সর্বশেষ

মেডিকেল রিপোর্টে মেলেনি খাগড়াছড়িতে কিশোরী ধর্ষণের আলামত

  • 6:41 pm - October 01, 2025
  • পঠিত হয়েছে:১৪৮ বার
আগুনে বসতবাড়ির সবটুকু পুড়ে ছাই হয়ে মাটির সঙ্গে মিশে গেছে। পড়ে রয়েছে পুড়ে যাওয়া টিন, ছড়িয়ে–ছিটিয়ে আছে ভস্মীভূত নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র। ছবিঃ প্রথম আলো

মেলবোর্ন, ১ অক্টোবর- খাগড়াছড়িতে ধর্ষণের অভিযোগে আলোচিত সেই কিশোরীর শারীরিক পরীক্ষার প্রতিবেদনে ধর্ষণের কোনো আলামত পাওয়া যায়নি। তিন সদস্যের মেডিকেল বোর্ড মঙ্গলবার রাত সাড়ে আটটার দিকে প্রতিবেদনটি জেলা সিভিল সার্জন ডা. ছাবের আহম্মেদের কাছে জমা দেয়।

সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক সূত্রে জানা গেছে, পরীক্ষার ১০টি সূচকের সবগুলোতেই “স্বাভাবিক” উল্লেখ রয়েছে, যার মানে শারীরিকভাবে কোনো ধর্ষণের প্রমাণ মেলেনি।

বোর্ডের নেতৃত্বে ছিলেন খাগড়াছড়ি আধুনিক সদর হাসপাতালের স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. জয়া চাকমা। তিনি বলেন, “আমি, চিকিৎসক মোশারফ হোসেন ও নাহিদা আকতার—আমরা তিনজন কমিটিতে ছিলাম। প্রতিবেদনটি আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জমা দিয়েছি। বিস্তারিত জানার বিষয়টি তাঁদের এখতিয়ার।”

জেলা সিভিল সার্জন ডা. ছাবের আহম্মেদ আজ বুধবার সকালে বলেন, “মেডিকেল বোর্ডের প্রতিবেদনে ধর্ষণের কোনো আলামত পাওয়া যায়নি। তবে এটি আদালতের বিষয়। আদালতই যাচাই করবেন প্রকৃত সত্য।” তিনি জানান, মঙ্গলবার রাতেই প্রতিবেদনটি মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও জেলা পুলিশ সুপারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আরেফিন জুয়েলও প্রতিবেদনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

অন্যদিকে, জুম্ম ছাত্র-জনতার মুখপাত্র কৃপায়ন ত্রিপুরা বলেন, “এটি সরকারের পরিকল্পিত ও মনগড়া প্রতিবেদন। এত দ্রুত ধর্ষণ মামলার মেডিকেল রিপোর্ট পার্বত্য চট্টগ্রামে আগে কখনো দেওয়া হয়নি। আমরা দেখেছি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কেউ কেউ ভুক্তভোগী কিশোরীর ছবি ছড়াচ্ছেন—এটিও অপরাধ। আমরা এর ন্যায্য বিচার চাই।”

গত ২৪ সেপ্টেম্বর রাতে খাগড়াছড়ি সদর এলাকায় প্রাইভেট পড়ে ফেরার পথে পাহাড়ি এক কিশোরীকে দলবদ্ধভাবে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে। রাত ১১টার দিকে অচেতন অবস্থায় এক খেত থেকে তাকে উদ্ধার করেন স্বজনেরা। এরপর তাকে খাগড়াছড়ি আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়, তবে পরদিনই সে হাসপাতাল ছেড়ে চলে যায়।

এ ঘটনায় পুলিশ শয়ন শীল নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে।

ঘটনার পর থেকেই খাগড়াছড়িতে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। জুম্ম ছাত্র-জনতার ব্যানারে প্রথমে শনিবার খাগড়াছড়িতে অবরোধ ডাকা হয়, পরে তা তিন পার্বত্য জেলায় ছড়িয়ে পড়ে। অবরোধ চলাকালীন গত রোববার খাগড়াছড়ির গুইমারার রামেসু বাজার এলাকায় সহিংস সংঘর্ষে তিনজন পাহাড়ি নিহত হন এবং সেনাবাহিনীর এক মেজরসহ অন্তত ২০ জন আহত হন। আগুনে পুড়ে যায় প্রায় ৫০টি বসতবাড়ি ও ৪০টির মতো দোকান।

পরিস্থিতি এখনো পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি, তবে প্রশাসন জানিয়েছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ঘটনাস্থলে টহল জোরদার করেছে।

সুত্রঃ প্রথম আলো

এই শাখার আরও খবর

পুলিশ লাইনসে বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর মরদেহ, বাইরে জামায়াত নেতাকর্মীদের অবস্থান

একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জামায়াতে ইসলামীর নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে করা মামলার বাদী বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর (৮৭) মরদেহ মৃত্যুর প্রায় ১২ ঘণ্টা পরও…

রাজাকার নেতা সাঈদীর মামলার বাদী মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর মৃত্যু, দাফনে বাধা

পিরোজপুরে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জামায়াতে ইসলামীর নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে করা মামলার বাদী বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর (৮৭) মরদেহ দাফনে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।…

শেখ হাসিনাসহ ৪৫ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল

ঢাকার বাড্ডায় জুলাই আন্দোলনের সময় গাড়িচালক ইমদাদুল হককে হত্যার মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৪৫ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেছে পুলিশ। একই মামলায় এজাহারভুক্ত আরও…

সিডনিতে চালু হচ্ছে দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, ২৪ ঘণ্টা চলবে ফ্লাইট

অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে দীর্ঘ আট দশকের পরিকল্পনা ও কয়েক দশকের রাজনৈতিক টানাপোড়েনের পর চালু হচ্ছে দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। রোববার (২৫ অক্টোবর) ওয়েস্টার্ন সিডনির ব্যাজেরিস ক্রিকে নবনির্মিত…

আমাকে হত্যার টার্গেটটা মিস হয়ে গেছে : আসিফ আকবর

ওটিএন বাংলা রিপোর্ট সংগীতশিল্পী আসিফ আকবরকে হত্যার উদ্দেশ্যেই তাঁর গাড়িতে গুলি চালানো হয়েছে বলে আশঙ্কা করছেন তিনি নিজেই। শনিবার (২৪ অক্টোবর) ভোরে রাজধানীর মগবাজারে তাঁর…

বৃষ্টি-ঘূর্ণিঝড়ের ধরন বদলে দিচ্ছে এল নিনো, বিশ্ব আবহাওয়ায় যে পাঁচ বড় প্রভাব

ইন্দোনেশিয়ায় ভয়াবহ দাবানল, প্রশান্ত মহাসাগরে বাড়ছে হারিকেনের তৎপরতা, ভারতে কমেছে মৌসুমি বৃষ্টি। ২০২৭ সাল পর্যন্ত প্রভাব থাকার আশঙ্কা বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার প্রশান্ত মহাসাগরের পানির অস্বাভাবিক…

স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au