কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আব্দুল রহমান আল থানি । ছবি : এএফপি
মেলবোর্ন, ১৫ সেপ্টেম্বর– দোহার প্রস্তুতিমূলক বৈঠকে তীব্র আক্রমণ — “এখনই আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে দ্বৈত নীতি ত্যাগ করে ইসরায়েলকে তার অপরাধের জন্য দায়ী করতে হবে।”
কাতারের প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আব্দুলরহমান আল-থানি রোববার দোহায় আয়োজিত আরব ও ইসলামী নেতাদের জরুরি সম্মেলনের প্রস্তুতিমূলক বৈঠকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, ইসরায়েলের বিরুদ্ধে “দ্বৈত নীতি” ত্যাগ করে তাকে তার সব অপরাধের জন্য শাস্তি দিতে হবে। তিনি বলেন, ভ্রাতৃপ্রতিম ফিলিস্তিনি জনগণের বিরুদ্ধে চালানো গণহত্যামূলক ও ভূমি-উৎখাতের লক্ষ্যে পরিচালিত যুদ্ধ সফল হতে দেবে না।
এই রাজনৈতিক উত্তেজনার পটভূমিতে কাতারে গত সপ্তাহে ইসরায়েলের একটি বিমান হামলায় কয়েকজন হামাস কর্মকর্তা এবং কাতারী নিরাপত্তা কর্মী নিহত হওয়ার খবরটি গর্জে ওঠে; তা কাতার ‘রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস’ বলে আখ্যায়িত করেছে এবং দোহা তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। কাতার এ হামলা যাতে কোনোভাবেই অবিহিত না থেকে এবং চলমান মধ্যস্থতা প্রক্রিয়াকে ক্ষুণ্ণ করে হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে।
দোহায় অনুষ্ঠিত এই জরুরি সামিটে অংশগ্রহণের কথা রয়েছে একাধিক আরব ও ইসলামী দেশের শীর্ষ নেতার। বৈঠকে ইরানের প্রেসিডেন্ট, ইরাকের প্রধানমন্ত্রী ও ফিলিস্তিনি নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা যোগ দেবেন; একই সঙ্গে একটি খসড়া প্রস্তাব কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দ্বারা সভায় তুলে ধরা হবে বলে বলা হচ্ছে।
কাতারের প্রধানমন্ত্রী বৈঠকে আরো উল্লেখ করেছেন যে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় যদি দ্বৈত নীতি অবলম্বন বন্ধ না করে তাহলে ভবিষ্যতে অত্যন্ত বিপজ্জনক পরিণতি হতে পারে এবং গাজা-সংঘাত নিরসনে কাতারের মধ্যস্থতার প্রচেষ্টা সঙ্কটে পড়বে। তিনি দোহাকে সহায়তা না করলে উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে নিরাপত্তা চেইনেও বড় আঁচড় পড়বে বলে সতর্ক করেছেন।
রিপোর্টগুলোর মতে, বৈঠকের অংশগ্রহণকারীরা কাতারের পাশে দাঁড়াতে এবং ইসরায়েলের এই হামলার নিন্দায় এককথায় অবস্থান গ্রহণ করতে পারে, যদিও আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তে কোনো তীব্র প্রতিক্রিয়া বা প্রত্যক্ষ প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত হবে কিনা তা সময়ই বলবে। বিশ্বের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম এই বৈঠককে দোহায় সমর্থন দেখানোর একটি মঞ্চ হিসেবে দেখছে।
সূত্রঃ এএফপি