বাংলাদেশ

ডাকসু নির্বাচনে নীলক্ষেতে ব্যালট ছাপানো নিয়ে বিতর্ক, সন্দেহের অবসান চান প্রার্থীরা

  • 6:23 pm - September 27, 2025
  • পঠিত হয়েছে:৭৫ বার
নীলক্ষেতের গাউসুল আজম মার্কেটের যে ছাপাখানায় ব্যালট ছাপানো হয়েছিল, সেখানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কোনো নজরদারি ছিল না। ছবিঃ সংগৃহীত

মেলবোর্ন, ২৭ সেপ্টেম্বর- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনের ব্যালট পেপার নীলক্ষেতে অরক্ষিত অবস্থায় ছাপানো হয়েছে—এমন অভিযোগ ফলাফল ঘোষণার পর থেকেই তুলছেন প্রার্থীদের কেউ কেউ।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দাবি করেছে, ব্যালট যেভাবে ছাপানো হয়েছে, তা নীলক্ষেতের কোনো দোকানে সম্ভব নয়। তবে এই ব্যাখ্যা বিতর্ক থামাতে পারেনি। কয়েক দিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে।

গত বৃহস্পতিবার রাতে ক্যাম্পাসে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে বিক্ষোভ করেন একদল শিক্ষার্থী। তাঁদের অনেকে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। এর আগে ২২ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যানটিনে সংবাদ সম্মেলন করে ছাত্রদলের প্যানেলের প্রার্থীরা অভিযোগ করেন, নীলক্ষেতের একটি ছাপাখানায় বিপুলসংখ্যক ব্যালট পেপার অরক্ষিত অবস্থায় পাওয়া গেছে।

তাঁরা বলেন, নীলক্ষেতের গাউসুল আজম মার্কেটের যে ছাপাখানায় ব্যালট ছাপানো হয়েছিল, সেখানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কোনো নজরদারি ছিল না।

বেসরকারি টেলিভিশন নিউজ টোয়েন্টিফোরের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, গাউসুল আজম মার্কেটের জালাল প্রিন্টিং প্রেসে ডাকসু নির্বাচনের ৯৬ হাজার ব্যালট ছাপানো হয়। একই মার্কেটের মক্কা পেপার কাটিং হাউসে ৮৮ হাজার ব্যালট কাটা হয়। প্রতিবেদনে ৮ হাজার ব্যালটের হিসাব গরমিলের কথাও উল্লেখ করা হয়।

সেই প্রতিবেদনে জালাল প্রিন্টিং প্রেসের মালিক মো. জালালের সাক্ষাৎকারও যুক্ত করা হয়। সেখানে তিনি বলেন, ফেরদৌস ওয়াহিদ নামের এক ব্যক্তির কাছ থেকে কাজটি পেয়েছিলেন এবং তিন দিনে ৯৬ হাজার ব্যালট ছাপেন।

প্রথম আলোর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি গতকাল শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে জালাল প্রিন্টিং প্রেসে গিয়ে সেটি বন্ধ পান। পরে সন্ধ্যায় গিয়ে মালিককে পাওয়া গেলেও তিনি বিস্তারিত কিছু বলতে রাজি হননি। শুধু বলেন, “এসব বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়কে জিজ্ঞেস করুন, আমাকে না।”

৯ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচনে ভোটার ছিল ৩৯ হাজার ৮৭৪ জন। ২৮টি পদের মধ্যে ২৩টিতে জয়ী হয় ইসলামী ছাত্রশিবির–সমর্থিত প্যানেল ‘ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোট’। নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হলেও পরে কিছু প্রার্থী অনিয়মের অভিযোগ তোলেন।

বৈষম্যবিরোধী শিক্ষার্থী সংসদের ভিপি প্রার্থী আব্দুল কাদের বলেন, “গাউসুল আজম মার্কেটে ব্যালট ছাপানোর বিষয়টি প্রশাসন অস্বীকার করছে। কিন্তু আমরা শুনছি সেখানে ব্যালট ছাপানো হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছ থেকে দ্রুত ব্যাখ্যা আশা করি।”

নির্বাচনের দুই দিন পর ১১ সেপ্টেম্বর ৯ জন পোলিং এজেন্ট লিখিত অভিযোগ দেন প্রধান রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে। তাঁরা ভোটকেন্দ্রে আগে থেকেই পূরণ করা ব্যালট পেপার, জাল ভোটার উপস্থিতি ও পোলিং এজেন্টদের বাধাদানের অভিযোগ তোলেন। এছাড়া ১৫ সেপ্টেম্বর স্বতন্ত্র শিক্ষার্থী ঐক্যের ভিপি প্রার্থী উমামা ফাতেমা ভোট ম্যানুয়ালি পুনর্গণনার আবেদন করেন।

উমামা ফাতেমা বলেন, “ব্যালট ছাপানো ও গণনার মতো স্পর্শকাতর প্রক্রিয়ায় প্রশ্ন উঠলে নির্বাচন ঘিরে প্রশাসনের পেশাদারিত্ব নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়। তাই এসব সন্দেহের অবসান ঘটানো জরুরি।”

ছাত্রদলের ভিপি প্রার্থী আবিদুল ইসলাম খান বলেন, “নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন থাকলে তা ইতিহাসে বাজে দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। গাউসুল আজম মার্কেটে ছাপানো ব্যালট নির্দিষ্ট কোনো প্যানেলের হাতে দেওয়া হয়নি, এর নিশ্চয়তা কী?”

ডাকসুর জিএস প্রার্থী এস এম ফরহাদ বলেন, “যথাযথ প্রশ্ন থাকলে প্রশাসনের উচিত সেগুলোর জবাব দেওয়া। কিন্তু শিক্ষার্থীদের মতামতকে উপেক্ষা করা বা বিভ্রান্ত করা হলে আমরা সেটিকে পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র হিসেবে দেখব।”

ব্যালট বিতর্কের সূচনা করেন স্বতন্ত্র জিএস প্রার্থী আরাফাত চৌধুরী। ১৬ সেপ্টেম্বর ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে তিনি জানান, নীলক্ষেতের গাউসুল আজম মার্কেটে অরক্ষিতভাবে ব্যালট পেপার ছাপানো হয়েছে, তাতে কোনো সিরিয়াল নম্বরও ছিল না। প্রধান রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছেও তিনি লিখিত অভিযোগ জমা দেন।

বিতর্ক বাড়লে ২৪ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানায়, ব্যালট পেপার ছাপানোর কাজ যে ওএমআর মেশিনে সম্পন্ন হয়েছে, তা নীলক্ষেতের কোনো দোকানে সম্ভব নয়। তাই অরক্ষিতভাবে ব্যালট ছাপানোর অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই।

তবে বিতর্ক না থামায় ২৫ সেপ্টেম্বর প্রধান রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন নতুন বিজ্ঞপ্তিতে বলেন, “ব্যালট পেপারসংক্রান্ত অভিযোগটি নির্বাচন কমিশন গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছে। শিগগিরই সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত জানানো হবে।”

ডাকসুর নবনির্বাচিত নেতারা ১৪ সেপ্টেম্বর দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। এর মধ্যেই ব্যালট পেপার ইস্যু ঘিরে যে বিতর্ক শুরু হয়েছে, তা এখনো থামেনি।

সুত্রঃ প্রথম আলো

এই শাখার আরও খবর

প্রতারণা মামলায় জামিন পেলেন বিদিশা সিদ্দিক

প্রতারণার মামলায় সাবেক রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান প্রয়াত এইচ এম এরশাদের সাবেক স্ত্রী বিদিশা সিদ্দিক জামিন পেয়েছেন। হাইকোর্টের এই আদেশের ফলে তার কারামুক্তিতে…

ভারতে দহি হান্ডি উৎসবে শিশুসহ নিহত ২, আহত ২১২

ভারতের মহারাষ্ট্রে জন্মাষ্টমী উপলক্ষে আয়োজিত ঐতিহ্যবাহী দহি হান্ডি উৎসবে পৃথক দুর্ঘটনায় সাত বছরের এক শিশুসহ দুজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ২১২ জন।…

হৃদরোগে মারা গেলেন ঝাড়খণ্ডের মন্ত্রী সুদিব্য কুমার সোনু

ভারতের ঝাড়খণ্ড রাজ্যের উচ্চ ও কারিগরি শিক্ষা, নগর উন্নয়ন এবং পর্যটনমন্ত্রী সুদিব্য কুমার সোনু হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চা, জেএমএমের প্রবীণ এই…

মেসির নৈপুণ্যে ৪ গোলের ম্যাচে ইন্টার মায়ামির ড্র

আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা দেওয়ার পর ক্লাব ফুটবলে নিজের প্রথম ম্যাচেই দারুণ নৈপুণ্য দেখিয়েছেন লিওনেল মেসি। আর্জেন্টিনার হয়ে আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ইতি টানার ঘোষণার পর…

কী বার্তা নিয়ে মস্কো গেলেন ট্রাম্পের দূতরা

ইউক্রেন সংঘাতের অবসানে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করতে রাশিয়ার রাজধানী মস্কো সফর করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দুই প্রতিনিধি স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার। তারা ক্রেমলিনে…

গণমাধ্যমে তথ্য ফাঁসের ঘটনায় ৫০ মার্কিন কর্মকর্তার লাই ডিটেক্টর পরীক্ষা

মার্কিন সামরিক বাহিনীর জয়েন্ট স্টাফের প্রায় ৫০ জন বেসামরিক ও সামরিক কর্মকর্তার পলিগ্রাফ বা লাই ডিটেক্টর পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে। গণমাধ্যমে ধারাবাহিকভাবে অননুমোদিত সামরিক তথ্য ফাঁসের…

স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au