আগুনে বসতবাড়ির সবটুকু পুড়ে ছাই হয়ে মাটির সঙ্গে মিশে গেছে। পড়ে রয়েছে পুড়ে যাওয়া টিন, ছড়িয়ে–ছিটিয়ে আছে ভস্মীভূত নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র। ছবিঃ প্রথম আলো
মেলবোর্ন, ১ অক্টোবর- খাগড়াছড়িতে ধর্ষণের অভিযোগে আলোচিত সেই কিশোরীর শারীরিক পরীক্ষার প্রতিবেদনে ধর্ষণের কোনো আলামত পাওয়া যায়নি। তিন সদস্যের মেডিকেল বোর্ড মঙ্গলবার রাত সাড়ে আটটার দিকে প্রতিবেদনটি জেলা সিভিল সার্জন ডা. ছাবের আহম্মেদের কাছে জমা দেয়।
সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক সূত্রে জানা গেছে, পরীক্ষার ১০টি সূচকের সবগুলোতেই “স্বাভাবিক” উল্লেখ রয়েছে, যার মানে শারীরিকভাবে কোনো ধর্ষণের প্রমাণ মেলেনি।
বোর্ডের নেতৃত্বে ছিলেন খাগড়াছড়ি আধুনিক সদর হাসপাতালের স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. জয়া চাকমা। তিনি বলেন, “আমি, চিকিৎসক মোশারফ হোসেন ও নাহিদা আকতার—আমরা তিনজন কমিটিতে ছিলাম। প্রতিবেদনটি আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জমা দিয়েছি। বিস্তারিত জানার বিষয়টি তাঁদের এখতিয়ার।”
জেলা সিভিল সার্জন ডা. ছাবের আহম্মেদ আজ বুধবার সকালে বলেন, “মেডিকেল বোর্ডের প্রতিবেদনে ধর্ষণের কোনো আলামত পাওয়া যায়নি। তবে এটি আদালতের বিষয়। আদালতই যাচাই করবেন প্রকৃত সত্য।” তিনি জানান, মঙ্গলবার রাতেই প্রতিবেদনটি মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও জেলা পুলিশ সুপারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আরেফিন জুয়েলও প্রতিবেদনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
অন্যদিকে, জুম্ম ছাত্র-জনতার মুখপাত্র কৃপায়ন ত্রিপুরা বলেন, “এটি সরকারের পরিকল্পিত ও মনগড়া প্রতিবেদন। এত দ্রুত ধর্ষণ মামলার মেডিকেল রিপোর্ট পার্বত্য চট্টগ্রামে আগে কখনো দেওয়া হয়নি। আমরা দেখেছি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কেউ কেউ ভুক্তভোগী কিশোরীর ছবি ছড়াচ্ছেন—এটিও অপরাধ। আমরা এর ন্যায্য বিচার চাই।”
গত ২৪ সেপ্টেম্বর রাতে খাগড়াছড়ি সদর এলাকায় প্রাইভেট পড়ে ফেরার পথে পাহাড়ি এক কিশোরীকে দলবদ্ধভাবে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে। রাত ১১টার দিকে অচেতন অবস্থায় এক খেত থেকে তাকে উদ্ধার করেন স্বজনেরা। এরপর তাকে খাগড়াছড়ি আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়, তবে পরদিনই সে হাসপাতাল ছেড়ে চলে যায়।
এ ঘটনায় পুলিশ শয়ন শীল নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে।
ঘটনার পর থেকেই খাগড়াছড়িতে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। জুম্ম ছাত্র-জনতার ব্যানারে প্রথমে শনিবার খাগড়াছড়িতে অবরোধ ডাকা হয়, পরে তা তিন পার্বত্য জেলায় ছড়িয়ে পড়ে। অবরোধ চলাকালীন গত রোববার খাগড়াছড়ির গুইমারার রামেসু বাজার এলাকায় সহিংস সংঘর্ষে তিনজন পাহাড়ি নিহত হন এবং সেনাবাহিনীর এক মেজরসহ অন্তত ২০ জন আহত হন। আগুনে পুড়ে যায় প্রায় ৫০টি বসতবাড়ি ও ৪০টির মতো দোকান।
পরিস্থিতি এখনো পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি, তবে প্রশাসন জানিয়েছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ঘটনাস্থলে টহল জোরদার করেছে।
সুত্রঃ প্রথম আলো