বাংলাদেশ

ডাকসু নির্বাচনে নীলক্ষেতে ব্যালট ছাপানো নিয়ে বিতর্ক, সন্দেহের অবসান চান প্রার্থীরা

  • 6:23 pm - September 27, 2025
  • পঠিত হয়েছে:৯৪ বার
নীলক্ষেতের গাউসুল আজম মার্কেটের যে ছাপাখানায় ব্যালট ছাপানো হয়েছিল, সেখানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কোনো নজরদারি ছিল না। ছবিঃ সংগৃহীত

মেলবোর্ন, ২৭ সেপ্টেম্বর- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনের ব্যালট পেপার নীলক্ষেতে অরক্ষিত অবস্থায় ছাপানো হয়েছে—এমন অভিযোগ ফলাফল ঘোষণার পর থেকেই তুলছেন প্রার্থীদের কেউ কেউ।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দাবি করেছে, ব্যালট যেভাবে ছাপানো হয়েছে, তা নীলক্ষেতের কোনো দোকানে সম্ভব নয়। তবে এই ব্যাখ্যা বিতর্ক থামাতে পারেনি। কয়েক দিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে।

গত বৃহস্পতিবার রাতে ক্যাম্পাসে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে বিক্ষোভ করেন একদল শিক্ষার্থী। তাঁদের অনেকে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। এর আগে ২২ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যানটিনে সংবাদ সম্মেলন করে ছাত্রদলের প্যানেলের প্রার্থীরা অভিযোগ করেন, নীলক্ষেতের একটি ছাপাখানায় বিপুলসংখ্যক ব্যালট পেপার অরক্ষিত অবস্থায় পাওয়া গেছে।

তাঁরা বলেন, নীলক্ষেতের গাউসুল আজম মার্কেটের যে ছাপাখানায় ব্যালট ছাপানো হয়েছিল, সেখানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কোনো নজরদারি ছিল না।

বেসরকারি টেলিভিশন নিউজ টোয়েন্টিফোরের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, গাউসুল আজম মার্কেটের জালাল প্রিন্টিং প্রেসে ডাকসু নির্বাচনের ৯৬ হাজার ব্যালট ছাপানো হয়। একই মার্কেটের মক্কা পেপার কাটিং হাউসে ৮৮ হাজার ব্যালট কাটা হয়। প্রতিবেদনে ৮ হাজার ব্যালটের হিসাব গরমিলের কথাও উল্লেখ করা হয়।

সেই প্রতিবেদনে জালাল প্রিন্টিং প্রেসের মালিক মো. জালালের সাক্ষাৎকারও যুক্ত করা হয়। সেখানে তিনি বলেন, ফেরদৌস ওয়াহিদ নামের এক ব্যক্তির কাছ থেকে কাজটি পেয়েছিলেন এবং তিন দিনে ৯৬ হাজার ব্যালট ছাপেন।

প্রথম আলোর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি গতকাল শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে জালাল প্রিন্টিং প্রেসে গিয়ে সেটি বন্ধ পান। পরে সন্ধ্যায় গিয়ে মালিককে পাওয়া গেলেও তিনি বিস্তারিত কিছু বলতে রাজি হননি। শুধু বলেন, “এসব বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়কে জিজ্ঞেস করুন, আমাকে না।”

৯ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচনে ভোটার ছিল ৩৯ হাজার ৮৭৪ জন। ২৮টি পদের মধ্যে ২৩টিতে জয়ী হয় ইসলামী ছাত্রশিবির–সমর্থিত প্যানেল ‘ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোট’। নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হলেও পরে কিছু প্রার্থী অনিয়মের অভিযোগ তোলেন।

বৈষম্যবিরোধী শিক্ষার্থী সংসদের ভিপি প্রার্থী আব্দুল কাদের বলেন, “গাউসুল আজম মার্কেটে ব্যালট ছাপানোর বিষয়টি প্রশাসন অস্বীকার করছে। কিন্তু আমরা শুনছি সেখানে ব্যালট ছাপানো হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছ থেকে দ্রুত ব্যাখ্যা আশা করি।”

নির্বাচনের দুই দিন পর ১১ সেপ্টেম্বর ৯ জন পোলিং এজেন্ট লিখিত অভিযোগ দেন প্রধান রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে। তাঁরা ভোটকেন্দ্রে আগে থেকেই পূরণ করা ব্যালট পেপার, জাল ভোটার উপস্থিতি ও পোলিং এজেন্টদের বাধাদানের অভিযোগ তোলেন। এছাড়া ১৫ সেপ্টেম্বর স্বতন্ত্র শিক্ষার্থী ঐক্যের ভিপি প্রার্থী উমামা ফাতেমা ভোট ম্যানুয়ালি পুনর্গণনার আবেদন করেন।

উমামা ফাতেমা বলেন, “ব্যালট ছাপানো ও গণনার মতো স্পর্শকাতর প্রক্রিয়ায় প্রশ্ন উঠলে নির্বাচন ঘিরে প্রশাসনের পেশাদারিত্ব নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়। তাই এসব সন্দেহের অবসান ঘটানো জরুরি।”

ছাত্রদলের ভিপি প্রার্থী আবিদুল ইসলাম খান বলেন, “নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন থাকলে তা ইতিহাসে বাজে দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। গাউসুল আজম মার্কেটে ছাপানো ব্যালট নির্দিষ্ট কোনো প্যানেলের হাতে দেওয়া হয়নি, এর নিশ্চয়তা কী?”

ডাকসুর জিএস প্রার্থী এস এম ফরহাদ বলেন, “যথাযথ প্রশ্ন থাকলে প্রশাসনের উচিত সেগুলোর জবাব দেওয়া। কিন্তু শিক্ষার্থীদের মতামতকে উপেক্ষা করা বা বিভ্রান্ত করা হলে আমরা সেটিকে পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র হিসেবে দেখব।”

ব্যালট বিতর্কের সূচনা করেন স্বতন্ত্র জিএস প্রার্থী আরাফাত চৌধুরী। ১৬ সেপ্টেম্বর ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে তিনি জানান, নীলক্ষেতের গাউসুল আজম মার্কেটে অরক্ষিতভাবে ব্যালট পেপার ছাপানো হয়েছে, তাতে কোনো সিরিয়াল নম্বরও ছিল না। প্রধান রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছেও তিনি লিখিত অভিযোগ জমা দেন।

বিতর্ক বাড়লে ২৪ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানায়, ব্যালট পেপার ছাপানোর কাজ যে ওএমআর মেশিনে সম্পন্ন হয়েছে, তা নীলক্ষেতের কোনো দোকানে সম্ভব নয়। তাই অরক্ষিতভাবে ব্যালট ছাপানোর অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই।

তবে বিতর্ক না থামায় ২৫ সেপ্টেম্বর প্রধান রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন নতুন বিজ্ঞপ্তিতে বলেন, “ব্যালট পেপারসংক্রান্ত অভিযোগটি নির্বাচন কমিশন গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছে। শিগগিরই সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত জানানো হবে।”

ডাকসুর নবনির্বাচিত নেতারা ১৪ সেপ্টেম্বর দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। এর মধ্যেই ব্যালট পেপার ইস্যু ঘিরে যে বিতর্ক শুরু হয়েছে, তা এখনো থামেনি।

সুত্রঃ প্রথম আলো

এই শাখার আরও খবর

কুষ্টিয়ায় ছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মাদ্রাসাশিক্ষক গ্রেপ্তার

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে ৯ বছর বয়সী এক ছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে সাঈদ হোসেন ওরফে নান্নু (৪২) নামে এক মাদ্রাসাশিক্ষককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বুধবার (২১ অক্টোবর) বিকেলে…

‘বাংলাদেশের পুজো এবার চমকে দেওয়ার মতো, সাবাশ বাংলাদেশ!’: ময়ূখ রঞ্জন ঘোষ

বাংলাদেশের দুর্গাপূজার আয়োজন ও প্রতিমার প্রশংসা করেছেন ভারতের টেলিভিশন উপস্থাপক ও সাংবাদিক ময়ূখ রঞ্জন ঘোষ। বিশেষ করে চট্টগ্রামের বিভিন্ন পূজামণ্ডপের প্রশংসা করে তিনি লিখেছেন, ‘বাংলাদেশের…

সাজেকে ‘সশস্ত্র গোষ্ঠীর’ সঙ্গে সেনাবাহিনীর গোলাগুলি, যা যা ঘটল সারাদিন

রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার পর্যটনকেন্দ্র সাজেকে অবরোধের মধ্যে আটকে পড়া পর্যটকদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার সময় সেনাবাহিনী ও একটি ‘সশস্ত্র গোষ্ঠীর’ মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (২২…

লালপেড়ে সাদা শাড়ি, সিঁথিতে সিঁদুর, পুজোর সাজে বাঙালিয়ানায় মুগ্ধতা ছড়ালেন নুসরাত

পুজোর সাজে সাবেকি বাঙালিয়ানার আবেদন বরাবরই আলাদা। লালপেড়ে সাদা শাড়ি, সোনার গয়না, কপালে লাল টিপ আর সিঁথিতে সিঁদুর, এই চেনা সাজেই যেন ধরা পড়ে বাঙালির…

সিঁদুর খেলতে গিয়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়লেন তন্নি দে

বিয়ের মাত্র চার মাস, নতুন সংসারের স্বপ্ন ও বাবার বাড়িতে প্রথম দুর্গোৎসবের আনন্দ এক নিমেষেই বিষাদে পরিণত হয়েছে। বিজয়া দশমীতে দেবীর কপালে সিঁদুর দিতে গিয়ে…

সৌদিতে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড, কূটনৈতিক ব্যর্থতার দায় কে নেবে?

সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে। তাঁদের পরিবারের সদস্যরা গণমাধ্যমের খবর থেকে এ ঘটনা জানতে পেরেছেন। বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষও মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে বিষয়টি জানতে…

স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au