১৬ দেশের কর্মীদের জন্য খুলছে ডেনমার্কের দুয়ার
বিদেশি কর্মীদের জন্য নতুন একটি অভিবাসন পথ চালু করতে যাচ্ছে ডেনমার্ক। আগামী ১ জানুয়ারি ২০২৭ থেকে নতুন এই ব্যবস্থা কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে। এর আওতায়…
মেলবোর্ন, ১৭ সেপ্টেম্বর- নেত্রকোণা সদর উপজেলার বাংলা ইউনিয়নের কান্দুলিয়ায় অস্থায়ী পূজা মণ্ডপে সোমবার গভীর রাতে দুর্গা পূজার প্রতিমা ভাঙচুর করা হয়েছে। স্থানীয়রা সকাল ৬টার দিকে মণ্ডপে গিয়ে ঘটনাটি লক্ষ্য করেন। কান্দুলিয়া দুর্গা পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি মিঠুন রায় জানান, “কার্তিকের একটি হাত এবং অসুরের মাথা ভাঙা হয়েছে। আমরা পুলিশকে বিষয়টি জানাই। পরে প্রতিমা শিল্পীকে আনিয়ে ভাঙচুর করা প্রতিমা ঠিকঠাক করানো হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “আজ থেকে মণ্ডপ সারারাত পাহারার জন্য লোক রাখা হয়েছে। আমরা মামলা করতে থানায় যাচ্ছি।”
নেত্রকোণা মডেল থানার ওসি কাজী শাহনেওয়াজ জানিয়েছেন, “ঘটনা জানার সঙ্গে সঙ্গে মন্দির পরিদর্শনে যাই। আয়োজকদের সঙ্গে কথা বলেছি। নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি, ভাঙচুরকারীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার জন্য কাজ চলছে।”
জেলা পূজা উদযাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক লিটন পণ্ডিত বলেন, “দুর্গা পূজার আয়োজনের প্রস্তুতির মধ্যে কান্দুলিয়া মণ্ডপে এই প্রতিমা ভাঙচুরে আতঙ্ক সৃষ্টি হবে। দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানাই। আমরা চাই নির্বিঘ্ন ও আনন্দঘন পরিবেশে পূজা উদযাপন করতে। প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করছি।”
নেত্রকোণা জেলা পুলিশ সুপার মীর্জা সায়েম মাহমুদ জানান, “আসন্ন দুর্গা পূজা আনন্দঘন পরিবেশে সম্পন্ন করতে সার্বিক নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পুলিশ কর্মকর্তাদের নিরাপত্তা বিধানে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং পূজা কমিটি ও আয়োজকদের সঙ্গে বৈঠক করা হচ্ছে।”
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মাহমুদ জামান বলেন, “দুর্গা প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনা আমাদের জন্য একটি সতর্কবার্তা। আমরা দুর্গা পূজা শান্তিপূর্ণভাবে উদযাপনের জন্য ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করব।”
স্থানীয় পূজা কমিটি ও প্রশাসন মিলিয়ে চেষ্টা করছেন, যাতে এই দুর্গা পূজা আনন্দঘন ও নিরাপদ পরিবেশে উদযাপিত হয়।

কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার একটি মন্দিরে প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। ছবিঃ সংগৃহীত
কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলায় প্রতিমা ভাংচুর
এর আগে, গত রোববার কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার একটি মন্দিরে প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। ওই দিন রাত সোয়া আটটার দিকে উপজেলার পোড়াদহ ইউনিয়নের স্বরূপদহ পালপাড়ায় রক্ষাকালী মন্দিরে এ ঘটনা ঘটে।
ওই রাতেই কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান, র্যাব-১২ কুষ্টিয়া ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুদীপ্ত সরকারসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তা ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
প্রতিমা ভাঙচুরের বিষয়টি ওই রাতেই নিশ্চিত করেছেন পুলিশ ও র্যাবের কর্মকর্তারা। তাঁরা বলছেন, কার্তিক ও সরস্বতীপ্রতিমার মাথা ও হাত ভাঙচুর করা হয়েছে। এ ছাড়া হাঁস ও ময়ূরের কিছু অংশ ভাঙা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্তের জন্য কাজ চলছে।
মন্দির কমিটির সভাপতি অমরেশ ঘোষ জানান, মন্দিরে প্রতিমা তৈরির কাজ চলমান। ঘটনার সময় এলাকায় বিদ্যুৎ ছিল না। গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি পড়ছিল। এই সুযোগে কে বা কারা ঘটনাটি ঘটিয়েছে। টিনশেডে ঘেরা অস্থায়ী মন্দির। লোডশেডিংয়ের পর মন্দিরে গিয়ে দেখতে পান প্রতিমা ভাঙচুর করা হয়েছে। সামনে দুর্গাপূজা। প্রতিমার মাটির কাজ শেষ হয়েছে। আজ সোমবার রঙের কাজ শুরু হওয়ার কথা ছিল।
মিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোমিনুল ইসলাম বলেন, সংবাদ পাওয়ার পর ঘটনাস্থলে যায় পুলিশ। কার্তিক, সরস্বতীসহ আরও কয়েকটিতে ভাঙচুর করা হয়েছে। সেখানে একটি আইপি ক্যামেরা ছিল। সেটিও নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় কাউকে সন্দেহ বা কারা জড়িত থাকতে পারে, তা মন্দির কমিটি বলতে পারছে না। তারা মামলা দিতেও চাইছে না। পুলিশ এ বিষয়ে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে।
র্যাব-১২ কুষ্টিয়া ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুদীপ্ত সরকার বলেন, রাতেই ঘটনাস্থলে যান তিনি। র্যাবের সদস্যরা এটা নিয়ে কাজ করছেন।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au