প্রকাশিত ভিডিওগুলোতে দেখা গেছে, কর্মীদের মাথায় ঘুষি মারা হচ্ছে, লাথি মারা হচ্ছে, ছুরি দিয়ে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। ছবিঃ নাইন নিউজ
মেলবোর্ন, ৩১ আগষ্ট- অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন খুচরা দোকানে কর্মরতরা প্রতিদিনই গ্রাহকদের হাতে সহিংসতার মুখোমুখি হচ্ছেন। এ সংক্রান্ত কয়েকটি ভয়াবহ ভিডিও প্রকাশ করেছে খুচরা ব্যবসায়ীরা। ভিডিওগুলোতে দেখা গেছে, কর্মীদের মাথায় ঘুষি মারা হচ্ছে, লাথি মারা হচ্ছে, ছুরি দিয়ে হুমকি দেওয়া হচ্ছে—শুধু কাজ করার সময়ই এসব ঘটছে।
অস্ট্রেলিয়ার বড় খুচরা প্রতিষ্ঠান উলওয়ার্থস এই ভিডিও প্রকাশ করেছে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য, কারণ দোকানভিত্তিক সহিংসতা ক্রমশ বাড়ছে।
অস্ট্রেলিয়ার মাস্টার গ্রোসার্সের কর্মকর্তা লিংকন ওয়াইমার বলেন, “আমার এক দোকানে পাঁচজন ঢুকে পড়ে টাকা খুঁজতে গিয়ে কর্মীদের ভয় দেখিয়েছে। আমাদের কর্মীরা এতটাই আতঙ্কিত যে কাজে আসতেও ভয় পাচ্ছেন।”
জাতীয় খুচরা ব্যবসায়ী সমিতির তথ্য অনুযায়ী, গত বছর দেশজুড়ে ৮ লাখেরও বেশি সহিংসতার ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে। তিন বছরের ব্যবধানে সহিংসতার ঘটনা প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে বলে জানায় খুচরা ব্যবসায়ী ইউনিয়ন।
কিছু ইতিবাচক পরিবর্তন হয়েছে বলে দাবি করছে ইউনিয়নগুলো। নিউ সাউথ ওয়েলস, সাউথ অস্ট্রেলিয়া ও ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ায় সহিংসতার শাস্তি বাড়ানো হয়েছে। তবে খুচরা ব্যবসায়ীরা চাইছে সরকার আরও এক ধাপ এগিয়ে যাক। তারা চাইছে, যারা আগে দোকানে সহিংসতা চালিয়েছে, তাদের যেন আর কোনো দোকানে প্রবেশ করতে না দেওয়া হয়।
এ বিষয়ে এসডিএ ইউনিয়নের জাতীয় সম্পাদক জেরার্ড ডুয়ার বলেন, “অস্ট্রেলিয়ান ক্যাপিটাল টেরিটরিতে কর্মক্ষেত্র সুরক্ষা আদেশ চালু হওয়ার পর পুনরাবৃত্ত অপরাধ ব্যাপকভাবে কমেছে। এতে মুখ শনাক্তকরণ প্রযুক্তিও কার্যকর হতে পারে।”
এদিকে, উলওয়ার্থস জানিয়েছে, তাদের অনেক কর্মী এখন নিজেদের নিরাপত্তার জন্য শরীরে লাগানো ক্যামেরা ব্যবহার করছেন।
নিউ সাউথ ওয়েলসের কর্মক্ষেত্র স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তামন্ত্রী সোফি কটসিস বলেন, “এটা বিশেষ করে কিশোর কর্মীদের জন্য ভয়াবহ। এটাই তাদের প্রথম চাকরি, অথচ তাদেরকে গালিগালাজ, অনুসরণ ও ভয়ভীতি সহ্য করতে হচ্ছে। এটা একেবারেই লজ্জাজনক।”
খুচরা ব্যবসায়ীরা আশা করছে, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে যাতে কর্মীরা নিরাপদে কাজ করতে পারেন।
সুত্রঃ নাইন নিউজ