ভারতের পর্যটক ভিসা চালু হতেই বাংলাদেশজুড়ে আবেদনকারীদের ঢল কেন
মেলবোর্ন, ২ জুলাই- দীর্ঘ প্রায় দুই বছর পর বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য ভারত পর্যটক ভিসা চালু করার পর দেশজুড়ে ভারতীয় ভিসা আবেদনকেন্দ্রগুলোতে আবেদনকারীদের উপচে পড়া ভিড়…
মেলবোর্ন, ৯ সেপ্টেম্বর- অবশেষে নেপালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করেছে দেশটির সরকার। ফেসবুক, এক্স (টুইটার), ইউটিউবসহ ২৬টি প্ল্যাটফর্মে প্রবেশাধিকার বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ হয়ে বিক্ষোভে নেমেছিল তরুণ প্রজন্ম। সেই বিক্ষোভ দমন করতে গিয়ে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে কমপক্ষে ১৯ জন নিহত হন এবং শতাধিক মানুষ আহত হন। এ ঘটনার পরই সরকারকে পিছু হটতে হলো।
তরুণদের দাবিতে রাস্তায় উত্তাল নেপাল
গত সোমবার রাজধানী কাঠমান্ডুতে হাজারো তরুণ সংসদ ভবনে প্রবেশ করে জোরালোভাবে দাবি জানায়—
শুধু রাজধানী নয়, বাইরের শহরগুলোতেও সমানতালে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। নেপালের তথাকথিত “জেনারেশন জেড” সরকারবিরোধী এই আন্দোলনের নেতৃত্ব দেয়।
পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠার পর সোমবার রাতেই জরুরি মন্ত্রিসভা বৈঠক করে নেপাল সরকার। বৈঠক শেষে যোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী পৃথ্বী সুব্বা গুরুঙ ঘোষণা দেন,
“জেনারেশন জেড-এর দাবির প্রতি সাড়া দিতে এবং পরিস্থিতি শান্ত করতে আমরা সামাজিক মাধ্যমের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”
গত সপ্তাহে ভুয়া খবর, হিংসাত্মক বক্তব্য এবং অনলাইন প্রতারণা নিয়ন্ত্রণের অজুহাতে সরকার ২৬টি প্ল্যাটফর্মে প্রবেশাধিকার বন্ধ করে দেয়। তবে তরুণরা দাবি করেন, এটি ছিল আসলে সরকারের কর্তৃত্ববাদী মনোভাবের বহিঃপ্রকাশ।
তাদের অভিযোগ, স্বাধীন মতপ্রকাশের অধিকার খর্ব করে ভিন্নমত দমনের চেষ্টা চালাচ্ছে কর্তৃপক্ষ।
নেপালে ইনস্টাগ্রাম, ফেসবুক, ইউটিউবসহ জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলোর লাখো সক্রিয় ব্যবহারকারী রয়েছে। বিনোদন, খবর, রাজনৈতিক আলোচনা ছাড়াও ক্ষুদ্র ব্যবসা ও উদ্যোক্তাদের জন্য এই প্ল্যাটফর্মগুলো গুরুত্বপূর্ণ আয়ের উৎস। ফলে হঠাৎ করে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ায় সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছিল।
নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের ঘোষণায় আপাতত বিক্ষোভ কিছুটা স্তিমিত হলেও বিশ্লেষকদের মতে, দুর্নীতি দমন ও রাজনৈতিক সংস্কারের দাবিতে তরুণদের আন্দোলন এখনই থামছে না। সরকারের ওপর আস্থা পুনর্গঠনের জন্য কেবল সামাজিক মাধ্যম উন্মুক্ত করাই যথেষ্ট হবে না; প্রয়োজন হবে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির বাস্তব পদক্ষেপ।
নেপালের সাম্প্রতিক এই আন্দোলন প্রমাণ করেছে, ডিজিটাল যুগের তরুণ প্রজন্ম শুধু বিনোদন নয়, বরং অধিকার ও গণতন্ত্র রক্ষার ক্ষেত্রেও সামাজিক মাধ্যমকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে সক্ষম।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au