেপির দীর্ঘমেয়াদি বাঙালি-বিরোধী মনোভাবেরই প্রতিফলন। তারা অভিযোগ করেছে, এই চিঠির মাধ্যমে বাঙালিদের সন্দেহের চোখে দেখা এবং বাংলাদেশি তকমা লাগিয়ে দেশের নাগরিক হিসেবে তাদের বৈধ অধিকার খর্ব করার একটি পরিকল্পিত প্রচেষ্টা চলছে।
এদিকে বিজেপি এ অভিযোগ মানতে রাজি নয়। পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির সভাপতি শমিক ভট্টাচার্য পাল্টা বক্তব্যে বলেন, “বাংলাদেশি বাংলা এবং ভারতীয় বাংলা এক নয়। শুধু ভাষা দিয়ে কেউ ভারতীয় নাগরিক হয়ে যায় না। বহু বাংলাদেশি ভুয়া পরিচয়পত্র নিয়ে ভারতে ঢুকে পড়ছে, তাদের রুখতেই এমন পদক্ষেপ।”
এই মন্তব্য নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একটি ভাষাকে শুধুমাত্র তার ভূগোল দিয়ে সংজ্ঞায়িত করা অসমীচীন। বাংলা ভাষা ভারতীয় উপমহাদেশের অন্যতম প্রাচীন ও সমৃদ্ধ ভাষা হিসেবে স্বীকৃত। এটি ভারতের ২২টি সংবিধান স্বীকৃত ভাষার মধ্যে অন্যতম। শুধু পশ্চিমবঙ্গ নয়, আসাম, ত্রিপুরা, ঝাড়খণ্ড ও ওড়িশার বিস্তৃত অঞ্চলজুড়ে বাংলাভাষীদের বাস।
ভাষা ও সংস্কৃতির এমন স্পর্শকাতর বিষয়কে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক চাপানউতোর অব্যাহত রয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, আসন্ন নির্বাচন সামনে রেখে ভাষা ও জাতীয়তা নিয়ে এই ধরনের ইস্যু উসকে দিয়ে ভোট-রাজনীতিতে ফায়দা তোলার চেষ্টা চলছে। তবে বিষয়টি নিছক বিতর্কে সীমাবদ্ধ থাকবে না বলেই মত বিশ্লেষকদের—কারণ এটি সরাসরি একটি জনগোষ্ঠীর আত্মপরিচয় এবং সাংবিধানিক অধিকারকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে।
এই পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় সরকারের অবস্থান কী হয়, দিল্লি পুলিশ চিঠি প্রসঙ্গে কী ব্যাখ্যা দেয় এবং এই ইস্যু কতদূর গড়ায়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au