পারেদেসকে লাল কার্ড দেওয়ার খবর নাকচ করলো ফিফা
মেলবোর্ন, ২২ জুলাই- ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেন ও আর্জেন্টিনার ম্যাচ শেষে সংঘর্ষের ঘটনায় আর্জেন্টাইন মিডফিল্ডার লিয়েন্দ্রো পারেদেসকে লাল কার্ড দেখানো হয়েছে বলে যে খবর ছড়িয়ে…
মেলবোর্ন, ১ অক্টোবর- বিশ্বের ইতিহাসে অন্যতম বৃহত্তম ক্রিপ্টোকারেন্সি জালিয়াতির ঘটনায় দোষ স্বীকার করেছেন চীনের নাগরিক ঝিমিন কিয়ান, যিনি ‘ইয়াদি ঝাং’ নামেও পরিচিত। সোমবার (২৯ সেপ্টেম্বর) লন্ডনের সাউথওয়ার্ক ক্রাউন কোর্টে তিনি এ স্বীকারোক্তি দেন।
লন্ডন মেট্রোপলিটন পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৪ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত কিয়ান চীনে একটি বিশাল প্রতারণা চক্র পরিচালনা করে ১ লাখ ২৮ হাজারেরও বেশি মানুষের কাছ থেকে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নেন। পরে সেই অর্থ তিনি বিটকয়েনে রূপান্তর করেন।
এই মামলায় মোট ৬১ হাজার বিটকয়েন জব্দ করা হয়েছে, যার বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ৫০০ কোটি পাউন্ড (৬৭০ কোটি মার্কিন ডলার)। এটি যুক্তরাজ্যে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় ক্রিপ্টোকারেন্সি জালিয়াতির ঘটনা।
২০১৮ সালে গোপন সূত্রের ভিত্তিতে এই ঘটনার তদন্ত শুরু হয়। টানা সাত বছর দেশীয় ও আন্তর্জাতিক সংস্থার সহায়তায় তদন্ত চালানো হয়। ৪৭ বছর বয়সী কিয়ান ভুয়া নথিপত্র ব্যবহার করে যুক্তরাজ্যে প্রবেশ করেন এবং জালিয়াতির অর্থ দিয়ে বিভিন্ন সম্পত্তি কিনে অর্থ পাচারের চেষ্টা করেন।
তাকে সহায়তা করেন জিয়ান ওয়েন নামে এক চীনা রেস্তোরাঁ কর্মী। ২০২৪ সালে ওয়েন ছয় বছর আট মাসের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন। তাঁর কাছ থেকে ৩০ কোটি পাউন্ডের বেশি মূল্যের বিটকয়েনও উদ্ধার করা হয়।
চীনের লাইফউইক মিডিয়ার তথ্যমতে, ভুক্তভোগীদের বেশিরভাগই ৫০ থেকে ৭৫ বছর বয়সী। কিয়ানের প্রচারিত বিনিয়োগ স্কিমে অনেকে বন্ধুবান্ধব ও আত্মীয়দের মাধ্যমে যুক্ত হন। প্রতিদিন নিশ্চিত মুনাফার প্রলোভন দিয়ে কিয়ান তাঁদের কাছ থেকে ‘কয়েক লাখ থেকে কয়েক কোটি ইউয়ান’ পর্যন্ত হাতিয়ে নেন।
ক্রাউন প্রসিকিউশন সার্ভিস (সিপিএস) জানায়, ওয়েন প্রতারণার অর্থ দিয়ে উত্তর লন্ডনের বহু-মিলিয়ন পাউন্ড দামের একটি বাড়ি ও দুবাইয়ে দুটি বিলাসবহুল সম্পত্তি কেনেন। তবে এসব অর্থের বৈধ উৎস তিনি দেখাতে ব্যর্থ হন।
মেট্রোপলিটন পুলিশের অর্থনৈতিক ও সাইবার অপরাধ দমন বিভাগের প্রধান উইল লাইন বলেন, “এটি বছরের পর বছর ধরে পরিচালিত এক ধারাবাহিক তদন্তের ফল। আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমেই এ সাফল্য এসেছে।”
ক্রাউন প্রসিকিউটর রবিন ওয়েইয়েল মন্তব্য করেন, “বিটকয়েনসহ অন্যান্য ক্রিপ্টোকারেন্সি এখন অপরাধীদের অর্থ লুকানো ও স্থানান্তরের প্রধান হাতিয়ার হয়ে উঠেছে।”
তদন্ত এখনো চলমান রয়েছে। কিয়ানকে আটক রাখা হয়েছে এবং তাঁর সাজা ঘোষণার দিন এখনো নির্ধারিত হয়নি। সিপিএস জানিয়েছে, চীনে ক্ষতিপূরণ প্রকল্পের মাধ্যমে ভুক্তভোগীদের একটি অংশকে অর্থ ফেরত দেওয়া হয়েছে।
সূত্র: বিবিসি
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au