ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে ফুল দিতে এসে গ্রেপ্তার ৪, সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা
মেলবোর্ন, ৭ মার্চ- ঐতিহাসিক ৭ মার্চ উপলক্ষে ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে ফুল দিতে এসে পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছেন চারজন। তাদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দিয়ে আদালতে…
মেলবোর্ন, ২৩ আগষ্ট- বিভুরঞ্জন সরকারের খোলা চিঠির আলোকে
বাংলাদেশের গণমাধ্যম আজ চরম অন্ধকারে নিমজ্জিত। প্রবীণ সাংবাদিক বিভুরঞ্জন সরকারের খোলা চিঠি যেন এক মর্মস্পর্শী দলিল—সত্য বলার যে মূল্য জীবন দিয়ে দিতে হয়, তার জ্বলন্ত প্রমাণ। প্রবীণ এই সাংবাদিক এই খোলা কলাম লিখতে গিয়ে কতই না অঝোরে কেঁদেছেন! তাঁর কান্না শুধু তাঁর ব্যক্তিগত যন্ত্রণার নয়, এটি বাংলাদেশের সাংবাদিকতার দীর্ঘ সংগ্রাম ও আজকের লাঞ্ছনার প্রতীক। কলম হাতে নিয়ে এক জীবনের সংগ্রাম, কিন্তু শেষপ্রান্তে এসে তাঁর অভিজ্ঞতা আমাদের সামনে এক ভয়াবহ সত্য উন্মোচন করেছে—এই দেশে সত্য প্রকাশ করা মানেই মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়া।
এখন আর গুম করার প্রয়োজন হয় না। এমন এক কৌশল সাজানো হয়েছে, যাতে সাংবাদিকরা নিজেরাই ভেঙে পড়েন, নিজেরাই হার মানেন। এই নিখুঁত পরিকল্পনা, এই “মেটিকুলাস ডিজাইন” আমাদের রাষ্ট্রকে কোথায় নিয়ে গেছে তা বোঝার জন্য আর প্রমাণের দরকার নেই। মিডিয়ার যে স্বাধীনতার স্বপ্ন নিয়ে দেশ স্বাধীন হয়েছিল, তা আজ ধূলিসাৎ। সত্য বলার অপরাধে সাংবাদিক হয় নিহত হচ্ছেন, নয়তো এমন এক যন্ত্রণার মধ্যে পড়ছেন যেখানে জীবনকে শেষ করে দেওয়াই একমাত্র মুক্তির পথ মনে হয়।
সবচেয়ে ভয়ঙ্কর হলো গণমাধ্যমের ভিতরকার বিশ্বাসঘাতকতা। প্রথম আলো, ডেইলি স্টার, যমুনা টিভি—এই তথাকথিত বড় মিডিয়াহাউসগুলো ইতিহাসের কাঠগড়ায় অপরাধী। তারা নীরব থেকেছে, পক্ষ নিয়েছে, সত্য আড়াল করেছে। তারা যদি সত্যের পক্ষে দাঁড়াত, তবে হয়তো বিভুরঞ্জন সরকারের মতো একজন মানুষকে জীবনের শেষ প্রান্তে এসে এই আর্তনাদ লিখতে হতো না। আজকের এই নীরবতা, এই ভীরুতা আগামী প্রজন্মের সাংবাদিকতার জন্য অভিশাপ হয়ে থাকবে।
বিভুরঞ্জন সরকারের খোলা চিঠি আমাদের বিবেককে নাড়া দেওয়ার জন্য যথেষ্ট। এটি কেবল একটি চিঠি নয়, এটি এক অগ্নিপত্র—যা আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ, জনগণের অধিকার এবং সাংবাদিকতার মৌলিক দায়িত্ব কতটা পদদলিত হয়েছে। তাঁর লেখা যেন শেষ রক্তবিন্দুর স্বাক্ষর, যেখানে চোখের জলে মিশেছে জীবনের অভিমান, অনিশ্চয়তা এবং সত্যের প্রতি অটল ভালোবাসা।
আজ আমরা গভীর শোক প্রকাশ করছি। সাংবাদিক বিভুরঞ্জন সরকারের এই আত্মত্যাগ বাংলাদেশের সাংবাদিকতার ইতিহাসে এক কালো অধ্যায় হিসেবে লিপিবদ্ধ হলো। তাঁর প্রতি রইল আমাদের হৃদয়ের অন্তঃস্থল থেকে শ্রদ্ধাঞ্জলি। আমরা সমবেদনা জানাই তাঁর পরিবারকে—যারা এই লড়াইয়ের নীরব সহযোদ্ধা ছিলেন। তাঁর অশ্রু, তাঁর কান্না, তাঁর কলমে লেখা শেষ সত্য আমাদের পথ দেখাক।
বাংলাদেশের সাংবাদিকতার এই মৃত্যু আমরা যদি নীরবে মেনে নেই, তবে ইতিহাস আমাদের ক্ষমা করবে না। আজ আমাদের অঙ্গীকার করতে হবে—সত্যের পক্ষে, সাহসের পক্ষে, স্বাধীন সাংবাদিকতার পক্ষে আবার দাঁড়াবো। বিভুরঞ্জন সরকারের আত্মত্যাগ বিফলে যেতে দেওয়া যাবে না।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au