মুজাফফরাবাদে বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলি ছুড়ছেন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা।ছবি: রয়টার্স
মেলবোর্ন, ৪ অক্টোবর-পাকিস্তান–নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে আবারও ব্যাপক বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। গত কয়েকদিন ধরে মুয়াজ্জাফরাবাদসহ বিভিন্ন শহরে হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে এসেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, অব্যাহত বিদ্যুৎ–গ্যাস সংকট, করের বোঝা ও বৈষম্যমূলক নীতির কারণে তাদের জীবনযাত্রা দিনদিন অসহনীয় হয়ে উঠেছে।
বিক্ষোভের কারণ
- বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকট: কাশ্মীর অঞ্চল থেকেই পাকিস্তান বিদ্যুৎ উৎপাদনের বড় অংশ সংগ্রহ করে, অথচ স্থানীয় মানুষ নিয়মিত লোডশেডিং ও গ্যাস ঘাটতির শিকার।
- অর্থনৈতিক বৈষম্য: স্থানীয়দের দাবি, অঞ্চল থেকে বিপুল রাজস্ব আদায় করা হলেও উন্নয়ন ও জনসেবায় বিনিয়োগ হয় না।
- করের চাপ: নতুন কর নীতি স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষকে অতিষ্ঠ করে তুলেছে।
প্রতিবাদকারীরা সরকারি দপ্তর ঘেরাও, সড়ক অবরোধ এবং গণমিছিল করছে। কিছু স্থানে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের খবরও পাওয়া গেছে। নিরাপত্তা বাহিনী টিয়ার গ্যাস ও লাঠিচার্জ করেছে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন।
কাশ্মীর প্রশাসন বলছে, পরিস্থিতি শান্ত করতে আলোচনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তবে ইসলামাবাদ এখনো কোনো সুস্পষ্ট সমাধান পরিকল্পনা ঘোষণা করেনি।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, দীর্ঘদিনের অবহেলা ও বৈষম্যের শিকার হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ গভীর হচ্ছে। সাম্প্রতিক বিক্ষোভগুলো সেই ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ। সমাধান না হলে এ আন্দোলন আরও দীর্ঘায়িত ও বিস্তৃত হতে পারে।
পাকিস্তান–নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে বিক্ষোভ এখন শুধু অর্থনৈতিক দাবিতে সীমাবদ্ধ নয়, বরং রাজনৈতিক অধিকার ও আত্মনিয়ন্ত্রণের প্রশ্নও নতুন করে সামনে আসছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
সুত্রঃ আল–জাজিরা