শেষবার কি ছেলেকে দেখে যেতে পারবেন চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের মা?
দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ শ্রীচিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীর মা বর্তমানে চট্টগ্রামের মা ও শিশু হাসপাতালে অত্যন্ত সংকটাপন্ন অবস্থায় চিকিৎসাধীন। ছেলের কারাবন্দি জীবনের প্রায় দুই বছর পার…
মেলবোর্ন, ৬ অক্টোবর- উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল এবং টানা বৃষ্টির কারণে তিস্তা নদীর পানি বিপৎসীমার ওপরে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে নীলফামারী, লালমনিরহাট ও রংপুর জেলার তিস্তা তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলের বহু গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। হঠাৎ পানি বেড়ে যাওয়ায় অনেকের বাড়িঘরে পানি ঢুকে পড়েছে, ফসলের জমি ও রাস্তাঘাট ডুবে গেছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রশাসন মাইকিং করে নদী তীরবর্তী মানুষদের নিরাপদ স্থানে যেতে আহ্বান জানিয়েছে।
রোববার (৫ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৬টার দিকে তিস্তা ব্যারেজের ডালিয়া পয়েন্টে পানির উচ্চতা রেকর্ড করা হয় ৫২ দশমিক ২৫ মিটার, যা বিপৎসীমার ১০ সেন্টিমিটার ওপরে। পানি বৃদ্ধির কারণে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) ব্যারেজের সব ৪৪টি জলকপাট খুলে দিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভারতের দার্জিলিং ও কালিম্পং এলাকায় ভারী বৃষ্টির ফলে পাহাড়ি ঢল নেমে আসছে, যার প্রভাবে দ্রুত বাড়ছে তিস্তার পানি। নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার পূর্ব ছাতনাই, খগাখড়িবাড়ী, টেপাখড়িবাড়ী, খালিসা চাপানী, ঝুনাগাছ চাপানী ও গয়াবাড়ী ইউনিয়নের বহু গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এসব এলাকায় প্রায় পাঁচ হাজার মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা মনোয়ার হোসেন বলেন, “বৃষ্টি আর নদীর ঢলে ঘরে পানি ঢুকে গেছে। এখন রান্না-বান্না বন্ধ, খাবার ও পশুখাদ্যের সংকট দেখা দিয়েছে। পানি আরও বাড়লে আমরা আশ্রয়কেন্দ্রে চলে যাব।”
পূর্ব ছাতনাই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ খান জানান, উজানের ঢল ও ভারী বৃষ্টিতে নদীর পানি বেড়ে কয়েকটি গ্রাম ডুবে গেছে। প্রায় পাঁচ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।
ডিমলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইমরানুজ্জামান বলেন, “তিস্তার পানি বৃদ্ধিতে একটি বাঁধে ভাঙন দেখা দিয়েছে, পানি উন্নয়ন বোর্ড সেটি মেরামতের কাজ করছে। পানিবন্দি মানুষের জন্য শুকনো খাবারের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং নিরাপদ স্থানে যেতে মাইকিং করা হচ্ছে।”
ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী বলেন, “সন্ধ্যার পর থেকে তিস্তার পানি বিপৎসীমার ওপরে প্রবাহিত হচ্ছে। রাতে পানি আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।”
পানির স্রোতে নদী তীরবর্তী চর ও নিম্নাঞ্চলের ফসলি জমি ডুবে গেছে। গবাদিপশুর খাদ্য ও আশ্রয়ের সংকট দেখা দিয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন পরিস্থিতি ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং প্রয়োজনে আশ্রয়কেন্দ্র খোলার প্রস্তুতি নিয়েছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au