খাগড়াছড়ি সহিংসতার নেপথ্যে ভারত ও ফ্যাসিস্টদের ইন্ধন: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা (সূত্র: বিবিসি)
মেলবোর্ন, ২৯ সেপ্টেম্বর-বাংলাদেশের খাগড়াছড়ি জেলায় এক স্কুলছাত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় প্রতিবাদের জেরে ভয়াবহ সহিংসতার সৃষ্টি হয়েছে। রবিবার দুপুরে গুইমারা উপজেলার রামেসু বাজার এলাকায় ‘জুম্মা ছাত্র জনতা’ নামে একটি সংগঠনের বিক্ষোভ চলাকালে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে অন্তত তিনজন নিহত এবং শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন। খাগড়াছড়ি জেলা সিভিল সার্জন মোহাম্মদ সাবরে নিশ্চিত করেছেন, ঘটনাস্থল থেকে তিনজনের মরদেহ সদর হাসপাতালে আনা হয়।
ঘরবাড়ি ও দোকানপাটে হামলা
সহিংসতার মধ্যে অন্তত ১৫টি ঘরবাড়ি এবং ৬০টি দোকান ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। এ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে এবং মানবাধিকার ও সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো নিন্দার ঝড় তুলেছে।
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) সমালোচনা করে বলেছে, শান্তিপূর্ণভাবে ন্যায়বিচার দাবি করা পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর ওপর কেন এমন সহিংসতা চালানো হলো তা অজানা। নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান প্রশ্ন তুলেছেন—“আদিবাসী নারীর প্রতি সহিংসতাকে স্বাভাবিক করার প্রচেষ্টা নতুন কিছু নয়। সেনানিয়ন্ত্রিত প্রশাসন সময়মতো কার্যকর কৌশল গ্রহণে ব্যর্থ হলো কেন?”
মানবাধিকার ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিক্রিয়া
বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ সরকারকে অবিলম্বে দায়ীদের গ্রেপ্তার, ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ এবং আক্রান্ত এলাকায় নিরাপত্তা পুনঃস্থাপনের দাবি জানিয়েছে।
বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী হামলা, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগকে “অমানবিক, গণতন্ত্রবিরোধী ও মানবতার জন্য কলঙ্কজনক” বলে অভিহিত করেছে। তারা দ্রুত অপরাধীদের শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে।
এদিকে ‘নারীবাদী’ ব্যানারে ৮৪ জন নারী অধিকারকর্মী আলাদা বিবৃতিতে ধর্ষণের ঘটনায় দায়ীদের দ্রুত বিচার ও শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। তারা উল্লেখ করেন, গত এক বছরে খাগড়াছড়িতে সাতজন আদিবাসী নারী ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। কিন্তু ভুক্তভোগী ও প্রতিবাদকারীরা বারবার আক্রমণ, বিলম্বিত বিচার প্রক্রিয়া এবং রাষ্ট্রীয় সহায়তার অভাবে ভুগছেন।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও সরকারের অবস্থান
ঘটনাটি এমন সময়ে ঘটল যখন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার অপসারণের পর থেকে বাংলাদেশে আইনশৃঙ্খলার অবনতির অভিযোগ উঠছে। সমালোচকরা বলছেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারপ্রধান ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে নারীর প্রতি সহিংসতা ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা বেড়েছে।
এদিকে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা মোঃ জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী দাবি করেছেন—“ভারত বা ফ্যাসিস্টদের ইন্ধনেই খাগড়াছড়ির ঘটনা ঘটেছে।” সোমবার রমনায় পুরাতন থানা কমপ্লেক্সে পাঁচটি থানার প্রশাসনিক কাম-ব্যারাক ভবনের উদ্বোধনকালে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সরকার সর্বাত্মক ব্যবস্থা নিয়েছে।
খাগড়াছড়ির সহিংসতা দেশব্যাপী এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোড়ন তুলেছে। মানবাধিকার ও রাজনৈতিক সংগঠনগুলো অবিলম্বে ন্যায়বিচার, ক্ষতিগ্রস্তদের সুরক্ষা এবং আদিবাসী জনগোষ্ঠীর অধিকারের নিশ্চয়তা চেয়েছে। তবে সরকারের বক্তব্য এবং নাগরিক সমাজের দাবি—এই দুইয়ের মধ্যে ফারাক আরও নতুন রাজনৈতিক ও সামাজিক উত্তেজনার জন্ম দিচ্ছে।
আরো সংবাদ