জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা আবদুল হান্নান মাসউদ। ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ২৯ সেপ্টেম্বর- খাগড়াছড়িতে পাহাড়ি কিশোরীকে দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগের ঘটনাকে ‘ভুয়া ধর্ষণ’ বলে মন্তব্য করে বিতর্কের মুখে পড়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা আবদুল হান্নান মাসউদ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার এই বক্তব্য ঘিরে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়েছে।
এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক হান্নান মাসউদ পরে নিজের বক্তব্যের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “ধর্ষণের মতো গর্হিত অপরাধকে কোনোভাবেই অস্বীকার করা যায় না। ধর্ষকের কঠোর থেকে কঠোরতর শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।” একই সঙ্গে তিনি স্বীকার করেন, “ভুলবশত ও তাৎক্ষণিকভাবে ‘ভুয়া ধর্ষণ’ শব্দটি ব্যবহার করে ফেলেছি, যা কোনোভাবেই আমার উদ্দেশ্য ছিল না। আমি এ নিয়ে বিব্রত ও দুঃখিত।”
এর আগে রোববার নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার চানন্দী ইউনিয়নে এক সমাবেশে হান্নান মাসউদ বলেন, “বাংলাদেশের পার্বত্য অঞ্চল নিয়ে ষড়যন্ত্র চলছে। ভারত আমাদের পার্বত্য অঞ্চল কেড়ে নিতে চায়। একটা ভুয়া ধর্ষণের ঘটনার মধ্য দিয়ে তারা বাঙালি ও পাহাড়িদের মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে।” বক্তব্যে আরও বলেন, “বাংলাদেশের মানুষ এই ভূখণ্ডের এক ইঞ্চিও ছাড়বে না। ভারতকে জবাব দিতে হবে।”

পাহাড়ি শিক্ষার্থীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় কয়েকদিনের অবরোধ, মিছিল ও সহিংসতার পর খাগড়াছড়িতে টানটান পরিস্থিতি বিরাজ করছে। ছবিঃ সংগৃহীত
এই বক্তব্য প্রকাশের পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। এনসিপির ভেতরেও বিভাজন তৈরি হয়। সোমবার সকালে দলটির কেন্দ্রীয় কমিটিতে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর একমাত্র প্রতিনিধি অলিক মৃ পদত্যাগ করেন। তিনি বলেন, “খাগড়াছড়ির ধর্ষণ ও পরবর্তী সহিংসতার ঘটনায় এনসিপির নীরবতা এবং হান্নান মাসউদের মিথ্যাচারমূলক বক্তব্যে আমি গভীরভাবে ক্ষুব্ধ।”
অলিক মৃর পদত্যাগের কিছুক্ষণ পরেই হান্নান মাসউদ নিজের ফেসবুক পেজে নতুন পোস্ট দেন। তাতে লেখেন, “একটি ধর্ষণের ঘটনাকে সামনে এনে পাহাড়ে অশান্তি সৃষ্টি করা হচ্ছে। আমার দেশের সার্বভৌমত্বকে যারা হুমকির মুখে ফেলবে, তাদের বিরুদ্ধে আমি জীবন দিয়েও লড়ব। এসব ফালতু সুশীলগিরি এবার থামান।” তবে এই পোস্ট কিছুক্ষণ পর তিনি মুছে দেন।

ধর্ষণবিরোধী অবরোধকে কেন্দ্র করে দুপুরের দিকে পাহাড়ি ও বাঙালি দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ছবিঃ সংগৃহীত
বিকেলে তিনি আবারও নতুন পোস্টে অবস্থান স্পষ্ট করে বলেন, “ধর্ষণের মতো অপরাধ অস্বীকারযোগ্য নয়। আমার বক্তব্য ভুলভাবে উপস্থাপিত হয়েছে। আমি সকল নাগরিককে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানাই।”
খাগড়াছড়িতে ধর্ষণ, বিক্ষোভ ও গুলিতে তিনজনের মৃত্যুর ঘটনায় দেশজুড়ে আলোচনার মধ্যে হান্নান মাসউদের এই মন্তব্য নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
সুত্রঃ প্রথম আলো