মেলবোর্ন, ২৯ সেপ্টেম্বর- শারদীয় দুর্গাপূজার মহোৎসব শুরু হয়েছে দেবী দুর্গাকে বরণের মধ্য দিয়ে। অশুভ শক্তির বিনাশ ও ধর্ম প্রতিষ্ঠার আহ্বান নিয়ে দেবী দুর্গার আগমন উপলক্ষে দেশজুড়ে এখন উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। গতকাল বুধবার ষষ্ঠীপূজার মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয় পাঁচ দিনের এই মহাপর্ব। আজ বৃহস্পতিবার মহাসপ্তমীর মধ্য দিয়ে পূজামণ্ডপগুলোতে ভক্ত-অনুরাগীরা দেবীকে স্বাগত জানাচ্ছেন।
মহাসপ্তমীর মূল আচার হলো নবপত্রিকা প্রবেশ ও কলাবউ স্নান। ভোরে পুরোহিতেরা নদী বা জলাশয়ে গিয়ে কলাগাছসহ নয় প্রকার পত্রিকা স্নান করান। এরপর ঢাক-ঢোল, উলুধ্বনি ও শঙ্খধ্বনির মধ্য দিয়ে নবপত্রিকা পূজামণ্ডপে প্রবেশ করানো হয়। এই রীতি অনুসরণ করে মহাসপ্তমীর পূজা আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়। ভক্তরা বিশ্বাস করেন, নবপত্রিকা পূজার মাধ্যমে দেবীর অর্চনা সম্পূর্ণতা লাভ করে।
রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে হাজারো পূজামণ্ডপে আজ সকাল থেকেই ভক্তদের ভিড় দেখা যাচ্ছে। ঢাকার রমনা কালীমন্দির, ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির, বনানী, ধানমন্ডি ও বিভিন্ন এলাকার পূজামণ্ডপগুলোতে ভক্তরা ফুল, ফল ও প্রদীপ নিয়ে দেবীর চরণে অর্ঘ্য নিবেদন করছেন।
পূজার শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে। প্রতিটি পূজামণ্ডপে পুলিশ, র্যাব, আনসার সদস্য ও স্বেচ্ছাসেবকের পাশাপাশি সিসি ক্যামেরা ও মেটাল ডিটেক্টর বসানো হয়েছে।
মহাসপ্তমী উপলক্ষে ভক্তরা নতুন পোশাক পরে মণ্ডপে আসছেন, দেবীর কাছে অশুভ শক্তি দূর করে শান্তি, সমৃদ্ধি ও সাফল্যের প্রার্থনা করছেন। বিশেষ করে শিশু-কিশোরদের মাঝে উৎসবের আনন্দ বেশি। মণ্ডপে মণ্ডপে চলছে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, ঢাক-ঢোলের বাজনা ও আলোকসজ্জার ঝলক।
শারদীয় দুর্গাপূজা আগামী সোমবার বিজয়া দশমীতে বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে। মহাষষ্ঠী ও মহাসপ্তমীর পর আগামীকাল শুক্রবার মহাঅষ্টমী, শনিবার মহানবমী পালিত হবে। মহাঅষ্টমীতে কুমারী পূজা, স্যান্ডি পূজা ও মহাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। আর বিজয়া দশমীতে ভক্তরা চোখের জলে দেবীকে বিদায় জানাবেন।
এভাবেই মহাসপ্তমীর মধ্য দিয়ে শুরু হলো দুর্গাপূজার মূল উৎসবপর্ব। দেশজুড়ে ভক্ত ও অনুরাগীদের আনন্দ-উচ্ছ্বাসে এখন উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে।