অভিবাসনবিরোধী সমাবেশে সংঘর্ষ এড়াতে আশাবাদী কর্তৃপক্ষ। ছবি: কন ক্রোনিস/এএপি ফটোস
মেলবোর্ন, ৩১ আগষ্ট- সম্ভাব্য অভিবাসীবিরোধী ও বর্ণবাদবিরোধী সমাবেশ নিয়ে অস্ট্রেলিয়ায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। রাজধানীসহ বিভিন্ন শহরে রবিবার নির্ধারিত এসব বিক্ষোভে শ্বেতাঙ্গ জাতীয়তাবাদী উগ্রপন্থীদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ পাওয়া গেছে, যা দেশজুড়ে সহিংসতা ও সামাজিক অস্থিরতার ঝুঁকি বাড়াতে পারে বলে সতর্ক করেছেন সন্ত্রাসবাদ বিষয়ক বিশেষজ্ঞরা।
অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে—“ঘৃণার কোনও স্থান অস্ট্রেলিয়ায় নেই।”
“মার্চ ফর অস্ট্রেলিয়া” নামের সংগঠনটি এই বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে। তারা বলছে, সরকারের উচিত “বৃহৎ আকারের অভিবাসন” অবসান ঘটানো। অস্ট্রেলিয়ান ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সন্ত্রাসবাদ গবেষক মাইকেল জেকুলিন সতর্ক করে বলেছেন, কোনও গোষ্ঠী অন্যকে দায়ী করতে শুরু করলে সহজেই সংঘর্ষের জন্ম হতে পারে। তাঁর ভাষায়, “যখন মানুষ অন্য গোষ্ঠীকে নিজেদের সমস্যার জন্য দায়ী করতে শুরু করে, তখন বিষয়টি বিপজ্জনক হয়ে ওঠে। যদি মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়, তবে তা আরও বড় আকার নিতে পারে।”
ভিক্টোরিয়া পুলিশ মেলবোর্ন সিবিডিকে ‘ডিজাইনেটেড এরিয়া’ ঘোষণা করেছে, যেখানে অস্ত্র অনুসন্ধান বা মুখোশ খোলার মতো বিশেষ ক্ষমতা প্রয়োগ করা যাবে।
সিডনি ও মেলবোর্নে একই সময়ে বর্ণবাদবিরোধী মিছিলও অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে প্রতিদ্বন্দ্বী গোষ্ঠীগুলো মুখোমুখি হতে পারে। নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশ জানিয়েছে, তারা অভ্যন্তরীণ শহর এলাকায় নজরদারির জন্য এক হাজার কর্মকর্তা মোতায়েন করবে। ভিক্টোরিয়া পুলিশ মেলবোর্ন সিবিডিকে ‘ডিজাইনেটেড এরিয়া’ ঘোষণা করেছে, যেখানে অস্ত্র অনুসন্ধান বা মুখোশ খোলার মতো বিশেষ ক্ষমতা প্রয়োগ করা যাবে।
ড. জেকুলিন আরও বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম উগ্রবাদী গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে অনুকরণমূলক আচরণ উৎসাহিত করছে। “তারা অনলাইনে একে অপরের কর্মকাণ্ড দেখে এবং নিজেদের মধ্যে অনুকরণ করতে শুরু করে,” মন্তব্য করেন তিনি।
ভারতীয় অভিবাসী শ্রমিকরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে তারা এ ধরনের অভিবাসীবিরোধী সমাবেশে সরাসরি লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হতে পারেন।
অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে—“ঘৃণার কোনও স্থান অস্ট্রেলিয়ায় নেই।”
বিরোধী জোটও দেশব্যাপী ঐক্য ও বহুত্ববাদকে সম্মান জানানোর আহ্বান জানিয়েছে এবং শঙ্কা প্রকাশ করেছে যে নির্দিষ্ট অশ্বেতাঙ্গ সম্প্রদায়গুলোকে লক্ষ্য করা হতে পারে। বিরোধী নেতা সুসান লে শনিবার বলেছেন, “বিদেশ থেকে উস্কানি আসুক বা এখানকার ভেতর থেকে—আমরা ঘৃণা ও ভয়কে আমাদের সামাজিক বন্ধন ছিন্ন করতে দিতে পারি না। শক্তিশালী সীমান্ত আমাদের নিরাপদ রাখে, কিন্তু একইসাথে এটি আমাদেরকে সংঘাতপীড়িত মানুষদের প্রতি দয়াশীল ও সহানুভূতিশীল হওয়ার সুযোগ দেয়। এটাই অস্ট্রেলিয়ার গল্প।”
গ্রিনস দলের অভিবাসনবিষয়ক মুখপাত্র ডেভিড শুব্রিজ বলেন, সংসদ ও গণমাধ্যমে অভিবাসীবিরোধী বক্তব্য উগ্রবাদী মতাদর্শকে উসকে দিয়েছে। “আমরা প্রতিটি সম্প্রদায়ের পাশে আছি যারা এই ঘৃণামূলক সমাবেশ নিয়ে উদ্বিগ্ন ও লক্ষ্যবস্তু হয়েছে,” তিনি যোগ করেন।
সূত্র: অস্ট্রেলিয়ান অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (AAP)