নিহত দুই পুলিশ সদস্য। ছবিঃ নাইন নিউজ
মেলবোর্ন, ২৭ আগষ্ট- অস্ট্রেলিয়ার ভিক্টোরিয়া রাজ্যের গ্রামীণ শহর পোরেপাঙ্কায় পুলিশের ওপর ভয়াবহ হামলার ঘটনায় অভিযুক্ত বন্দুকধারী ডেজি ফ্রিম্যান এখনও পলাতক রয়েছেন। এ ঘটনায় দুই পুলিশ কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন এবং একজন আহত হয়েছেন। ঘটনার পর টানা দ্বিতীয় রাতেও চলছে ব্যাপক মানবশিকার অভিযান।
গতকাল সকালে পুলিশ তার সম্পত্তিতে একটি পরোয়ানা কার্যকর করতে গেলে ফ্রিম্যান গুলি চালান বলে অভিযোগ উঠেছে। নিহত দুই কর্মকর্তা হলেন ডিটেকটিভ লিডিং সিনিয়র কনস্টেবল নীল থম্পসন এবং সিনিয়র কনস্টেবল ভাদিম দে ওয়ার্ট। এরপর থেকে শত শত পুলিশ সদস্য পোরেপাঙ্কার বন ও পার্বত্য এলাকায় চিরুনি অভিযান চালাচ্ছেন।
ভিক্টোরিয়ার প্রিমিয়ার জেসিন্তা অ্যালান স্থানীয়দের একত্রিত হয়ে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “এখন ঐক্যের সময়। আমাদের পুলিশ এবং জরুরি সেবার কর্মীদের পাশে দাঁড়াতে হবে।”
পুলিশ জানিয়েছে, ফ্রিম্যান স্থানীয় এলাকা সম্পর্কে অত্যন্ত অভিজ্ঞ, যা তাকে খুঁজে পাওয়া কঠিন করে তুলেছে। ভিক্টোরিয়া পুলিশের প্রধান কমিশনার মাইক বুশ বলেন, “সে এই অঞ্চল আমাদের চেয়েও ভালো জানে। তবে আমাদের বিশেষজ্ঞ টিম কাজ করছে।” তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, ফ্রিম্যান খোঁজ এড়াতে বিভিন্ন ফাঁদ পেতে রাখতে পারে।

অভিযুক্ত বন্দুকধারী এখনো পলাতক থাকায় প্রায় এক হাজার মানুষের ছোট্ট এই শহরে বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ছবিঃ নাইন নিউজ
এদিকে স্থানীয়রা আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। অনেকেই বলছেন, “ও যে কোনো জায়গায় থাকতে পারে। তাকে খুঁজে পাওয়া খুব কঠিন হবে।” পুলিশ আশঙ্কা করছে, ফ্রিম্যানের কাছে একাধিক শক্তিশালী আগ্নেয়াস্ত্র রয়েছে।
পুলিশ নিশ্চিত করেছে, ফ্রিম্যানের সঙ্গী ও সন্তানরা নিরাপদে আছেন। তবে স্থানীয়দের সতর্ক করে বলা হয়েছে, বাইরে না বের হতে এবং কোনোভাবেই ফ্রিম্যানকে আশ্রয় বা সহায়তা না দিতে। কমিশনার বুশ বলেন, “সে দুই পুলিশকে হত্যা করেছে, একজনকে আহত করেছে। তার কোনো সহায়তা পাওয়ার অধিকার নেই।”
কে এই ডেজি ফ্রিম্যান?
ডেজি ফ্রিম্যান নিজেকে তথাকথিত “সার্বভৌম নাগরিক” বলে পরিচয় দেন। অস্ট্রেলিয়ান ফেডারেল পুলিশের মতে, এ ধরনের ব্যক্তি সমাজ থেকে নিজেদের আলাদা রাখতে চায় এবং কর প্রদানসহ সামাজিক দায়িত্ব মানতে অস্বীকৃতি জানায়।
কোর্টের নথি অনুযায়ী, ফ্রিম্যান পুলিশকে “নাজি”, “গেস্টাপো” ও “সন্ত্রাসী” বলে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি ২০২৪ সালের নভেম্বর মাসে ট্রাফিক মামলায় ভিক্টোরিয়া সুপ্রিম কোর্টে পুলিশের বিরুদ্ধে মামলা করেছিলেন। এমনকি একবার আদালতে হাজির হয়ে একজন ম্যাজিস্ট্রেট ও কয়েকজন পুলিশকে নিজেই “গ্রেপ্তার” করার চেষ্টা করেছিলেন।
এখনও পুরো এলাকা পুলিশের কড়া নজরদারিতে রয়েছে এবং প্রশাসন স্থানীয়দের ঘরে থাকার নির্দেশ দিয়েছে। স্থানীয় স্কুল বন্ধ রাখা হলেও আগামীকাল থেকে তা পুনরায় খোলার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
সুত্রঃ নাইন নিউজ