লিবারেল সিনেটর জ্যাসিন্তা নাম্পিজিনপা প্রাইস। ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ৪ সেপ্টেম্বর- অস্ট্রেলিয়ার আলবানিজ সরকার লিবারেল সিনেটর জ্যাসিন্তা নাম্পিজিনপা প্রাইসের মন্তব্যকে কড়া ভাষায় প্রত্যাখ্যান করেছে। গত বুধবার এবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি অভিযোগ করেছিলেন যে লেবার সরকার ভোটব্যাংক বাড়াতে ভারত থেকে অভিবাসী নিয়ে আসছে।
অস্ট্রেলিয়ার মাল্টিকালচারাল বিষয়ক মন্ত্রী অ্যান এলি জানিয়েছেন, গত সপ্তাহে অনুষ্ঠিত অ্যান্টি-ইমিগ্রেশন সমাবেশের পর ভারতীয় প্রবাসীরা নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং “কিছু রাজনৈতিক নেতার মন্তব্য তাদের ভয়কে আরও বাড়িয়েছে এবং নিরাপত্তাবোধকে ভেঙে দিয়েছে।”
তিনি সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে বলেন,
“আমরা যদি মানুষকে কেবল দাঁতে দাঁত চেপে সহ্য করার মানসিকতা নিয়ে দেখি, পারস্পরিক সম্মানের ভিত্তিতে না দেখি, তবে আমাদের সামাজিক সংহতি দুর্বলই থেকে যাবে। ভারতীয়-অস্ট্রেলিয়ানদের উদ্দেশ্যে আমি বলতে চাই—এই দেশ আপনারও। আপনাদের এখানে থাকার বৈধতা প্রমাণ করতে হবে না। আমরা আপনাদের চিনি, মূল্য দিই এবং আপনাদের অবদানকে কৃতজ্ঞচিত্তে স্বীকৃতি জানাই—ব্যবসা, রাজনীতি, চিকিৎসা পেশা, সমাজসেবা এবং অর্থনীতির প্রতিটি ক্ষেত্রে।”
বিরোধী দলীয় নেতা সুসান লেও প্রাইসের মন্তব্য থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে নেন।
প্রাইস এবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দাবি করেছিলেন, আলবানিজ সরকার ভোটের স্বার্থে “বড় সংখ্যায়” ভারতীয় অভিবাসী আনছে। তবে প্রোগ্রাম শেষে তিনি পিছু হটে বলেন, অস্ট্রেলিয়ার অভিবাসন নীতি দীর্ঘদিনের দ্বিদলীয় ও বৈষম্যহীন। কিন্তু পরদিন আবার তিনি জানান, ক্ষমাপ্রার্থনার কিছু নেই।
তিনি দাবি করেন, “অস্ট্রেলিয়ায় ভারতীয় অভিবাসীরা দ্বিতীয় বৃহত্তম গোষ্ঠী এবং শিগগিরই সবচেয়ে বড় অভিবাসী গোষ্ঠীতে পরিণত হবে। আমি শুধু বলতে চেয়েছি অস্ট্রেলিয়ার পরিবারগুলো প্রচণ্ড চাপের মধ্যে আছে, সেটা অভিবাসী হোক বা নাগরিক। তাই ব্যাপক অভিবাসন নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়াই স্বাভাবিক।”
এদিকে সিনেটে ন্যাশনাল ফ্ল্যাগ ডে উপলক্ষে তিনি অস্ট্রেলিয়ার পতাকা গায়ে জড়িয়ে অংশগ্রহণ করেন এবং পতাকা অবমাননাকে ফৌজদারি অপরাধ করার দাবি জানান।

বিরোধী দলীয় নেতা সুসান লে। ছবিঃ সংগৃহীত
বিরোধী নেতা লে স্পষ্টভাবে জানান, লিবারেল পার্টি অভিবাসী সম্প্রদায়ের আস্থা ফিরে পেতে কাজ করছে। তিনি ভারতীয়-অস্ট্রেলিয়ানদের অবদানকে “অসাধারণ” বলে উল্লেখ করেন এবং বলেন, “আমরা প্রতি তিন বছর অন্তর ভোট দিই, তবে প্রতিদিন আমি প্রতিটি অস্ট্রেলিয়ানের জন্য কাজ করি আপনি যেখান থেকেই আসুন না কেন।”
ভারতীয় বংশোদ্ভূত লিবারেল সিনেটর ডেভ শর্মা প্রাইসের মন্তব্যকে “খুব খারাপভাবে উপস্থাপিত” বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, “এই ধরনের মন্তব্য ভারতীয়-অস্ট্রেলিয়ান সম্প্রদায়কে আঘাত করেছে। কোনো অভিবাসী গোষ্ঠীকে রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি দিয়ে স্টেরিওটাইপ করা উচিত নয়। যারা এখানে বাড়ি বানিয়েছেন, তারাই অস্ট্রেলিয়ান। এটাই যথেষ্ট।”
গত সপ্তাহান্তে রাজধানী শহরগুলোতে অ্যান্টি-ইমিগ্রেশন বিক্ষোভের পর থেকে অভিবাসন নিয়ে বিতর্ক তীব্র আকার ধারণ করেছে। প্রাইস সেই বিক্ষোভকারীদের প্রশংসা করলেও লে জোর দিয়ে বলেন, “অস্ট্রেলিয়া একটি অভিবাসী জাতি। অনেক শুভবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষ সমাবেশে অংশ নিলেও, সেটি নব্য নাৎসি ও বর্ণবিদ্বেষীদের দ্বারা হাইজ্যাক হয়েছে।”
স্টোরি: জেসিকা ওয়াং