সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম । ছবি: সংগৃহীত
মেলবোর্ন ৫ সেপ্টেম্বর- নেপাল সরকার দেশে ব্যবহৃত সবচেয়ে জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোর বেশির ভাগই বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ফেসবুক, এক্স (সাবেক টুইটার), ইউটিউবসহ প্রায় দুই ডজন প্ল্যাটফর্ম। সরকারের দাবি, এসব প্রতিষ্ঠান বারবার নোটিশ দেওয়ার পরও দেশে নিবন্ধন প্রক্রিয়ায় অংশ নেয়নি।
বৃহস্পতিবার (৪ সেপ্টেম্বর) নেপালের যোগাযোগ ও তথ্যমন্ত্রী পৃথ্বী সুব্বা গুরুং এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন—
“ফেসবুক, এক্স, ইউটিউবসহ জনপ্রিয় অনেক প্ল্যাটফর্মকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোম্পানি নিবন্ধনের জন্য একাধিকবার জানানো হয়েছিল। কিন্তু তারা কোনো সাড়া দেয়নি। তাই অবিলম্বে এগুলো বন্ধ করে দেওয়া হবে।”
তিনি আরও জানান, সরকারের নির্দেশনা মান্য করায় টিকটক, ভাইবার এবং আরও তিনটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম চালু থাকবে। কারণ, এগুলো ইতিমধ্যে নেপালে আনুষ্ঠানিকভাবে নিবন্ধিত হয়েছে।
সরকার দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোকে দেশে প্রতিনিধিত্বকারী অফিস খুলতে ও একটি সংযোগ কেন্দ্র স্থাপন করতে বলছে। এ বিষয়ে সংসদে একটি বিলও উত্থাপন করা হয়েছে। সরকারের যুক্তি হলো—
- সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোকে দায়িত্বশীল ও জবাবদিহিমূলক করা
- অপব্যবহার ঠেকাতে তাদের কার্যক্রমের ওপর নজরদারি জোরদার করা
- ব্যবহারকারী ও অপারেটর উভয়কে দায়বদ্ধ রাখা
সমালোচনা ও উদ্বেগ
তবে সরকারের এই সিদ্ধান্ত নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়েছে। বিরোধীদলীয় নেতা, অধিকারকর্মী ও সুশীল সমাজ বলছে—
- এটি মূলত মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর হস্তক্ষেপ
- সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরকারের সমালোচনাকারীদের দমন করার হাতিয়ার হিসেবে এ আইন ব্যবহৃত হতে পারে
- জনগণের মৌলিক অধিকার খর্ব হওয়ার শঙ্কা রয়েছে
অধিকার সংগঠনগুলো সতর্ক করে বলছে, নেপাল যদি এ সিদ্ধান্তে অনড় থাকে, তবে দেশটি ডিজিটাল দমননীতির পথে এগিয়ে যাবে।
তবে সরকারি কর্মকর্তারা জোর দিয়ে বলছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ও শেয়ার করা প্রতিটি বিষয় পর্যবেক্ষণ করা এখন জরুরি। কারণ, এগুলোর মাধ্যমে গুজব, বিদ্বেষমূলক বক্তব্য, সহিংসতার উসকানি এবং রাষ্ট্রবিরোধী প্রচারণা ছড়ানোর ঝুঁকি রয়েছে। তাই নাগরিকদের নিরাপত্তা ও সামাজিক স্থিতিশীলতা রক্ষার জন্য এ পদক্ষেপ নিতে হচ্ছে।