মেসিকে পেছনে ফেলে বিশ্বকাপে অনন্য রেকর্ড গড়লেন ইংল্যান্ডের কেইন
মেলবোর্ন, ১৮ জুন- বিশ্বকাপের ‘এল’ গ্রুপের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে ক্রোয়েশিয়াকে ৪-২ গোলে হারিয়েছে ইংল্যান্ড। বুধবার রাতে অনুষ্ঠিত ম্যাচে জোড়া গোল করে একাধিক রেকর্ড গড়েছেন ইংলিশ অধিনায়ক…
মেলবোর্ন, ২২ সেপ্টেম্বর- ব্রিটেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইয়েভেট কুপার জানিয়েছেন, ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার সিদ্ধান্তের কারণে ইসরায়েল যেন কোনোভাবেই পশ্চিম তীরের অংশ দখল বা সংযুক্ত না করে—সে বিষয়ে তিনি ইসরায়েলকে স্পষ্টভাবে সতর্ক করেছেন।
সোমবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘের এক সম্মেলনে যোগদানের আগে বিবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে কুপার বলেন, এই সিদ্ধান্ত মূলত ইসরায়েল ও ফিলিস্তিন উভয়ের নিরাপত্তা রক্ষা, শান্তি ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার অংশ হিসেবেই নেওয়া হয়েছে।
রবিবার যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার কানাডা, অস্ট্রেলিয়া ও পর্তুগালের সঙ্গে একসঙ্গে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেওয়ার ঘোষণা দেন। ব্রিটেনের পররাষ্ট্রনীতিতে এটি এক বড় পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে। ফ্রান্সসহ আরও কয়েকটি ইউরোপীয় দেশও শিগগির একই ঘোষণা দিতে চলেছে।
তবে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এই সিদ্ধান্তকে “সন্ত্রাসবাদের জন্য বিরাট পুরস্কার” বলে অভিহিত করেছেন। তিনি সাফ জানিয়ে দেন, ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের কোনো সম্ভাবনাই নেই।
বিবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে কুপার বলেন, তিনি তাঁর ইসরায়েলি সমকক্ষকে পরিষ্কারভাবে জানিয়েছেন যে ব্রিটেন কোনোভাবেই পশ্চিম তীর দখল বা সংযুক্তকরণকে মেনে নেবে না। তাঁর ভাষায়, “সহজ সমাধান হতো এই ইস্যু থেকে সরে যাওয়া। কিন্তু আমরা মনে করি, এত ধ্বংস ও কষ্টের পর পিছু হটা ভুল হবে। যেমনভাবে আমরা ইসরায়েল রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দিয়েছি, তেমনভাবেই ফিলিস্তিনিদেরও রাষ্ট্রের অধিকার রয়েছে।”
তিনি আরও জানান, যুক্তরাজ্যের পূর্ব জেরুজালেমে কনসুলেট জেনারেল কবে পূর্ণাঙ্গ দূতাবাসে রূপ নেবে, সে সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি। বিষয়টি ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে এগোবে।
জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে কুপার মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য আন্তর্জাতিক ঐক্যমত গড়ে তোলার চেষ্টা করবেন। ফ্রান্স ও সৌদি আরব যৌথভাবে দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধান খুঁজে বের করার উদ্যোগ নিচ্ছে। এ সময় বেলজিয়ামও ফিলিস্তিন রাষ্ট্র স্বীকৃতির পথে হাঁটবে বলে আশা করা হচ্ছে।
যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী স্টারমার বলেন, তাঁর লক্ষ্য হলো “শান্তি ও দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের আশা পুনরুজ্জীবিত করা।” তিনি গাজায় চলমান দুর্ভিক্ষ ও ধ্বংসযজ্ঞকে “অসহনীয়” বলে আখ্যা দেন।
তবে যুক্তরাষ্ট্র এই পদক্ষেপকে হামাসের জন্য “কূটনৈতিক উপহার” হিসেবে উল্লেখ করেছে। কারণ ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলায় হামাস ইসরায়েলে ১,২০০ জনকে হত্যা করে এবং ২৫১ জনকে জিম্মি করেছিল।
এ প্রসঙ্গে স্টারমার আবারও পরিষ্কার করে বলেন, ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ সরকার বা নিরাপত্তায় হামাসের কোনো ভূমিকা থাকবে না। যুক্তরাজ্য ইতিমধ্যে হামাসকে নিষিদ্ধ ও তাদের সম্পদ জব্দ করেছে। তিনি ঘোষণা দেন, শিগগির আরও হামাস নেতার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে।
ব্রিটিশ পররাষ্ট্র দপ্তরও জানিয়েছে, সহিংস সন্ত্রাসী সংগঠনগুলোর (যেমন হামাস) ভবিষ্যতে কোনো ভূমিকা থাকবে না, এ নিশ্চয়তা দিতে জাতিসংঘের বৈঠকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী কঠোর অবস্থান নেবেন।
অন্যদিকে, ফিলিস্তিনের ইসলামী প্রতিরোধ আন্দোলন হামাস এই স্বীকৃতিকে স্বাগত জানিয়েছে। তারা একে “ফিলিস্তিনি জনগণের ভূমি ও পবিত্র স্থানের ওপর অধিকারের স্বীকৃতি” বলে উল্লেখ করেছে। তবে তাদের দাবি, এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে সঙ্গে যুদ্ধের অবসান ঘটাতে হবে এবং বাস্তব পদক্ষেপ নিতে হবে।
সুত্রঃ বিবিসি
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au