দ্রুতগতির স্রোতে ভেসে গেছে অসংখ্য ঘরবাড়ি ও দোকানপাট। ছবিঃ এনডিটিভি
মেলবোর্ন, ৬ আগষ্ট- ভারতের উত্তরাখণ্ড রাজ্যের উত্তরকাশী জেলার ধরালী গ্রামে ফলে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যার সৃষ্টি হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত অন্তত চারজনের মৃত্যু হয়েছে এবং আহত হয়েছেন আরও অনেকে। দ্রুতগতির স্রোতে ভেসে গেছে অসংখ্য ঘরবাড়ি ও দোকানপাট।
ঘটনার পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, পাহাড়ি ওই এলাকায় প্রবল স্রোতের পানির তোড়ে মানুষ, গাড়ি, দোকানপাটসহ সবকিছু ভেসে যাচ্ছে। আতঙ্কে দৌড়াচ্ছেন স্থানীয়রা। এক ব্যক্তি ভিডিওতে আতঙ্কে চিৎকার করে বলেন, ‘বাপ রে বাপ’, যা সেই মুহূর্তের ভয়াবহতা প্রকাশ করে।
স্থানীয় প্রশাসন জানায়, গঙ্গোত্রী যাওয়ার পথে অবস্থিত ধরালী গ্রামে মেঘ বিস্ফোরণের কারণে হঠাৎ করে পানি নেমে আসে। এতে নদীর পাড়ঘেঁষা হোটেল, রেস্তোরাঁ, দোকান ও ঘরবাড়ি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। জায়গাটি সাধারণত তীর্থযাত্রীদের যাত্রাবিরতির স্থান হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে থাকে।
ভিডিও ফুটেজগুলোতে দেখা গেছে, কাদামাটি মেশানো ভয়াবহ স্রোতের পানি পাহাড় বেয়ে নিচের গ্রাম ও বসতবাড়িগুলোর দিকে ধেয়ে যাচ্ছে। মুহূর্তেই সবকিছু পানির নিচে তলিয়ে যাচ্ছে।
উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামি এই ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করে বলেছেন, ক্ষয়ক্ষতির খবর অত্যন্ত দুঃখজনক ও মর্মান্তিক। তিনি জানান, এসডিআরএফ, এনডিআরএফ ও জেলা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট বাহিনীগুলো উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে নিয়োজিত রয়েছে এবং তিনি নিজে পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন।
ইন্দো-তিব্বত সীমান্ত পুলিশ (আইটিবিপি)-এর ১২তম ব্যাটালিয়নের একটি ১৬ সদস্যের দল ইতোমধ্যেই ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে। আরও ইউনিট পাঠানো হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে। পাশাপাশি নদীর তীরবর্তী এলাকা থেকে মানুষজনকে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে প্রশাসন। শিশু ও গবাদিপশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও আহ্বান জানানো হয়েছে।
বন্যাকবলিত এলাকাগুলোতে ত্রাণ ও উদ্ধার তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। তবে পাহাড়ি এলাকায় সড়ক যোগাযোগে বিঘ্ন ঘটায় উদ্ধার কাজ অনেকটাই চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। স্থানীয়রা আশঙ্কা করছেন, মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
সুত্রঃ এনডিটিভি