শেখ হাসিনার দেশে ফেরার সময় সঙ্গে থাকতে পারেন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা
বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা দেশে ফেরার সময় তাঁর সঙ্গে একদল আন্তর্জাতিক স্বাধীন পর্যবেক্ষককে রাখার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বের…
মেলবোর্ন, ২৭ সেপ্টেম্বর- বাংলাদেশের পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়িতে এক পাহাড়ি কিশোরীকে ধর্ষণের ঘটনার প্রতিবাদে উত্তপ্ত পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ায় সদর উপজেলা ও পৌরসভা এলাকায় অনির্দিষ্টকালের জন্য ১৪৪ ধারা জারি করেছে জেলা প্রশাসন।
শনিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুর ২টা থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এই আদেশ কার্যকর থাকবে বলে জানিয়েছেন জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও জেলা প্রশাসক এবিএম ইফতেখারুল ইসলাম।
প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ধর্ষণবিরোধী অবরোধকে কেন্দ্র করে দুপুরের দিকে পাহাড়ি ও বাঙালি দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জরুরি ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
ইতিমধ্যে শহরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে, পাশাপাশি পুলিশ টহলও জোরদার করা হয়েছে।
১৪৪ ধারার আওতায় খাগড়াছড়ি সদর ও পৌর এলাকায় চার বা ততোধিক মানুষের জমায়েত, মিছিল, সমাবেশ, মাইকিং ও অস্ত্র বহনসহ যেকোনো উসকানিমূলক কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
শনিবার সকাল থেকে জুম্ম ছাত্র-জনতার ডাকা সকাল-সন্ধ্যা সড়ক অবরোধে খাগড়াছড়ি জেলার ভেতর ও বাইরে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ফলে দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও সাজেকগামী পর্যটকরা।
পরিবহন কাউন্টার সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার প্রায় ২০০টি গাড়িতে দুই হাজারের মতো পর্যটক সাজেকে গিয়েছিলেন। শনিবারও খাগড়াছড়ি থেকে সাজেকগামী গাড়ি ছাড়ার প্রস্তুতি থাকলেও প্রশাসনের অনুমতি না পাওয়ায় সেগুলো বন্ধ রাখা হয়েছে।
অবরোধকারীরা খাগড়াছড়ি-ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কসহ পানছড়ি, দীঘিনালা ও মহালছড়ি এলাকায় টায়ার জ্বালিয়ে ও গাছ ফেলে ব্যারিকেড তৈরি করেছেন। বলপাইয়ে আদাম এলাকায় অন্তত ছয়-সাতটি গাড়ি আটকে রাখা হয়। অনেক যাত্রী বাধ্য হয়ে হেঁটে শহরে প্রবেশ করেন। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা নৈশকোচও সড়কে আটকা পড়ে।
নোয়াখালী থেকে আসা পর্যটক মো. ফারুক বলেন, “সাজেক ঘুরতে এসে অবরোধে আটকা পড়েছি। এখন ফিরতে পারব কি না জানি না।”
গাজীপুরের পর্যটক মো. সোলাইমান জানান, “পরিবার ও ছোট বাচ্চাদের নিয়ে এসেছি। সাজেকের গাড়ি না ছাড়লে হোটেলে উঠব কি না বুঝতে পারছি না।”
খাগড়াছড়ির পুলিশ সুপার আরেফিন জুয়েল বলেন, “গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ব্যারিকেড সরিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে। এখন পর্যন্ত কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।”
গত ২৩ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় খাগড়াছড়ি সদর এলাকায় এক মারমা কিশোরীকে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর বাবা তিনজনকে আসামি করে মামলা করেন। পরে সেনাবাহিনীর সহায়তায় সন্দেহভাজন শয়ন শীলকে আটক করা হয় এবং তাকে রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au