জ্যাকিন্টা নাম্পিজিনপা প্রাইস বলেছেন যে সরকারের অভিবাসন কর্মসূচি নির্বাচনী সুবিধার বিনিময়ে ভারতীয় জনগণের পক্ষে কাজ করছে। ছবিঃ এবিসি নিউজ
মেলবোর্ন, ৯ সেপ্টেম্বর- অস্ট্রেলিয়ার রাজনীতিতে বহুসাংস্কৃতিক সম্প্রদায়ের সমর্থন যে কোনো বড় রাজনৈতিক দলের জন্য অপরিহার্য। কিন্তু লিবারেল পার্টি সাম্প্রতিক সময়ে এই সম্প্রদায়ের আস্থা পুনর্গঠনে বড় ধরনের সংকটে পড়েছে। নতুন সিনেটর জাসিন্তা ন্যাম্পিজিনপা প্রাইস ভারতীয় অভিবাসীদের নিয়ে যে মন্তব্য করেছেন, তা শুধু জনমনে ক্ষোভই সৃষ্টি করেনি, বরং দলটির অভ্যন্তরীণ দুর্বলতাকেও উন্মোচিত করেছে।
প্রাইস অভিযোগ করেছিলেন যে সরকার ভোটব্যাংক বাড়ানোর জন্য নির্দিষ্ট কিছু দেশ থেকে অভিবাসী আনছে, এবং ভারতীয় সম্প্রদায়কে তিনি উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন। এই বক্তব্য প্রকাশ্যে আসার পর লিবারেল পার্টি দ্রুত বিভাজনের মুখে পড়ে। অনেক এমপি প্রকাশ্যে বলেছেন, যদি দলটি ওয়ান নেশনের মতো কট্টর ডানপন্থী অভিবাসনবিরোধী অবস্থান নেয়, তবে এটি আত্মঘাতী হবে। এক সিনেটর মন্তব্য করেছেন—দলটি ইতোমধ্যেই দুই চাকার ওপর ঝুলছে, আর এই অভিবাসন বিতর্ক যদি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়, তবে পুরো গাড়িই খাদে পড়ে যাবে।
অন্যদিকে, লেবার পার্টি বিষয়টিকে রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে। তারা তুলে ধরছে যে লিবারেলদের অভিবাসনবিরোধী মনোভাব বহুসাংস্কৃতিক অস্ট্রেলিয়ার জন্য হুমকি। “Demography is destiny”—এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে লেবার ইতোমধ্যে ভারতীয় প্রবাসীদের কাছে লিবারেলদের অবস্থানকে নেতিবাচক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে শুরু করেছে।
লিবারেল পার্টির ভেতর থেকে ভিন্ন মতও শোনা গেছে। ভারতীয় বংশোদ্ভূত সিনেটর ডেভ শর্মা প্রকাশ্যে বলেছেন, প্রাইসের মন্তব্য দলের অবস্থান নয় এবং এতে যে আঘাত লেগেছে তিনি তার জন্য দুঃখিত। বিরোধীদলীয় নেতা সুসান লেইও ভারতীয় ও চীনা প্রবাসীদের উদ্দেশে ভিডিওবার্তা দিয়েছেন, তাঁদের অবদানকে স্বীকৃতি দিয়েছেন এবং আশ্বাস দিয়েছেন যে লিবারেলরা বহুসাংস্কৃতিক সমাজকে গুরুত্ব দেয়। কিন্তু একই সঙ্গে দলের অন্য নেতাদের বক্তব্য, যেমন “চীনা গুপ্তচর” প্রসঙ্গ তোলা বা ড্যান অ্যান্ড্রুজের চীন সফর নিয়ে অতিরিক্ত সমালোচনা, চীনা বংশোদ্ভূত ভোটারদের মধ্যে লিবারেলদের প্রতি সন্দেহ আরও জোরদার করছে।
প্রাইস পরে দাবি করেন তাঁর বক্তব্য প্রসঙ্গ থেকে বিচ্ছিন্ন করে প্রকাশ করা হয়েছে। তিনি বলেন, তাঁর উদ্দেশ্য ছিল অভিবাসনের ধরণ নয়, বরং অভিবাসনের পরিমাণ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ। তবে এই ব্যাখ্যা যথেষ্ট গ্রহণযোগ্য হয়নি। বরং এটি নতুন করে লিবারেল পার্টিকে “অভিবাসনবিরোধী” হিসেবে চিত্রিত করছে।
বাস্তবতা হলো, অভিবাসন এবং বহুসাংস্কৃতিক সম্প্রদায় ছাড়া অস্ট্রেলিয়ার রাজনৈতিক সমীকরণ দাঁড় করানো সম্ভব নয়। ভারতীয়, চীনা ও অন্যান্য প্রবাসী সম্প্রদায় এখন নির্বাচনী রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে। এই অবস্থায় লিবারেল পার্টির জন্য প্রাইসের মন্তব্য কেবল ক্ষণস্থায়ী বিতর্ক নয়; বরং এটি দীর্ঘমেয়াদে তাদের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে বড় সংকেত। যদি দলটি দ্রুত স্পষ্ট ও সহনশীল নীতি গ্রহণ না করে, তবে বহুসাংস্কৃতিক অস্ট্রেলিয়ার আস্থা পুনর্গঠন তাদের জন্য অসম্ভব হয়ে উঠতে পারে।