পৌঁছেছেন। উইন্ডসর প্রাসাদে নেমেই ট্রাম্পকে রাজকীয় অভ্যর্থনা জানান রাজা চার্লস তৃতীয় ও প্রিন্স উইলিয়াম। ছবিঃ রয়টার্স
মেলবোর্ন, ১৮ সেপ্টেম্বর- মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই মেয়াদের ক্ষমতা গ্রহণের পর দ্বিতীয়বারের মতো যুক্তরাজ্যে রাষ্ট্রীয় সফরে পৌঁছেছেন। উইন্ডসর প্রাসাদে নেমেই তাকে রাজকীয় অভ্যর্থনা জানান রাজা চার্লস তৃতীয় ও প্রিন্স উইলিয়াম।
উইন্ডসর ক্যাসেলের ওয়াল্ড গার্ডেনে হেলিকপ্টার থেকে নামার পর ট্রাম্প ও ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পকে অভ্যর্থনা জানান রাজা চার্লস, রানি ক্যামিলা, প্রিন্স উইলিয়াম এবং ওয়েলসের রাজকুমারী ক্যাথরিন। এসময় একসঙ্গে ৪১ বার গোলন্দাজ সালাম ছোড়া হয় উইন্ডসর প্রাসাদ ও লন্ডনের টাওয়ার অব লন্ডন থেকে। এই মহাসমারোহে অংশ নেয় প্রায় ১ হাজার ৩০০ ব্রিটিশ সেনা সদস্য ও ১২০টি ঘোড়া। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এটি ব্রিটেনে সাম্প্রতিক কালে সবচেয়ে বড় সামরিক আনুষ্ঠানিক অভ্যর্থনা।
এরপর ট্রাম্প দম্পতি রাজপরিবারের সঙ্গে ঘোড়ার গাড়ির শোভাযাত্রায় উইন্ডসর প্রাসাদের ভেতর দিয়ে যান এবং সেখানে গার্ড অব অনার পরিদর্শন করেন।

মহাসমারোহে অংশ নেয় প্রায় ১ হাজার ৩০০ ব্রিটিশ সেনা সদস্য ও ১২০টি ঘোড়া। ছবিঃ রয়টার্স
নজিরবিহীন আয়োজন
ব্রিটিশ সরকার ট্রাম্পকে প্রভাবিত করতে এবার বাড়তি আড়ম্বরের আয়োজন করেছে। ২০১৯ সালে রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ যখন তাকে আতিথ্য দিয়েছিলেন, তার চেয়েও এবার আয়োজন বড়সড়। প্রথমবারের মতো যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের যুদ্ধবিমান একসঙ্গে ফ্লাইপাস্ট প্রদর্শন করবে।

ট্রাম্পের সফর ঘিরে লন্ডনজুড়ে বিক্ষোভ হয়েছে। ছবিঃ সংগৃহীত
প্রতিবাদ ও নিরাপত্তা
ট্রাম্পের সফর ঘিরে লন্ডনজুড়ে বিক্ষোভ হয়েছে। শুধু রাজধানীতেই “স্টপ দ্য ট্রাম্প কোয়ালিশন”-এর আন্দোলন মোকাবিলায় মোতায়েন ছিল প্রায় ১ হাজার ৬০০ পুলিশ।
সফরের অন্যান্য কর্মসূচি
ট্রাম্প দম্পতি প্রয়াত রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের সমাধিতে শ্রদ্ধা জানান। বুধবার রাতে রাজা চার্লস ও ট্রাম্প হোয়াইট-টাই রাজকীয় নৈশভোজে অংশ নেবেন এবং বক্তব্য দেন।

ব্রিটিশ সরকার ট্রাম্পকে প্রভাবিত করতে এবার বাড়তি আড়ম্বরের আয়োজন করেছে। ছবিঃ সংগৃহীত
বৃহস্পতিবার ট্রাম্পকে তার সরকারি বাসভবন চেকার্সে আতিথ্য দেবেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টার্মার। আলোচনার অন্যতম প্রেক্ষাপট হবে ব্রিটিশ ওষুধ কোম্পানি জিএসকে-এর যুক্তরাষ্ট্রে আগামী পাঁচ বছরে ৩০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের ঘোষণা। তবে এ সময় কিছু অস্বস্তিকর বিষয়ও আলোচনায় আসতে পারে।
রাজনৈতিক অস্বস্তি ও বিতর্ক
ট্রাম্পের এই সফর এমন সময় হচ্ছে, যখন যুক্তরাষ্ট্রে ডানপন্থী কর্মী চার্লি কার্ক হত্যাকাণ্ড নিয়ে তীব্র অস্থিরতা চলছে। এছাড়া, যৌন অপরাধে দণ্ডিত প্রয়াত জেফ্রি এপস্টিনের নাম ঘিরেও যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যে বিতর্ক বেড়েছে।মঙ্গলবার রাতে উইন্ডসর প্রাসাদের দেয়ালে ট্রাম্প ও এপস্টিনের ছবি প্রক্ষেপণ করায় চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টার্মার নিজেও চাপের মুখে আছেন, কারণ যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত পিটার ম্যান্ডেলসনকে এপস্টিন-সম্পর্কিত বিতর্কের কারণে তিনি সম্প্রতি পদচ্যুত করেছেন।
সুত্রঃ এবিসি নিউজ