শাড়ির আঁচলের নিচে তাঁর ডান হাতের তিলটি দেখা যায়। ছবি: ইনস্টাগ্রাম
মেলবোর্ন, ১৬ সেপ্টেম্বর- গুগলের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি জেমিনির ‘ন্যানো ব্যানানা শাড়ি ট্রেন্ড’ বর্তমানে ইনস্টাগ্রামসহ সোশ্যাল মিডিয়ায় রীতিমতো ভাইরাল হয়ে উঠেছে। তবে এই ট্রেন্ডের মাঝেই এক নারী একটি ভয়ংকর অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে আলোচনার ঝড় তুলেছেন।
ভিডিওতে তিনি জানান, নিজের ছবি জেমিনিতে আপলোড করে শাড়ি পরিহিত রূপে এডিটেড ছবি তৈরি করার অনুরোধ করেছিলেন। কিন্তু তৈরি হওয়া ছবিতে এমন একটি বিষয় দেখা গেছে যা তাঁকে হতবাক করেছে।
তিনি বলেন, “আমি যখন ছবি জেনারেট করলাম, তখন দেখি শাড়ির আঁচলের নিচে আমার ডান হাতের তিলটি স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে। আমি শুধু চাই সবাই সচেতন হোক। সোশ্যাল মিডিয়া বা এআই প্ল্যাটফর্মে কিছু আপলোড করার আগে সাবধান থাকা জরুরি।”
ভিডিওটি ইতিমধ্যে প্রায় ৭০ লাখ ভিউ পেয়েছে এবং শত শত মন্তব্য জমা পড়েছে। অনেক ব্যবহারকারী জানিয়েছেন, তাঁদের সঙ্গেও এমন ঘটনা ঘটেছে; কেউ বলছেন, ছবিতে এমন কিছু দেখা গেছে যা মূল ছবিতে ছিল না।
এক ব্যবহারকারী মন্তব্য করেছেন, “জেমিনি গুগলের, আর গুগল আমাদের ফোনের ছবি ও ভিডিও বিশ্লেষণ করতে পারে। তাই ছবি আরও নির্ভুলভাবে তৈরি হয়।” অন্য একজন বলেছেন, “এটাই এআইয়ের কাজ। এটি আপনার ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট বিশ্লেষণ করে রিয়েলিস্টিক ছবি তৈরি করে।”
ন্যানো ব্যানানা কী?
ন্যানো ব্যানানা হলো জেমিনি অ্যাপে থাকা একটি ইমেজ এডিটিং এআই মডেল। প্রথমে এটি থ্রিডি ফিগারজাতীয় এডিট তৈরি করার জন্য জনপ্রিয় হয়। পরে ‘শাড়ি ট্রেন্ড’-এ এর ব্যবহার বিস্তৃত হয়। বাংলাদেশ, ভারতসহ বিভিন্ন দেশে এই ট্রেন্ড দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।
এই প্রযুক্তির মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা নিজেদের ছবি এমনভাবে রূপান্তর করতে পারেন, যেন তাঁরা প্রাচীন বা ক্ল্যাসিক ব্যাকড্রপে শাড়ি পরিহিত অবস্থায় দেখা যাচ্ছে। তবে একই সঙ্গে এটি গোপনীয়তা ও নিরাপত্তার নতুন উদ্বেগও তৈরি করেছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এআই ব্যবহার করার সময় সতর্ক থাকা অপরিহার্য, কারণ প্রযুক্তি যেমন সুবিধা দেয়, তেমনি ব্যক্তিগত তথ্য ও গোপনীয়তাকে ঝুঁকিতে ফেলতে পারে।