তিন বন্দুকধারী দেহরক্ষীসহসহ বেলুচ রাজপুত্রকে অপহরণ
পাকিস্তানের অশান্ত বেলুচিস্তান প্রদেশে কালাতের বর্তমান খানের ছেলে শাহজাদা মুহাম্মদ খান আহমেদজাইকে তাঁর তিন সশস্ত্র দেহরক্ষীসহ অপহরণ করেছে একদল বন্দুকধারী। সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাতে খুজদার…
মেলবোর্ন, ৯ সেপ্টেম্বর- বাংলাদেশে ডাকসু নির্বাচন নিয়ে জাতীয় গণমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা চলছে। নিঃসন্দেহে এই নির্বাচন দেশের ছাত্ররাজনীতি ও বৃহত্তর রাজনৈতিক সংস্কৃতির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। তবে এ নিয়ে প্রকাশিত মতামত ও বিশ্লেষণে দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার মূলনীতি যৌক্তিকতা, নিরপেক্ষতা ও প্রমাণভিত্তিক উপস্থাপন মানা হচ্ছে না সব জায়গায়।
উদাহরণস্বরূপ, দি ডেইলি স্টার-এর মহিউদ্দিন আলমগীরের নিবন্ধ “ছাত্ররাজনীতির অগ্নিপরীক্ষা ডাকসু”-তে বলা হয়েছে ১৯৯০ সালের পর এবারই প্রথম প্রকৃত ডাকসু নির্বাচন হচ্ছে এবং ২০১৯ সালের নির্বাচন নাকি ছাত্রলীগের দাপট ও ভয়ভীতির কারণে কলঙ্কিত হয়েছিল।
তিনি আরও উল্লেখ করেছেন এটি নাকি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিতব্য প্রথম ডাকসু নির্বাচন, অথচ এটি স্পষ্টতই একটি অন্তর্বর্তী সরকার, তত্ত্বাবধায়ক নয়। এখানে তথ্য বিকৃতি হয়েছে। আরও বড় প্রশ্ন হলো, যদি ২০১৯ সালের ডাকসু নির্বাচন কারচুপি হতো, তবে নুরুল হক নুরু কীভাবে ভাইস প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলেন? লেখক সেই প্রশ্ন এড়িয়ে গেছেন।
অন্যদিকে, প্রথম আলোতে জাহেদ উর রহমানের নিবন্ধ “ডাকসু ও জাতীয় নির্বাচনে মুক্তিযুদ্ধ কি ‘বস্তাপচা’ ইস্যু” অধিকতর যৌক্তিক ও প্রমাণনির্ভর। তিনি যুক্তি দিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধ বাংলাদেশের রাজনীতির ভিত্তি, তাই এর উপস্থিতি যে কোনো নির্বাচনে স্বাভাবিক ও প্রাসঙ্গিক। তিনি জাতীয় নাগরিক পার্টির নেতা নাহিদ ইসলামের বক্তব্য ও জামায়াত-শিবিরের মুক্তিযুদ্ধবিরোধী অবস্থানকে প্রমাণ হিসেবে তুলে ধরেছেন। এতে বোঝা যায়, মুক্তিযুদ্ধবিরোধী রাজনীতি এখনো টিকে আছে এবং সেটিকে প্রশ্রয় দেওয়া হচ্ছে। আরও উদ্বেগের বিষয় হলো, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ও তাঁর সহযোগীদের নীতিগত অবস্থান ছাত্রশিবিরের মতো মুক্তিযুদ্ধবিরোধী ধারাকে প্রশ্রয় দিচ্ছে, যা দেশকে বিপজ্জনক পথে ঠেলে দিতে পারে।
তবে বাংলাদেশের ছাত্রসমাজ জানে, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ তাদের অস্তিত্বের মূলভিত্তি। শহীদদের আত্মত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তারা কোনোদিনই মুক্তিযুদ্ধবিরোধী শক্তিকে সমর্থন করবে না। তাই ডাকসু নির্বাচনে শিক্ষার্থীরা যাঁকেই ভোট দেবে, সেই ভোট হবে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের রাজনীতিকে শক্তিশালী করার জন্য।
গণমাধ্যমের উচিত হবে এ ধরনের নির্বাচনের বিশ্লেষণ প্রকাশের সময় নিরপেক্ষতা বজায় রাখা এবং ইতিহাসকে বিকৃত না করা। পক্ষপাতদুষ্ট মতামত গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করে না, বরং বিভ্রান্তি তৈরি করে। মুক্তিযুদ্ধ বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় ভিত্তি, এটি কখনোই “বস্তাপচা” ইস্যু হতে পারে না। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় গড়ে ওঠা বাংলাদেশে ছাত্রসমাজ সবসময়ই থাকবে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের অটল প্রহরী এই আশাবাদ।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au