অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ। ছবিঃ নাইন নিউজ
মেলবোর্ন, ২৬ আগষ্ট- অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি অ্যালবানিজ ইরানের বিরুদ্ধে সিডনি ও মেলবোর্নে দুটি ইহুদি বিরোধী হামলার নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগ করেছেন এবং ক্যানবেরায় নিযুক্ত ইরানি রাষ্ট্রদূতকে বহিষ্কারের ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি এটিকে অস্ট্রেলিয়ার সামাজিক সম্প্রীতি নষ্ট করার উদ্দেশ্যে বিদেশি রাষ্ট্রের পরিচালিত বিপজ্জনক আগ্রাসন বলে উল্লেখ করেন।
অ্যালবানিজ জানান, ইরানি রাষ্ট্রদূতকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত ইতিমধ্যে জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে তেহরানে অস্ট্রেলিয়ার দূতাবাসের কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে এবং কূটনীতিকদের তৃতীয় দেশে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এছাড়া অস্ট্রেলিয়া ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসকে (আইআরজিসি) সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করবে বলেও ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।
অস্ট্রেলীয় কর্তৃপক্ষ জানায়, গত বছর সিডনির লুইস কনটিনেন্টাল কিচেন এবং মেলবোর্নের আদাস ইসরায়েল সিনাগগে অগ্নিসংযোগ করা হয়েছিল। প্রাণহানি না হলেও উভয় স্থানে ব্যাপক ক্ষতি হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী পেনি ওয়ং জানান, ইরানি রাষ্ট্রদূত আহমদ সাদেগি ও তাঁর তিন সহকর্মীকে ‘পারসোনা নন গ্রাটা’ ঘোষণা করে সাত দিনের মধ্যে দেশ ছাড়তে বলা হয়েছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এই প্রথম অস্ট্রেলিয়া কোনো রাষ্ট্রদূতকে বহিষ্কার করল।
অস্ট্রেলিয়ার গোয়েন্দা সংস্থা এএসআইও’র প্রধান মাইক বার্গেস জানান, ক্যানবেরায় নিযুক্ত ইরানি কূটনীতিকরা সরাসরি জড়িত না হলেও প্রমাণ রয়েছে যে আইআরজিসি মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে এ হামলার নির্দেশ দিয়েছে। প্রক্সি নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে তারা নিজেদের সম্পৃক্ততা গোপন করার চেষ্টা করেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। এছাড়া গাজায় যুদ্ধ শুরুর পর থেকে অস্ট্রেলিয়ায় সংঘটিত অন্যান্য ইহুদি বিরোধী হামলায়ও আইআরজিসি জড়িত কিনা তা তদন্ত করা হচ্ছে।
এই ঘটনায় অস্ট্রেলিয়া–ইসরায়েল সম্পর্ক আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। সম্প্রতি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু অ্যালবানিজকে “দুর্বল রাজনীতিবিদ” বলে অভিযোগ করেছিলেন যে তিনি ইসরায়েলকে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন। এর জবাবে অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টনি বার্ক বলেন, শক্তির প্রমাণ বোমা হামলায় বা শিশুদের না খাইয়ে রাখায় নয়।
এর আগে অস্ট্রেলিয়া ইসরায়েলের চরম ডানপন্থী রাজনীতিক সিমচা রথমানের ভিসা বাতিল করে। এর প্রতিক্রিয়ায় ইসরায়েলও অস্ট্রেলীয় কূটনীতিকদের ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের এলাকায় ভিসা বাতিল করেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, অ্যালবানিজ সরকার ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিয়ে দেশে ইহুদি সম্প্রদায়ের কাছে কঠোর অবস্থান প্রদর্শন করছে। তবে গোয়েন্দা তথ্যের গুরুত্বও অবহেলা করা যাবে না, কারণ কোনো রাষ্ট্র সরাসরি অস্ট্রেলিয়ায় হামলা পরিচালনার নির্দেশ দিয়েছে—এটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। বিশ্লেষকদের মতে, আইআরজিসিকে সন্ত্রাসী সংগঠন ঘোষণা ও ইরানি কূটনীতিকদের বহিষ্কার ইরানের কার্যক্রম সীমিত করবে এবং ভবিষ্যতে তাদের পক্ষে গোপনে তৎপরতা চালানো কঠিন হয়ে উঠবে।
সুত্রঃ আল জাজিরা