গ্রিনল্যান্ডের নুক বন্দরে নোঙর করে রাখা ডেনমার্কের সামরিক জাহাজ। ছবি: রয়টার্স
মেলবোর্ন, ১২ অক্টোবর- ডেনমার্ক উত্তর আটলান্টিক ও আর্কটিক অঞ্চলে প্রতিরক্ষা জোরদারের অংশ হিসেবে নতুন যুদ্ধবিমান ও নৌজাহাজ কেনার ঘোষণা দিয়েছে। এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো গ্রিনল্যান্ড ও আশপাশের কৌশলগত এলাকাগুলোর নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী করা।
ডেনিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বরাতে জানা গেছে, সরকার প্রায় ৪.২৬ বিলিয়ন ইউরো (প্রায় ২৭ বিলিয়ন ড্যানিশ ক্রোন) বিনিয়োগ করছে একটি বৃহৎ প্রতিরক্ষা আধুনিকায়ন প্রকল্পে। এর অংশ হিসেবে ১৬টি নতুন এফ–৩৫ ফাইটার জেট কেনা হবে, যা ডেনমার্কের বিমানবাহিনীকে আরও সক্ষম করে তুলবে।
শুধু যুদ্ধবিমান নয়, ডেনমার্ক আর্কটিক অঞ্চলের জন্য নতুন সামুদ্রিক টহল জাহাজ, দীর্ঘ-পাল্লার ড্রোন, আধুনিক রাডার ব্যবস্থা এবং প্যাট্রল বিমান সংগ্রহের পরিকল্পনাও নিয়েছে। এর মাধ্যমে গ্রিনল্যান্ডের উপকূল ও উত্তর আটলান্টিক অঞ্চলে নজরদারি ও প্রতিরক্ষা কার্যক্রম আরও জোরদার হবে।
দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী ট্রলস লুন্ড পোলসেন বলেন, “আর্কটিক এখন বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূরাজনৈতিক অঞ্চলগুলোর একটি। এখানে আমাদের উপস্থিতি ও প্রস্তুতি বাড়ানো সময়ের দাবি।”
এ ছাড়া গ্রিনল্যান্ডের রাজধানী নূক–এ একটি নতুন ‘Joint Arctic Command Headquarters’ গড়ে তোলা হবে। এই সদর দপ্তর থেকে পুরো আর্কটিক অঞ্চলের সামরিক অভিযান, উদ্ধার কার্যক্রম ও গোয়েন্দা নজরদারি পরিচালিত হবে।
বিশ্লেষকেরা বলছেন, আর্কটিক অঞ্চলের বরফ গলার ফলে নতুন বাণিজ্যপথ উন্মুক্ত হচ্ছে এবং প্রাকৃতিক সম্পদের প্রতি বড় দেশগুলোর আগ্রহ বেড়েছে। ফলে গ্রিনল্যান্ডের কৌশলগত গুরুত্ব দিন দিন বাড়ছে। এ অবস্থায় ডেনমার্কের এই পদক্ষেপ শুধু গ্রিনল্যান্ড নয়, পুরো ন্যাটো জোটের উত্তরাঞ্চলীয় নিরাপত্তাকেও শক্তিশালী করবে।
সূত্র: বিবিসি