আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে বিদায়ের ঘোষণা বেটসের
মেলবোর্ন, ২৫ এপ্রিল- দীর্ঘ দুই দশকের গৌরবময় ক্যারিয়ারের ইতি টানার ঘোষণা দিয়েছেন নিউজিল্যান্ড নারী ক্রিকেট দলের অন্যতম সেরা তারকা সুজি বেটস। আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলেই…
মেলবোর্ন, ১৯ আগষ্ট- ইসরায়েল দখলকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড থেকে অস্ট্রেলিয়ার কূটনীতিকদের বহিষ্কার করেছে। ইসরায়েলের অভিযোগ, অস্ট্রেলিয়া ইহুদিবিদ্বেষ উসকে দিচ্ছে। তবে অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী পেনি ওয়ং এ সিদ্ধান্তকে “অযৌক্তিক” বলে মন্তব্য করেছেন।
গত রাতে ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদেওন সা’আর ঘোষণা দেন, অস্ট্রেলীয় কূটনীতিকদের ভিসা বাতিল করা হয়েছে। তিনি বলেন, অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার ঘোষণা এবং এক কট্টর-ডানপন্থি ইসরায়েলি রাজনীতিককে অস্ট্রেলিয়ায় প্রবেশে নিষেধাজ্ঞার কারণেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
গিদেওন সা’আর আরও বলেন, অস্ট্রেলিয়ার নতুন ভিসা আবেদনগুলো এখন থেকে সতর্কভাবে পরীক্ষা করা হবে। তার অভিযোগ, “অস্ট্রেলিয়ায় ইহুদিবিদ্বেষ বাড়ছে, ইহুদি সম্প্রদায় ও প্রতিষ্ঠানগুলো হামলার শিকার হচ্ছে। অথচ সরকার ভুয়া অভিযোগ তুলে ইহুদিবিদ্বেষ উসকে দিচ্ছে, যেন ইসরায়েলি নেতাদের সফরে অস্ট্রেলিয়ার মুসলিম জনসংখ্যা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এটা লজ্জাজনক এবং অগ্রহণযোগ্য।”
অন্যদিকে, অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী পেনি ওয়ং বলেছেন, ইসরায়েলের এ পদক্ষেপ তাদের ফিলিস্তিন স্বীকৃতির সিদ্ধান্তের “অযৌক্তিক প্রতিক্রিয়া”। তিনি বলেন, “এই সময়ে সংলাপ ও কূটনীতি প্রয়োজন, অথচ নেতানিয়াহুর সরকার ইসরায়েলকে আরও বিচ্ছিন্ন করছে এবং শান্তি ও দুই-রাষ্ট্র সমাধানের প্রচেষ্টাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।”
ওয়ং আরও জানান, অস্ট্রেলিয়া ইহুদিবিদ্বেষ দমনে পদক্ষেপ চালিয়ে যাবে এবং আন্তর্জাতিকভাবে দুই-রাষ্ট্র সমাধান, গাজায় যুদ্ধবিরতি ও জিম্মিদের মুক্তির প্রচেষ্টায় ভূমিকা রাখবে।
অস্ট্রেলিয়ার প্রতিনিধি বেথানি র্যান্ডাল, যিনি পশ্চিম তীরের রামাল্লায় অবস্থান করছেন, এ বিষয়ে এখনও কোনো মন্তব্য করেননি।
এর আগে কট্টর-ডানপন্থি ইসরায়েলি এমপি সিমচা রোথম্যানকে ভিসা দিতে অস্ট্রেলিয়া অস্বীকার করে। রোথম্যান দাবি করেন, এটি “স্পষ্ট ইহুদিবিদ্বেষ” এবং এতে “সন্ত্রাসবাদ উৎসাহিত হবে”। তবে অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টনি বার্ক বলেন, “যদি কেউ অস্ট্রেলিয়ায় ঘৃণা ও বিভাজনের বার্তা ছড়াতে আসে, আমরা তাকে চাই না।”
অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী আলবানিজ সম্প্রতি বলেন, “মধ্যপ্রাচ্যে সহিংসতার চক্র ভাঙতে এবং গাজায় সংঘাত, দুঃখ-কষ্ট ও ক্ষুধা বন্ধ করতে দুই-রাষ্ট্র সমাধানই মানবতার শ্রেষ্ঠ আশা।” অস্ট্রেলিয়া এরই মধ্যে পশ্চিমা মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে যৌথভাবে যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়েছে এবং সহিংসতায় উসকানি দেওয়া অভিযোগে ইসরায়েলের দুই মন্ত্রীকে নিষেধাজ্ঞার আওতায় এনেছে।
এদিকে, আরব মধ্যস্থতাকারীদের নতুন যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব গ্রহণ করেছে হামাস, তবে এটির জন্য ইসরায়েলের অনুমোদন প্রয়োজন। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, টানা ২২ মাসের যুদ্ধে ফিলিস্তিনিদের মৃতের সংখ্যা ৬২ হাজার ছাড়িয়েছে।
অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে লিখেছেন, “জিম্মিদের ফেরত পাওয়া যাবে কেবল তখনই, যখন হামাসকে সম্পূর্ণ ধ্বংস করা হবে। যত দ্রুত এটা ঘটবে, সফলতার সম্ভাবনাও তত বাড়বে।”
সুত্রঃ নাইন নিউজ ও এপি
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au