ডেঙ্গুতে এ বছর একদিনে সর্বোচ্চ মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১,৫৭১
দেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার…
মেলবোর্ন, ৩ অক্টোবর- গাজার উদ্দেশ্যে যাত্রারত মানবিক সহায়তাবাহী নৌবহর ‘গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা’ আটকের ঘটনায় ইসরায়েলি দখলদার বাহিনীর তীব্র নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। আন্তর্জাতিক জলসীমায় মানবিক সহায়তা বহনকারী নৌযানগুলো আটক করাকে আন্তর্জাতিক আইনের গুরুতর লঙ্ঘন বলে আখ্যা দিয়েছে ঢাকা।
শুক্রবার (৩ অক্টোবর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ নিন্দা জানানো হয়। এতে বলা হয়, ইসরায়েল অবিলম্বে নিঃশর্তভাবে আটক সব মানবিক সহায়তা কর্মী ও কর্মীদের মুক্তি দেবে এবং তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, বাংলাদেশ সরকার ইসরায়েলকে অবৈধ দখলদারিত্বের অবসান ঘটাতে, আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে এবং গাজা উপত্যকায় চলমান গণহত্যা ও মানবিক অবরোধ অবিলম্বে তুলে নিতে আহ্বান জানিয়েছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় উল্লেখ করে, “মানবিক সহায়তা বহনকারী নৌবহরটি ফিলিস্তিনি জনগণের প্রতি বৈশ্বিক সংহতির প্রতীক। ইসরায়েলি বাহিনীর উচিত ছিল গাজার বেসামরিক জনগণের জন্য বাধাহীন মানবিক প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা।”
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, বাংলাদেশ সরকার ও জনগণ এই চরম মানবিক বিপর্যয়ের সময় ফিলিস্তিনের জনগণের সঙ্গে অবিচল সংহতি বজায় রাখার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করছে।

গাজা অভিমুখী নৌবহরে থাকা আলমা নৌযানের ডেকে বসে আছেন আরোহীরা। ভিডিও থেকে নেওয়া ছবি। ছবি: রয়টার্স
‘গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা’ প্রায় ৪৫টি জাহাজ নিয়ে গত মাসে স্পেনের বার্সেলোনা থেকে গাজার উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করে। এতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মানবাধিকারকর্মী, রাজনীতিক, চিকিৎসক, সাংবাদিক এবং ফিলিস্তিনপন্থী সংগঠনের প্রতিনিধি ছিলেন। সুইডিশ জলবায়ু আন্দোলনকর্মী গ্রেটা থানবার্গও ছিলেন এই বহরের সদস্যদের একজন।
এই নৌবহরের লক্ষ্য ছিল ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের ওপর ইসরায়েলের আরোপিত অবরোধ ভেঙে গাজার ক্ষতিগ্রস্ত জনগণের কাছে খাদ্য ও চিকিৎসাসামগ্রী পৌঁছে দেওয়া। কিন্তু গত বুধবার থেকে ইসরায়েলি নৌবাহিনী একে একে বহরের নৌযানগুলো আটক করতে শুরু করে।

গাজায় মানবিক সহায়তা নিয়ে যাওয়া ‘গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা’র প্রায় সব নৌযান আটক করেছে ইসরায়েল। ছবিঃ রয়টার্স
ইসরায়েলি বাহিনী এখন পর্যন্ত প্রায় সব নৌযানই আটক করেছে। এসব নৌযানে থাকা শত শত আন্তর্জাতিক কর্মী ও স্বেচ্ছাসেবককে জোর করে আটক করে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তারা সবাই গাজার দিকে এগিয়ে যাচ্ছিলেন, যেখানে জাতিসংঘের তথ্যমতে, চলমান যুদ্ধে দুর্ভিক্ষ ও মানবিক বিপর্যয় ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে।
বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, “গাজায় মানবিক সাহায্য পৌঁছাতে যারা প্রাণের ঝুঁকি নিয়েছেন, তাদের আটক করা মানবাধিকারের স্পষ্ট লঙ্ঘন। ইসরায়েলের এ ধরনের পদক্ষেপ মানবিক মূল্যবোধ ও আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি অবমাননা।”
সুত্রঃ বাসস
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au